| শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত |
| নিউজ-বাংলা ডেস্ক | |
| সোমবার, ০২ জুলাই ২০১২ | |
|
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশি অধ্যুষ্যিত লীন শহরে এবং ইতালীর পিয়াছা ভিত্তোরিয়াতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ১৮তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হয়েছে। লীনে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত বাংলা প্রেস, নিউইংল্যান্ড থেকে: যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশি অধ্যুষ্যিত লীন শহরে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূলের পথপ্রদর্শক শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। গত শুক্রবার বোস্টনের একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এ সভার আয়োজন করে। গত ২৯শে জুন শুক্রবার লীনের ৪১১ এসেক্স স্ট্রীটের কম্যুনিটি রুমে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আহমেদ হাসান। সাধারন সম্পাদক শহীদ সন্তান উজ্জল বড়ুয়া সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন কমিটির উপদেষ্টা বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ সৈয়দ আবু হাসনাত, কম্যুনিটি এক্টিভিষ্ট শহীদ সন্তান নাহিদ সিতারা, আবুল মনসুর, নিউ ইংল্যান্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ চৌধুরী, সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা রাতুল বড়ুয়া, মোঃ মিয়াজী, ইকবাল ইউসুফ, মিন্টো কামরুজ্জামান, আতিক হাসান প্রমুখ। সভায় শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নানা কর্মময় জীবন নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয় এবং ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ প্রতিষ্ঠায় জাহানারা ইমামের স্বপ্নকে স্মরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, জাহানারা ইমাম স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন। ১৯৯২ সালে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করে এবং লাখ লাখ লোকের উপস্থিতিতে একাত্তরের ঘাতক গোলাম আযমের প্রতীকী বিচারের আয়োজন করে তিনি প্রমান করেছিলেন বাংলার জনগণ একাত্তরের ঘাতকদের বিচারের দাবীতে ঐক্যবদ্ধ। আলোচনা সভা থেকে যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচার এবং জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবী করা হয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাঁধাদানের সকল চক্রান্ত নস্যাতে প্রবাস থেকে সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষনাও দেওয়া হয়। ইটালীর পিয়াছা ভিত্তোরিয়ায়
হাফিজুর রহমান মিতু , ইটালী থেকে গত ২৮ জুন ইটালীর পিয়াছা ভিত্তোরিয়ায় অবস্হিত লিটল ইন্ডিয়া রেস্ট্রুরেন্টে ৭১এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ইতালী, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ১৮তম মৃত্যু বার্ষিকি উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে । সাধারন সম্পাদক রাজু আহমেদের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্হিত ছিলেন রোমের বাংলা পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা ও স্হায়ী বাঙ্গালী কমিনিটির নেতা জনাব মুকুল খান । বিশেষ আতিথি হিসেবে ছিলেন কমিনিটি নেতা ও ট্রাভেলস ব্যবসায়ী জনাব রাজ বাবলা । আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান মিতু । প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন ম্যাক্সিম গোর্কির মা উপন্যাসের সেই মাকে হার মানানো বাংলাদেশের শহীদ জননী জাহানারা ইমাম বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে আজ বিশ্ব জননীতে পরিনত হয়েছেন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অসামান্য অংশগ্রহন ও আত্নত্যাগ বিস্ময়কর। আমি আশাবাদী মানুষ। সম্পূর্ন নতুন প্রজন্মের যুবকদের দ্বারা গঠিত ইতালি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি বাঙ্গালী জাতির আশা আকাঙ্ক্ষা পূরনে অর্থাৎ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীকে আরও জোরদার করতে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে। আমার আত্মার সাথে সম্পর্কিত যে কাজ গুলো হয়, জননী জাহানারা ইমামের ১৮ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে আয়োজিত আজকের এই আলোচনা সভা তার অন্যতম। আমার মত সামান্য মানুষকে প্রধান অতিথি করায় আমি গর্ববোধ করছি, এর চেয়ে অনেক বড় কিছুতেই আমি এত কৃতজ্ঞ হতাম না। আমি বাজী ধরে বলতে পারি, যে দেশের নতুন প্রজন্ম এতো বেশী সচেতন আর অদম্য সে দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে কেউ বাধা হয়ে দাড়াতে পারবে না এবং সেই দেশের উন্নতি কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে না। ধন্যবাদ সুযোগ্য সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান মিতু ও সাধারন সম্পাদক রাজু আহমেদ সহ উপস্হিত সবাইকে । আজকের এই দিনে আমি যুদ্ধাপরাধীদের ফাসির দাবী জানাচ্ছি। সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের জন্ম না হলে যেমন আমরা বাংলাদেশ পেতাম না । ঠিক তেমনি ভাবে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জন্ম না হলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত বিশেষ ট্রাবুনাল হতো না । বিশিষ্ট যুদ্ধাপরাধী আবুল কালাম আযাদ গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকার পরও পালিয়ে যাওয়াকে সরকারের ব্যর্থতা বলে সরকারের সমালোচনা করেন । তিনি বর্তমান সরকারকে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য ইউনেসকোকে ২৫শে মার্চ আর্ন্তজাতিক গনহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষনা করার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন । আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, প্রচার সম্পাদক মির্জা বাবু, দপ্তর সম্পাদক ইকবাল আহমেদ, মোঃ জসিম, শাহিন, সোহেল প্রমুখ । |
|
| সর্বশেষ আপডেট ( শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১২ ) |