শক্তিশালী হচ্ছে টাকা
নিউজ-বাংলা ডেস্ক   
শুক্রবার, ০৩ আগস্ট ২০১২

 জ্বালানি তেল ছাড়া অন্য সব পণ্য আমদানি কমতে থাকায় আমদানি ব্যয়ের নিম্নমুখী ধারায় শুরু হয়েছে নতুন অর্থবছর। পাশাপাশি প্রবাসী আয় বাড়তে থাকায় গত ৬ মাসে ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ। ২০১২-১৩ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারে।

 এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি ব্যয় মেটানোর কারণে মাস খানেক আগে রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছিলো। রেমিটেন্সের ওপর ভর করে ডলারের প্রবাহ ‘সন্তোষজনক’ অবস্থায় থাকায় ডলারের বিপরীতে ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে দেশী মুদ্রা টাকা। গত বুধবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের বিনিময়ে পাওয়া গেছে ৮১ টাকা ৭০ পয়সা। গতকাল বৃহস্পতিবার তা কমে হয়েছে ৮১ টাকা ৬০ পয়সা। গত জানুয়ারি মাসে দেশে ডলারের বিনিময় হার প্রায় ৮৫ টাকায় উঠেছিলো। রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্সের ওপর এর প্রভাব এড়াতে গত জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলার কিনলেও টাকার বিপরীতে ডলারের দরপতন ঠেকানো যায়নি। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠানো কমিয়ে দেবেনÑ এমন আশঙ্কা থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছে বলে কর্মকর্তারা জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, গত কয়েক মৌসুম বাম্পার ফলনের কারণে চাল আমদানি করতে হচ্ছে না। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসবহুল পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এ কারণেই আমদানি ব্যয় কমছে। তবে কড়াকড়ির কারণে শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি যাতে না কমে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ জায়েদ বখত। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম দুই সপ্তাহের (১৪ জুলাই পর্যন্ত) আমদানি সংক্রান্ত যে তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায় ওই সময় পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানির জন্য ১১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। এই পরিমাণ গত বছরের একই সময়ে চেয়ে ৫৮ শতাংশ কম।  জুলাইয়ের প্রথম ১৪ দিনে আমদানির পরিমাণ কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ।

সর্বশেষ আপডেট ( শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১২ )