দুই মাথার মানুষ
নিউজ-বাংলা ডেস্ক   
মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১২



জোছনা রাত। ধবধবে আলোয় আপনার সামনে উদয় হল দু’মাথাবিশিষ্ট একটি মানুষ। ভয়ে শিরদাঁড়া বেয়ে একটা কাঁপুনি নেমে গেল-ভৌতিক গল্পে হয়তো এমন কাহিনী থাকতে পারে!

তবে আমরা মুখোমুখি বাস্তবের এমন মানুষের। এক দেহ, দুই মাথা। শিশুকাল ও কৈশোর পেরিয়ে তারা এখন পরিপূর্ণ তরুণী। বয়স ২২। তবে তারা ভয়ঙ্কর নয়, একেবারেই স্বাভাবিক। সম্প্রতি তারা একসঙ্গে বেথেল ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক শেষ করেছে। চাকরি খোঁজার পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে ইউরোপ সফরের প্রস্তুতি চলছে। এই যমজ প্রথম জনসমক্ষে আসে ১৯৯৬ সালে, অপরাহ উইনফ্রের একটা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। ১৬ বছর বয়সে টিএলসি (TLC) চ্যানেলে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রচার হলে বেশ সাড়া পড়ে। সেই তথ্যচিত্রের প্রযোজক তাদের বর্তমান জীবন নিয়ে ‘অ্যাব্বি অ্যান্ড ব্রিটানি’ নামের আরেকটি তথ্যচিত্র বানিয়েছেন। আগামী ২৮ আগস্ট এটির প্রিমিয়ার শো হবে। তাদের দুই বোনের নাম অ্যাব্বি ও ব্রিটানি। ১৯৯০ সালের ৭ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় তাদের জন্ম। তাদের মা প্যাটি পেশায় একজন নিবন্ধিত নার্স। বাবা মাইক পেশায় চিত্রশিল্পী। কাঠ খোদাই করে চিত্র আঁকেন তিনি।  এক দেহ মনে হলেও ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রায় আলাদা। তাদের আছে আলাদা স্নায়ুতন্ত্র, হূিপণ্ড ও পাকস্থলী। তবে যকৃত্, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্র ও জননাঙ্গ আছে একটি করে। আর কিডনি আছে তিনটি। হাত-পা দুটি। অবশ্য জন্মের সময় অন্য একটি অপরিপক্ব হাত থাকলেও ১২ বছর বয়সে তা অস্ত্রোপচার করে অপসারণ করা হয়েছে।
ছোটবেলায় আর দশটা শিশুর মতোই তাদের নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ ছিল। তবে মানিয়ে চলছে এখনও। একজন হয়তো জুস খেতে পছন্দ করে তো আরেকজন দুধ! চলাফেরাসহ খেলাধুলা, পড়াশোনা ও বিনোদনের যে কোনো কাজে সমঝোতা থাকে অনেক ভালো। সাজগোজ থেকে শুরু করে সব কাজেই একে অপরকে সহযোগিতা করে। পিয়ানো বাজানো ভালোবাসে দু’জনই। সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, ভলিবল কিংবা রাগবি খেলা সবই করে সাধারণ মানুষের মতো! কিন্তু তাদের মা-বাবার চিন্তা একটাই, মেয়ে দুটো বড় হয়েছে। তাদের বাবার আশা একদিন হয়তো দু’জন সমঝোতার ভিত্তিতে একটি ছেলেকেই বিয়ে করবে। যেভাবে তারা একে অপরকে এ পর্যন্ত সহযোগিতা করে আসছে। ডেইলি মেইল।