৭১ নিয়ে ব্যস্ত এই প্রজন্মের আরিফুর রহমান প্রিন্ট কর
নিউজ বাংলা প্রতিবেদন   
বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০০৮

দু'বছর আগে নিউজার্সীর কীন বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল স্টোরীর উপর একটি সেমিনার হচ্ছিল। সেমিনারে অংশগ্রহণকারী আরিফুর রহমান বাংলাদেশে ৭১'এর গণহত্যার উপর তথ্যসম্বলিত সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা দিয়ে উপস্থিত আমেরিকান ফ্যাকাল্টী ও দর্শক শ্রোতাদেরকে ভীষণভাবে নাড়া দেন। সেখান থেকে শুরু হয় ৭১ নিয়ে এ প্রজন্মের আরিফুর রহমানের পথচলা। ২০০৭ সালে কীন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের গণহত্যা শীর্ষক বিশাল সেমিনার আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থায়ীভাবে স্নাতকোত্তর কোর্স ওয়ার্কের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমানে কীন বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত আরিফুর রহমান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা গর্ববোধ করি এই প্রজন্মের আরিফুর রহমানের জন্য। নিউজ বাংলার সাথে একান্ত সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করা হয় মার্চের ২৫ তারিখে।

নিউজ বাংলা: খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছে ৭১ কেন? ডিজিটাল স্টোরীর জন্য অনেক গল্পই তো ছিল।
আরিফ: ধন্যবাদ। ৭১'এ আমরা সবাই আমাদের কাছের মানুষদের হারিয়েছি। আমাদের পরিবারও তার ব্যতিক্রম ছিল না। আমার এক নানা পাক বাহিনীর কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে অসহনীয় দৈহিক নির্যাতন থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। তাদের সবার কস্ট আর হারানোর কথা ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি। আনন্দ আর শোক-দুটোই গভীরভাবে আমাকে নাড়া দিতে থাকে। এক ধরণের পারিবারিক অহংকারবোধ কাজ করে। যাদের আত্মত্যাগ আমদেরকে স্বাধীন হতে সাহায্য করেছে। সেখান থেকেই এই ৭১ নিয়ে আমার ডিজিটাল স্টোরীর প্রেরণা পাই।

নিউজ বাংলা: স্বাধীনতা যুদ্ধ কি দেখেছেন?
আরিফ: না, আমার জন্ম হয় দেশ স্বাধীন হওয়ার আরও পাঁচ বছর পর। আমি  মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দেখেছি আর জেনেছি আমার আপনজনদের কাছ থেকে। আমার নানা হানাদার বাহিনীর কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে তার উপর নির্যাতন নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক বই লিখেছেন। এসবই আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। যেমন জর্জ হ্যারিসন এখানে কনসার্ট করেছিলেন ১৯৭১ সালে। মানুষের দু:খ দুর্ভোগ আর কস্ট নিয়ে আমাদের সবার মানবিক প্রতিক্রিয়া অভিন্ন।

নিউজ বাংলা: কীন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের জেনোসাইড নিয়ে কোর্সওয়ার্কের চলমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কোন পর্যায়ে আপনারা আছেন?
আরিফ:  কোর্স ওয়ার্ক শুরু হওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু এর জন্য লজিস্টিক জোগাড় করতে সময় লাগবে। প্রয়োজনীয় বই, তথ্য, উপাত্ত, গবেষক, কোর্স আউটলাইন- এসব তৈরী করা একটি সময়সাপেক্ষ দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। কিন্তু আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

নিউজ বাংলা: এ ব্যাপারে বাংলাদেশ থেকে কি কোন সাহায্য পেয়েছেন?
আরিফ: আমরা ঢাকার লিবারেশন মিউজিয়াম  থেকে যথেস্ট সাড়া পেয়েছি। তারা যথেস্ট উৎসাহ দেখিয়েছেন। জাফর ইকবাল স্যার আমাদের উদ্যোগ নিয়ে পত্রিকায় কলাম লিখেছেন। আরও অনেকে উৎসাহ দিয়েছেন এবং দিয়ে যাচ্ছেন।

নিউজ বাংলা:  কীন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগের সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করি। এ ব্যাপারে আপনাদের প্রত্যাশা কি?
আরিফ: আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে সবার সাহায্য সহযোগিতা। ৭১ নিয়ে আমাদের সবাইকে অবশ্যই ব্যক্তিগত স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। কোন ব্যক্তিগত খ্যাতির জন্য নয়, বরং কজের জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।


আমেরিকার একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের গণহত্যার উপর কোর্সওয়ার্ক ও গবেষণার উদ্যোগ সফল হোক এই কামনা আমাদের সবার। আমরা কীন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ জেনোসাইড স্টাডী ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের অগ্রগতি অনুসরণ করতে ও উৎসাহ জোগাতে নিউজ বাংলার পাঠকবৃন্দকে আবেদন জানাব। একজন আরিফুর রহমানের ৭১ নিয়ে ডিজিটাল স্টোরী আলোড়িত করেছে মানবিক উপলদ্ধিকে। নতুন প্রজন্ম আরিফের পথ ধরে ৭১'এর চেতনার এক একটি করে মশাল জালাতে থাকলে অবশ্যই আলোড়িত হবে বিশ্বমনন। গণহত্যা, নির্যাতন আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্বমননকে জাগাতে তাই আজ খুব প্রয়োজন ইতিহাস সচেতন মানুষের পূনর্জাগরণ।
সর্বশেষ আপডেট ( শুক্রবার, ১৫ আগস্ট ২০০৮ )
 
< পূর্বে   পরে >
[ পিছনে ]