শুভ ইংরেজি নববর্ষ -২০১৮
নিউজ-বাংলা ডট কম   
শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭

শুভ  ইংরেজি নববর্ষ। ২০১৭ সালের শেষ সুর্যের রক্তিম আভা মিলিয়ে গেলে শীতের ঘন কুয়াশা ভেদ করে পূব আকাশে উদিত ভোরের সূর্য আলো ছড়াবে দিগন্ত জুড়ে। নতুন বছরের অপার সম্ভাবনা নিয়ে উদীত এ সূর্যের আলোতে আলোকিত হবে একটি নতুন দিন, একটি নতুন বছর। পুরোনো জরা-গ্লানি-হতাশাকে পেছনে ফেলে আবারও নতুন সম্ভাবনা আর স্বপ্নের প্রতীক্ষায় প্রস্তত বিশ্ববাসী,  স্বাগতম ইংরেজি নববর্ষ ২০১৮, শুভ হউক তোমার আগমন। দূর অতীতে গ্রীসের মানুষ অস্তপ্রায় লাল সূর্যকে জীর্ণ জীবনের প্রতীক হিসেবে বিদায় জানাত। সমুদ্র মায়ের কোলে বিলোপ হওয়া ক্লান্ত সূর্যের আবার পুনর্জন্ম পরদিন ভোরে সেই সমুদ্র গর্ভ থেকেই। এভাবেই বারবার বেজেছে ধ্বংস আর হারিয়ে যাওয়ার মধ্যে নতুন জীবনের সুর। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ২০১৭  সালের শেষ পাতাটি 'কালের যাত্রা'য় হারিয়ে যাবে ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টার ঘর ছোঁওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। স্বাগত ২০১৮। শুভ নববর্ষ। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের উৎস হলো আদি রোমান ক্যালেন্ডার। আদি রোমান ক্যালেন্ডার চালু হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে। তখন ক্যালেন্ডারে ছিল মাত্র দশ মাস জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি ছিল অনুপস্থিত। খিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীরই শেষদিকে এসে রোমান ক্যালেন্ডারে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি যুক্ত হয়। তবে প্রথমদিকে জানুয়ারি ছিল এগারোতম মাস। খিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে জানুয়ারিকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। এখানে আরো উল্লেখ করা যেতে পারে, খিস্টপূর্ব ৪৫ সালে গ্রিক জ্যোতির্বিদ সোসিজেনাসের পরামর্শে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার রোমান ক্যালেন্ডারে কিছু পরিবর্তন এনে ‘জুলিয়ান ক্যালেন্ডার’ প্রবর্তন করেন। বর্তমানে আমরা যে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার করি, সেই ক্যালেন্ডারের মাসগুলোর বিন্যাস ও সপ্তাহের দিনগুলোর বিন্যাস এসেছে ওই জুলিয়ান ক্যালেন্ডার থেকেই। ১৫৮২ সালে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে সামান্য পরিবর্তন এনে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তন করেন।
 
ইংরেজী নব বর্ষ আমাদের কাছে নব বর্ষ নয়। ১লা বৈশাখকে কেন্দ্র করেই আমাদের নব বর্ষের সকল উৎসব। তবে শহর সাংষ্কৃতিতে বিশেষ করে  তরুন সমাজে এর কাছে এক এর আবেদন অনেক। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতই রাত বারটা এক মিনিটে তারুন্যের আবেক আর উচ্ছাস নিয়ে বর্ষ বরন এখন আমাদের শহুরে সাংষ্কৃতির বাহন হয়ে উঠেছে। আমাদের গ্রামীন আর্থ সামাজিক সাংস্কৃতিক পরিসরে  গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের গুরুত্ব কম। তবে আমাদের জাতীয় জীবনে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের প্রভাব ব্যাপক। জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হয় এ ক্যালেন্ডারের দিনক্ষণ মাথায় রেখে। আমরা আমাদের প্রায় সব কাজ-কর্মের হিসাব রাখি গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করেই।
সর্বশেষ আপডেট ( শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ )