| হুমায়ুন আহমেদের মৃত্যু নিয়ে কিছু তথ্য |
| নিউজ ওয়ার্ল্ড, নিউইয়র্ক থেকে | |
| মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১২ | |
|
হারিয়ে যাওয়া নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের মুত্যু নিয়ে লুকোচুরির আরো অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। হুমায়ুন আহমেদের পড়ে যাওয়া নিয়ে ঘনিষ্টজনদের বক্তব্যের অসঙ্গতি পুরো বিষয়টিকে বিভ্রান্তিকর করে তুলছে। হুমায়ুন আহমেদের পড়ে যাওয়ার বিষয়টি বেমালুম উপেক্ষা করেছেন, তার সাথে ঘনিষ্ঠজনেরা। বক্তব্য বিবৃতিতে তারা বলেছেন, তিনি পড়ে যাননি। চেয়ার হেলে গিয়েছিল ইত্যাদি। কিন্তু হাসপাতালের দেয়া রেকর্ডে এখন বেরিয়ে এসেছে আসল তথ্য। যেখানে তারা নিজেরাই পড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকাতে অবস্থিত কুইন্স হাসপাতালের দেয়া রেকর্ডে এমন তথ্যই বেরিয়ে এসেছে। সেখানে হুমায়ুন আহমেদের সাথী মাজহারুল ইসলামের দেয়া তথ্যে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। জ্যামাইকা হাসাপাতালের চিকিৎসক আলফ্রেডো অং স্বাক্ষরিত রেকর্ডে বলা হয়েছে, ২১ জুন সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য আনা হয় হুমায়ুন আহমেদকে। এ সময় পরিবার থেকে জানানো হয় যে, ‘ফ্যামেলী স্টেইটস দ্যাট, প্যাসেন্ট হ্যাড এ ফল ফ্রম চেয়ার ইয়েস্টারডে’ গতকাল রোগী চেয়ার থেকে পড়ে যান। বিশ্বস্থ সূত্রের মতে, ২০ জুন বিকেল ৪টার দিকে হুমায়ন আহমেদ চেয়ার থেকে পড়ে যান। এ সময় পড়ে যাওয়ার ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠেন তিনি। এরপর থেকে অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এদিন বিকেল ৪টার দিকে মেহের আফরোজ মুক্তধারার প্রধান বিশ্বজিৎ সাহার কাছে ফোন করে হুমায়ুন আহমেদের চিকিৎসকের ফোন নাম্বার জানতে চান। অর্থাৎ তার কাছে চিকিৎসকের জরুরী নাম্বারটিও ছিল না। শাওন বিশ্বজিতের কাছে নাম্বার চাইলেও পড়ে যাওয়ার ঘঠনা চেপে যান। পরদিন পৌনে ১১টার দিকে অবস্থা বেগতিক দেখে একটি প্রাইভেট কারে করে হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে হাসপাতালে রওয়ানা দেন মাজহারুল ইসলাম ও ফনসু মন্ডল। পথিমধ্যে প্রচন্ড বমি এবং অবস্থার আরো অবনতি হলে ডাকা হয় এম্বুলেন্স। জ্যামাইকা হাসপাতালের রেকর্ড অনুয়ায়ী ২১ জুন পৌনে এগারোটার দিকে জ্যামাইকা হাসপাতালের ইমাজেন্সীতে নিয়ে যাওয়া হয় অসুস্থ্য হুমায়ুন আহমেদকে। এ সময় সেখানে মাজহারুল ইসলাম ও ফাংশু মন্ডল ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। বিকেল ৪টার দিকে শাওন হাসপাতালে যান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে বেলভ্যু হাসপাতালে নিতে মুক্তধারার বিশ্বজিৎ সাহা ৭০০ ডলারে একটি প্রাইভেট এম্বুলেন্স ভাড়া করেন। বেলভ’্য হাসপাতালের রিপোর্ট অনুযায়ী রাত ৯/২৮ মিনিটে ডঃ হুমায়ুন আহমেদের চিকিৎসা শুরু হয়। বেলভ্যু হাসপাতালে নেয়ার পথে এম্বুলেন্সে হুমায়ুন আহমেদের সাথে মাজহারুল ইসলাম ও শাওন ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না। কারণ এম্বুলেন্সে ২ জনের বেশী নেয়া যায় না। বেলভ্যূ হাসপাতালের রিপোর্টে দেখা যায় সেখানে রোগীর অবস্থা বর্ণনা করেছেন শাওন নিজে। যেখানে তিনি বলেছেন, প্রচন্ড পেট ব্যথার কারণে রোগীকে জ্যাম্ইাকা হাসাপতালে নেয়া হয়। এছাড়াও রোগীর দাহ্য বন্ধ, সারারাত ঘুমাতে না পারা এবং ১০০ ডিগ্রী জ্বরের কারনও তিনি সেখানে উল্লেখ করেছেন। আশ্চর্যজন্ক হলেও সত্য যে, মেহের আফরোজ শাওন সেখানে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি চেপে যান। অথচ জ্যামাইকা হাসপাতালে প্রথম নিয়ে যাওয়ার পর চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি অবহিত করেন মাজহারুল ইসলাম। বাংলাদেশেও তারা এবিষয়টি খোলাসা করে বলেননি কাউকে। হুমায়ুন আহমেদের পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি এ পর্যন্ত মেহের আফরোজ শাওনের শুভাকাংখীদের লেখাতেও গোপন করার বিষয়টি দৃশ্যমান। অতি সম্প্রতি একজন লেখিকা তার লেখাতে সব কিছু বিস্তারিত উল্লেখ করলেও সুচতুরভাবে হুমায়ুন আহমেদের পড়ে যাওয়ার বিষয়টি অজ্ঞাত রেখেছেন। জনপ্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদের মুত্যু নিয়ে যখন দেশে বিদেশে হাজারো কৌতুহল তখন ঘনিষ্টজনদের অসঙ্গত বক্তব্য বিবৃতি দিনে দিনে সন্দেহ সংশয়ের ডালাপালাকে আরো বিস্তৃত করছে। |
|
| সর্বশেষ আপডেট ( শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১২ ) |