ঈদের স্মৃতি এবং প্রবাসীর ঈদ ভাবনা
সফি দেলোয়ার কাজল   
রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১২

একঃ ঈদের স্মৃতি- এলো খুশির ঈদ

দিগন্ত জুড়ে এক ফালি সরু চাঁদের অপেক্ষায় দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদের আনন্দ-বারতা। রমজানের একটি মাসের সিয়াম সাধনায় পরে এলো খুশির ঈদ। বাধ ভাঙা আনন্দ উৎসবে মেতে উঠবে বিশ্বের মুসলমান সম্প্রদায়। আর আবেগ প্রবন বাংগালী মুসলমানের ঈদ মানে এক মহা উৎসব।

চাঁদ রাত থেকেই শুরু হয়ে যাবে এই বর্নিল আয়োজনের। টিভির পর্দায়  উঠবে ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশীর ঈদ/আপনারে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানি তাগিদ’...।
ঘুমকাতুরে চোখ  উৎসবের আমেজে প্রতিক্ষার প্রহর গুনবে ঈদের সোনালী সকালের। গৃহিনীরা সদা ব্যস্ত থাকবে  সুস্বাদু  সেমাই, ফিরনি, পায়েস, পোলাও, কোরমা সহ মুখরোচক খাবারের আয়োজনে। বাড়ীর তরুনীরা ঘরটাকে সাজিয়ে নিবে নিপুন কারুকাজে। সময় করে মেহেদিতে হাত রাঙাবে তরুনী, কিশোরী এমনি কি প্রান পুরুষের দল। ঈদের সকালে গোসল করে নতুন কাপড় পড়ে পৌছে যাবে ঈদগাহে। নামাজের পরে  ঈদ মোবারক আর কোলাকুলির সৌহার্দ্যে, সম্প্রিতি আর ভালোবাসার এক বন্ধনে নতুন করে আবদ্ধ হবে সবাই। এরপর গভীর রাত অবধি উৎসবের জোয়ারে ভেসে যাবে সব। আজ কোন দুঃখ নেই। ছোট বড়,  ধনী গরীব যার যার পরিসরে সবাই ঈদের আনন্দে রংগীন হবে। দল বেঁধে বেধে তরুণ-তরুণীরা দুলবে উৎসবের দোলায়। এর-ওর বাসায় দাওয়াত খাওয়া, চুটিয়ে আড্ডা দেওয়া, উচ্চ ভলিউমে গানের আবাহনে হারিয়ে যাবে মন।  শিশুরা হৈ-হুল্লোড় করবে। নতুন পোশাকে আনন্দের আবীর মেখে মুরব্বিদের সালাম করে গুনবে সেলামীর টাকা। এ যেন এক মহা আনন্দ। দিনভর অতিথি আপ্যায়নে ব্যাস্ত থাকবে আমাদের বধু মাতা কন্যারা। ঈদের দিনে ঢাকা শহরকে মুড়িয়ে দেওয়া হবে মনোরম সাজে। সুউচ্চ ভবনগুলি নয়নাভিরাম আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয়ে ঈদের আনন্দকে করে তুলবে আরো মোহনীয়। রাতে টিভির সামনে বসে পড়বে অনেকেই। প্রিয়জনের সান্নিধ্যে টিভি পর্দার ঈদ আনন্দকে  উপভোগ করবে নতুন মাত্রায়।

 প্রবাসীর ঈদ ভাবনা 

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, বাংলাদেশের এই ঈদের আমেজ অনেকটাই অনুপস্থিত আমাদের প্রবাসী জীবনে। তাই তো ঈদের দিনে নষ্টালজীতে পেয়ে বসতে পারে অনেকের মাঝে। ফেলা আসা হারানো দিনের ঈদের আনন্দ এখন কেবলই স্মৃতি।
এবার আমাদের এখানে ঈদ হচ্ছে  সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। অফিস বন্ধ, বাচ্চাদের স্কুল, কলেজে  চলছে সামার ভেকেশন। তাই এবার  ঈদের সকালে  কাজের তাড়া নেই। সকালে স্বপরিবারে অনেকেই গাড়ী নিয়ে বেড়িয়ে পড়বে ঈদের জামাতের উদ্দেশ্যে।
 তবে রাস্তায় বেরুলে তো আর ঈদের আমেজ চোখে পড়বে না। এখানে  সবাই ব্যস্ত যার যার মত। প্রবাসে আমরা সংখ্যালঘু , তাই ঈদের আনন্দ অনুভুতিগুলি  মনের গহীনেই আটকে থাকে ।
এর বাহ্যিক আবরণটা খোলসা হয় না কখনও । এবার ঈদ হচ্ছে ছূটির দিনে। তা না হলে  ঈদের এই দিনে অনেকেই ছুটি নেয়,  ছেলে মেয়েরাও কিছুটা ক্ষতির ঝুকি নিয়েও স্কুলে যায় না।
আবার অনেকেই যথারীতি অফিস স্কুল কলেজ কিছুই বাদ দেন না। এখানে এটাই বাস্তবতা।

 এত যান্ত্রিকতার মাঝেও ঈদ প্রবাসীদের জীবনে আনন্দের বার্তা নিয়েই আসে। তবে এই আনন্দও  মাঝে মধ্যে বিভক্ত হয়। বিগত বছরগুলিতে প্রবাসে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর মুসলমানরা সাধারণত দুইদিনে ঈদ করেছে। ।
 তবে অনেক চেষ্টা করে গত দুই বছর একই দিনে ঈদ হচ্ছে। এখানকার মসজিদ গুলি মধ্যপ্রাচ্য ধারা এবং পাকিস্থানী ধারায় বিভক্ত। আর ঈদের নামাজের আয়োজন চলে এই মসজিদ গুলিকে কেন্দ্র করেই।  ফলে এখানে আমাদের ব্যক্তিগত ইচ্ছার সুযোগ কম। তবে আশার কথা অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া দুই ধারাই বর্তমানে চাঁদ দেখার গতানুগতিক পশ্চাৎপদ ধারা থেকে বেড়িয়ে এসে বিজ্ঞান সম্মত গানিতিক নিয়মে নতুন চাদের সন্ধান করে
 ঈদের দিন ধার্য  করছে। প্রবাসে ঈদের আমেজ খুজে পাওয়া যায় এই ঈদের নামাজের আসরে গিয়ে। তবে ইদানিং ঈদের চাঁদ রাতেও প্রবাসীদের মন ভরে উঠে ঈদের অনুভুতিতে। এখানে আয়োজন করা হয় চাঁদ রাতের ঈদ বাজার। বেচা কেনা, গান আর হাতে মেহেদী অংকনে মেতে উঠে অনেকেই।
 সকালে ঈদের নামাজ, তারপর নতুন বাহারী পোষাক আর রকমারী সুস্বাদু খাবারের ডালি সাজিয়েই সাধারনত ঈদ উৎসবে মেতে থাকে প্রবাসী বাংগালী কমিউনিটি। এরপর প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে কাটিয়ে দেবে ব্যস্ত জীবনের কিছুটা সময়। তবে ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও এ বাড়ী ও বাড়ী গিয়ে ঈদের একটি আনন্দ ক্ষন পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়াস  থাকে অনেকের মধ্যেই ।
 শিশু-কিশোরদের মধ্যে "ইদি" দেওয়ার প্রয়াসও দেখা যায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে। এর পরেও প্রবাসে বেড়ে উঠা শিশু-কিশোরদের মধ্য ঈদের আনন্দের আবেগের প্রকাশটা তেমন ভাবে দেখা যায় না, যেমনি আমাদের ছোট বেলায় দেশের মাটিতে দেখা যেত।

 প্রবাসের ভিন্ন পরিবেশে তাই ঈদের বাহ্যিক আবরণটি ঘরের বাহিরে তেমন ভাবে দেখা যায় না। তরুণ তরুনীরা মলে বা শপিং সেন্টারে দল বেধে ঘুরে বেড়ালেও এর কোন প্রভাব পড়ে না প্রবাসের মুলধারার জীবন দর্পনে। তবুও বাংগালী মুসলমানদের অন্তরে  ঈদ লালিত হয় আবেগ অনুভূতি আর ভালবাসার অফুরন্ত উচ্ছাস নিয়ে।  ঈদের দিনের পাশাপাশি ঈদের সামাজিক পর্বটি অনুষ্ঠিত হয় উইকেন্ডে।
জমজমাট সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান আর প্রীতিময় সামাজিকতার আঙ্গিকে ভরে উঠে প্রবাসীর মন।
 
 
 

সর্বশেষ আপডেট ( সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১২ )