|

চলতি পথে বিশেষ কোনো মানুষের সঙ্গে হঠাৎ দেখা হয়ে যেতেই পারে। অনেক আবেগ ও অনুরাগ জমা থাকতে পারে মনের গহিনে, সেই মানুষটিকে ঘিরে। কিন্তু এই দেখা হয়ে যাওয়ার বেলায় মনের সব কথা কি প্রকাশ করা সম্ভব? কেমন এক শিহরণ কি তোমাকে আমাকে আচ্ছন্ন করে না এসব মুহূর্তে? এই হঠাৎ দেখার আবেগ নিয়েই রচিত এই প্রচ্ছদ।
জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পার_ তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার! 'কুড়ি বছর পর', জীবনানন্দ দাশ কত দিন দেখা হয় না। বসন্ত গিয়েছে চলে কোকিলের স্বর শুনে। গ্রীষ্মও যাচ্ছে চলে কালবৈশাখীর ঝড়ে। আসছে বর্ষায় যদি হয় দেখা, মনের গভীরে চাপা দিয়ে রাখা কথামালা, যা শুধু তোমার জন্যই জমিয়ে রেখেছি ঋতুর পর ঋতু। সব কথা বলে দেব, সাক্ষী থাকবে সন্ধ্যার মেঘমালা আর শীতলক্ষ্যার কোল ঘেঁষে উড়ে আসা ঝড়ো বাতাস। জনারণ্যের বাইরে কোনো এক নিভৃত স্থানে; যেখানে থাকবে না শহরের ব্যস্ত কোলাহল। শুধুই আমরা দুজন। মুখোমুখি বসে, বলব_ সর্বনাশের কিছুই নেই আর বাকি। তুমি হয়তো থাকবে চুপ করে। আঙুলের দিকে চোখ রেখে চেহারায় ফুটিয়ে তুলবে অতীতের দুর্বোধ্য সেই সব লিপি। প্রাচীন গুহাচিত্রের মতো আজও যা আবিষ্কৃত হয়নি। তোমার অবোধ্য লিপি পাঠের নেশায় আমি খুঁজতে থাকবো_ হারিয়ে যাওয়া ভাষার বর্ণমালা। খুঁজতে খুঁজতে ভুলে যাবো তোমাকে বলবো বলে_ সাজিয়ে রাখা কথামালা। অধরা থেকে যাবে তুমি, অধরা থেকে যাবে আমাদের নতুন সময়। কিংবা যদি দেখা হয় আমাদের; বলবো_ বিষণ্ন এই সব দিন আর ভালো লাগে না। ভালো লাগে না একাকী নিজের সঙ্গে আলাপন। কথা ছিল_ একই ছাতার নিচে বৃষ্টিকে আড়াল করে দিয়ে আমরা ঘুরে বেড়াবো শরীরের উষ্ণতা ভাগাভাগি করে, হাতে হাত রেখে পথের দিকে নিবদ্ধ থাকবে দৃষ্টি। মনে মনে হবে আমাদের কথা। কিছুই বলবো না মুখে। হাঁটতে হাঁটতে আমরা পেঁৗছে যাবো কল্পনার সেই রাজ্যে, যেখানে মানুষ সুখের বসতি গড়ে, যেখানে মানুষ হারায় আপন বাঁধন। অথবা বলবো_ ঋতু বদলায়, বদলে যায় প্রকৃতি। অরণ্য সবুজ হয় আবার নুয়ে পড়ে কঠিন মলিনতায়। কিন্তু আবেগ উপচানো অব্যক্ত কথামালা যা আজও হয়নি বলা, সেই সব সবুজ, চিরসবুজ হয়ে আছে তোমারই জন্য। কান পেতে রাখো শিহরিত বাতাসের গুঞ্জনে, শুনতে পাবে সেসব। বলে দিয়েছি বাতাসের কানে কানে। যদি দেখা হয় দিনের শুরুতে, সূর্য উদয়ের কালে, কোনো শীতের ভোরে। শিশিরের কণা ঘাসের ডগায় লেগে থাকবে, তার দ্যুতি বিলিয়ে তোমাকে জানাবে অভিবাদন_ 'এসো, অন্ধকার নেই এখানে নেই কোন'। তখন তোমাকে বলবো_ কিছুই আর নেই গোপন, উজ্জ্বল বর্ণমালায় যে চিঠি লিখেছি একদিন_ প্রাপকের নাম ছিল না সেখানে; সেই চিঠি মিথ্যে নয়, তার সবগুলো অক্ষর সত্যি, যেমন সত্যি তুমি আর তোমার লাজুক রক্তিম মুখ। তুমি হয়তো হাসবে। বলবে_ 'এতো সাহস কোথায় লুকিয়ে রেখেছো এতদিন?' নৈঃশব্দ্যে হারিয়ে যাওয়ার আগে, রাত যখন গাঢ় অন্ধকারে ঢেকে ফেলবে পৃথিবীর শোভা। তখন যদি দেখা হয়, বলবো_ আঁধারেরও চোখ আছে। তুমি চাঁদের আলোকে আঁধারের চোখ ভেবে ভুল করে জড়িয়ে নিতে চাইবে তার মৌন ছোঁয়া। সেখানে দেখতে পাবে_ দুটি ছায়া মিলিয়ে যাচ্ছে একটি ছায়ায় আর কতই না কাছাকাছি আছি আমরা দু'জন। ছায়ার মাঝে ছায়ার লুকোচুরিতে তোমাকে ছুঁয়ে বলবো_ এসো, আবেগের এই পথে। গোলাপে বাগান আজ হয়েছে লাল, সেই লালে তোমার শূন্যতার কবর রচে, গড়ে তুলবো_ আমাদের চির আরাধ্য স্বপ্ন উদ্যান। |