দৃস্টিপাত পালন করল "এক বিশ্ব বহু কন্ঠ" প্রিন্ট কর
নিউজ বাংলা প্রতিবেদন   
সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১০

গত ২১শে ফেব্রুয়ারী রোববার দৃস্টিপাত ডিসি ডিসি'র উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হলো ওয়াশিংটন ডিসি'র হিস্ট্রিক সিক্সথ ও আই স্ট্রীট সিনাগগে। সন্ধ্যা ৬টায় "এক বিশ্ব বহু কন্ঠ" শীর্ষক অনুষ্ঠান শুরু হয় মানবাধিকার সনদের প্রথম অনুচ্ছেদ বিভিন্ন ভাষায় উচ্চারণের মাধ্যমে।

বিশ্বের ছয় হাজার ভাষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও মমত্ববোধ প্রকাশের মাধ্যমে টেরাহ জ্যাকসন ও সাবাহ মীর্জার উপস্থাপনায় এই মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠান শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে ভাষাবিদ ও অন্যতম সংগঠক রাশাদ উল্লাহ পৃথিবীর বিপন্ন ভাষাগুলোর ইতিবৃত্ত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠান উদ্বোধন হয় ডিসি মেট্রোর বাংলাদেশী সাংস্কৃতিক সংগঠন ধ্রুপদের শিল্পীদের রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে "জয় বাংলা, বাংলার জয়" গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে আনিকা ও অদিতি। দলীয়ভাবে গান পরিবেশন করেন হীরন চৌধুরী, কামাল মোস্তফা, মেরিনা রহমান, নাসরিন মাহমুদ, ডরোথী বোস ও সামিরা আশরাফী। অনুষ্ঠানের শেষ গান ছিল আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী।

এরপর ভারতীয় নৃত্য নিয়ে আসে ভার্জিনিয়ার কালামানদাপাম নৃত্য ও সঙ্গীত স্কুল। তাদের পরিবেশিত "বন্দেমাতরম" গানের সাথে দলীয় নৃত্য দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখে।

দ্য কামস ত্রিপলেটস-এর পরিবেশিত ইজিপশিয়ান বেলী ড্যান্স পরিবেশন করেন তিন আমেরিকান বোন। মিশরীয় গান "হাজার ফাজার"-এর সুরমুর্চ্ছনায় মেলিসা, লোরা ও বেথ কামস পরিবেশন করেন জনপ্রিয় মিশরীয় ব্যালী ড্যান্স।

অনুষ্ঠানের অন্যতম মনোমুগ্ধ পরিবেশনা ছিল ন্যাটিভ আমেরিকান বংশোদ্ভুত রন ওয়ারেনের বাঁশীর মোহনীয় সুর লহরী।

আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের চেরোকী বংশোদ্ভুতরা ঐতিহ্যবাহী অপূর্ব সুরের লহরীতে তাদের পূর্বপুরুষদের আত্মাকে ডাকে তা "সং ক্যাচার" বলেই খ্যাত। বাঁশী ও বাফেলো ড্রামের সাথে কন্ঠে সুর লহরী তুলেছিলেন জেনিস টরেস।

এর পর ড্যানিয়েল ফিনিক্স ও আইজ্যাক ওবোক্যা আর্জেনটাইন যুগল নৃত্য পরিবেশন করেন ফ্রেসডো ও ডোন্যাটোর মিউজিকের ছন্দে।

অনুষ্ঠানের এই পর্যায়ে দৃস্টিপাতের অনুষ্ঠান সহযোগী গোষ্ঠীগুলোকে দর্শকদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন অন্যতম সংগঠক নাদিয়া আফরিন। সহযোগী গোস্ঠীগুলোর মধ্যে ছিল ধ্রুপদ, দাক্ষিণা, মিডল ইস্ট ও সাউথ এশিয়া ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট, নেটস্যাপ ডিসি, সাল্ট, সাপান, ইউএনএ-এনসিএ ও ইয়াং বেঙ্গলী এসোসিয়েশন। 

অনুষ্ঠানের শেষ পরিবেশনা ছিল আন্দিজ পর্বতের অধিবাসীদের দলীয় নৃত্য। প্যান পাইপস আর ড্রাম দিয়ে চক্রাকার নৃত্য সবাইকে মুগ্ধ করে রাখে।

বিশ্বের হাজারও ভাষার মধ্যে রাস্ট্র ভাষা বাংলার জন্য বায়ান্নোর আন্দোলন পথিকৃৎ হয়ে থাকবে তা আবারও প্রমাণিত হলো। পৃথিবীর ভাষাগুলোর অপূর্ব বৈচিত্র সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ও অমর একুশের পটভূমিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পালনের এই মহতী ও বিরল উদ্যোগের আয়োজন করে দৃস্টিপাত ডিসি আমেরিকার মূল ধারায় বাংলাদেশকে সগর্বে আবারও তুলে ধরল।

মূল হলের বাইরে আয়োজকদের উদ্যোগে কমিউনিটি এক্টিভিজম নিয়ে তথ্যবহুল ফ্লায়ার ও লিফলেট যথেস্ট দৃস্টি আকর্ষণীয় ছিল। প্রায় দেড় ঘন্টার এই মনোমুগ্ধকর আন্তর্জাতিক আয়োজন সকল দর্শকদের প্রশংসা কেড়েছে।

 
< পূর্বে   পরে >
[ পিছনে ]