| এরশাদের হাইপ্রোফাইল ভারত সফর নিয়ে নানা কৌতূহল |
| নিউজ-বাংলা ডেস্ক | |
| বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১২ | |
| বাংলাদেশের রাজনীতিতে আনপ্রেডিক্টেবল প্লেয়ার এইচএম এরশাদের হাইপ্রোফাইল ভারত সফর নিয়ে বিষয়টি আবারও আদিল্লি ভিজিট নিয়েই এই আলোচনা। কি এমন ঘটনা ঘটলো যে এরশাদকে মনমোহন সরকার ডেকে পাঠালেন দিল্লিতে। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও জিজ্ঞাসা। হাজারো কাজের ভিড়ে সাউথ ব্লক কেন হঠাৎ এরশাদকেই প্রয়োজনীয় মনে করলো। বলা হচ্ছে, আগামী বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তখন ঢাকায় নতুন একটি জোট ক্ষমতায় আসতে পারে। আর আগের নির্বাচনগুলোর মতোই ওই সময়ে আওয়ামী লীগের বর্তমান শরিক দল জাতীয় পার্টির এরশাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এ বিষয়ে দিল্লিতে সচেতনতা বাড়ছে। টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত নিউজ ইয়াহু’র ‘দিল্লি রিচেস আউট টু ঢাকা পার্টিস’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছেÑ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একেবারে অনুগত নয়- বাংলাদেশের এমন প্রায় সকল অতিথিই ভারতকে সতর্ক করেছে। বলেছে, সব সমর্থন এক পক্ষকে দেবেন না। এই বার্তা দৃশ্যত কাজে এসেছে। তাই দিল্লি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এইচ. এম এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। ৩৫ মিনিটের এই বৈঠকে বাংলাদেশের সবশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি আলোচনায় এসেছে। বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টন ইস্যু, স্থল সীমান্ত চুক্তি নিয়েও কথা হয়েছে দু’-নেতার মধ্যে। ৬ দিনের দিল্লি সফরে এরশাদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন ছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে। ইতিমধ্যেই তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন, বিদেশ সচিব রঞ্জন মাথাই ও রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস উইং (র)-এর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ভারতের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখোপাধ্যায় ও জোটনেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে হাসিনার দূত হিসেবে এরশাদের এই দিল্লি সফর- এমন কথা বলা হলেও জাতীয় পার্টির সূত্রগুলো বলছে ভিন্ন কথা। গত চার বছরে মহাজোট সরকার এরশাদকে দেয়া কোন প্রতিশ্রুতিই রাখেনি। শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে তাকে প্রেসিডেন্ট বানানোর কথা পর্যন্ত বলা হলেও সে ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বলা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ দূত করা হবে, তা-ও করা হয়নি। জাতীয় পার্টির একাধিক নেতা টেলিফোনে বলেছেন, মনমোহন সরকারের অনুরোধে একসময় জাতীয় পার্টি মহাজোট সরকারকে সমর্থন জানিয়েছিল। আগামী নির্বাচনে পার্টি কি ভূমিকা পালন করবে এবং মহাজোট সরকার প্রতিশ্রুতি পালন না করায় মনমোহন সরকারকে নালিশ জানাবেন। তবে নানা সূত্র বলছে, দিল্লি আর যা-ই হোক বাংলাদেশে কোন জঙ্গিবাদের সূচনা হোক তা দেখতে চায় না। আর এ নিয়েই নতুন কোন কৌশল এরশাদকে বাতলাতে পারে সাউথ ব্লক। | |
| সর্বশেষ আপডেট ( শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১২ ) |