| চলে গেল |
| মোস্তফা তানিম, ভার্জিনিয়া থেকে | |
| মঙ্গলবার, ২৪ জুলাই ২০১২ | |
|
অনেক স্মৃতি যখন কারো সাথে যুক্ত থাকে, সে চলে গেলে মন বিষন্ন হয়. বিষয়টি নিকটজনদের ক্ষেত্রে ঘটে. আর ঘটে বিশিষ্ট মানুষদের বেলায়, যাদের কাজ আমাদের জীবনে কম বেশি যুক্ত হয়ে পড়ে. হুমায়ুন আহমেদের ক্ষেত্রে শুধু তার কাজ নয় তার ব্যাক্তিগত জীবনের সাথে যেন বেশীর ভাগ মানুষ পরিচিত. একজন লেখকের ব্যাক্তি স্বত্বার সাথে মানুষের এতটা যোগাযোগ থাকে না. ক'জন কবি সাহিত্যিকের সন্তানদের খবর আমরা জানি? অথবা জনক-জননীর? হুমায়ুন আহমেদ রাখ ঢাক করেননি. সবই লিখেছেন, মেয়েদের কথা, ছেলেদের কথা, হয়ত ভ্রমন কাহিনীর মধ্যে, অথবা প্রথম উত্সর্গ পৃষ্ঠায়. অল্প কথায় মানুষটিকে অনেকটাই তুলে ধরলেন. এতটা সময় হুমায়ুন আহমেদের আলোচনায়ে কেটেছে, এত নাটক দেখা হয়েছে, এত উপন্যাস পড়া হয়েছে যে তাকে নিকট জন বলেই সবাই ধরে নিয়েছেন. আতেলেকচুয়ালদের সাথে তাল মিলিয়ে সমালোচনাও কম হয় নি- লেখায় গভীরতা নেই, শেষটা ভালো হয় না, আরো কত কি. অথচ একটা মিসির আলী বা হিমুর বই পেলে কে না এক নি:শ্বাসে পড়ে ফেলে. লাইনে লাইনে আকর্ষণ. কোথাও শিথীল হয় না, কোথাও মনে হয় না থাক আর পড়ব না. বর্ণনা খুবই সামান্য, কিন্তু তাতেই ঘটনাটি অতি পরিষ্কার, মানুষ গুলি যেন চোখের সামনেই. সম্মোহনী শক্তি তার লেখায়. মনে আছে, কোথাও কেউ নেই নাটকটি যে রাতে টিভিতে দেখানো হতো, সে রাতে নিউ মার্কেট আগেভাগেই জনশূন্য হয়ে পড়ত. তারপর বাকের ভাইকে বাঁচানোর দাবীতে মিছিল- পাঠকের মন কেড়ে নেয়ার তার নজির বিহীন ক্ষমতা. নাটকে, চলচ্চিত্রে তিনি বিপ্লব এনেছেন. হুমায়ুন আহমেদের নাটক মানেই দেখতে হবে. গুনের সাথে এতো জনপ্রিয়তার সমন্বয় সচরাচর ঘটে না. সেবার দেশে গিয়ে সেন্ট মার্টিন গেলাম. সমুদ্রের তীরে হাটছি, একদল ছেলে-মেয়ে এসেছে কোনো কলেজ থেকে. একজন আরকেজনকে বলছে, হুমায়ুন আহমেদ তার বইতে যা বর্ণনা দিয়েছেন, সেন্ট মার্টিন সত্যি তেমন সুন্দর. তার কথা বিভিন্ন ভাবে এসে পড়ত, এখানে-সেখানে, আড্ডায়. সেদিন নিউয়র্কএ এক বন্ধুর বাসায়, বার্থ ডে পার্টি চলছে, তার মাঝে হুমায়ুন আহমেদের কথা চলে এলো. তিনি নাকি এখন যে বই লিখছেন, তার নাম “শেষ উপন্যাস” . ভিত্তিহীন কথা, কিন্তু তা নিয়েই জল্পনা কল্পনা, জোর আলোচনা. তিনি সবার কাছের মানুষ ছিলেন. সচরাচর মানুষ যত বড় মাপের, তত বেশী দূরত্ব বোধ হয়. হুমায়ুন আহমেদ এর ব্যাতিক্রম. কোথায় একটা অকপট সরলতা তাকে মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে. তাই একজন অসম্ভব প্রতিভাবান, নিকট জনকে হারানোর বেদনায় নিউয়র্ক থেকে নেত্রকোনা সর্বত্র বাঙ্গালীরা আজ গভীর শোকাহত. |