২৫শে ডিসেম্বর
শুভজিৎ বসাক, কলকাতা   
শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭
অমর্ত্যবাবু চমকে উঠলেন তাঁর নাতি গোগোল যখন "দাদু" বলে তাঁর ঘাড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল পিছন থেকে।এরপরে তাকে কাছে টেনে নিয়ে "এমন করে পিছন থেকে আচমকা ডাকতে নেই" বলতে যাবেন এমন সময়ে গোগোল বলে উঠল, "দাদু কেমন লাগছে আমাকে?" গোগোল সান্তাক্লজের একটা ড্রেস,টুপি পড়ে সান্তাক্লজ সেজে তাঁক দেখাতে এসেছে।খুশীতে সামান্য আসা রাগটা ভুলে নাতির হাত ধরে বললেন, "বাহ্,বেশ লাগছো তো দাদু! কে কিনে দিল এসব?" গোগোল: (খুশীতে) মা এনে দিল দাদু।রেজাল্ট বেরিয়েছিল না কাল,পাশ করেছি তাতে তাই মা কিনে দিল।

দাদু: বেশ বেশ।তোমাকে পুরো সান্তাবুড়োর মত দেখতে লাগছে।

গোগোল: তাই? দাঁড়াও শোভন,আকাশ,সুমনদেরও দেখিয়ে আনি ড্রেসটা।ওরা এতক্ষণে খেলার মাঠে এসে গেছে।

এই বলে সে ছুটে গেল মাঠে।এরপরেই পিউয়ের (গোগোলের মা) অমর্ত্যবাবুর ঘরে প্রবেশ হল।

পিউ: বাবা আসতে পারি?

অমর্ত্য: হ্যাঁ,বৌমা এসো এসো।

পিউ: দেখলেন বাবা গোগোলের জামাটা?

অমর্ত্য: (তাকে বসতে বলে) হুম দেখলাম।দেখে আমার এবং বীতানের (অমর্ত্যের একমাত্র ছেলে) কথা মনে পড়ে গেল বৌমা।

পিউ: (বসে) কেন বাবা?

অমর্ত্য: ছোটবেলায় আমি আমার বাবার থেকে বড়দিনের আগে এসব জামা,ট্রি,কতকিছু বায়না করতাম।বাবা দিতেন না কিনে।মন খারাপ হত।পরে বীতান চাইলে তাকেও দিইনি।সেই না পাওয়ার আনন্দগুলো এখন গোগোলের মধ্যে দিয়ে পেয়ে যাই তুমি ওর সাধ পূরণ করলে।হাসি মনে মনে।অথচ জানো তো বৌমা এই না পাওয়াগুলোই দূরের জিনিসের প্রতি টানগুলো বেশ বাড়িয়ে দিয়েছিল।আর মিটছে গোগোলের মাধ্যমে।

পিউ: (হেসে) জানেনই তো কি বদমাইশ হয়েছে গোগোল।মাসের শেষে খরচটা করিয়েই ছাড়ল।

অমর্ত্য: (হেসে) কত টাকা বলো? এই খুশীর জন্য তোমার প্রাপ্যও অবশ্যই কিছু আছে।

পিউ: না বাবা।আপনার খুশীটাই পরিবারের মূল চাবিকাঠি।টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায় ভালবাসা বা সম্পর্ক নয়।

হাসল দুজনে খোলা মনে এরপরে।পরেরদিন ঘুম থেকে উঠে অমর্ত্যবাবু অবাক হয়ে গেলেন।তার বালিশের পাশে লাল দুটো সান্তাক্লজের ড্রেস পড়ে আছে! আর সাথে ছোট একটা চিরকূট আছে সেটা খুলে দেখল তাতে লেখা আছে, "বাবা,আপনার ছোটবেলা কেন অন্যের মধ্যে খুঁজবেন? বয়স বাড়ে কিন্তু ইচ্ছার কি বয়স থাকে? আমাকে মেয়ের মত ভালবাসেন তাই বাবার ছোটবেলাও ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলাম মাত্র।পড়বেন পোশাকটি।ইতি, পিউ"। ভীষণ তৃপ্তি অনুভব করলেন তিনি।জামাটায় মুখ গুঁজে কেঁদে আপাতত তুলে রাখলেন আলমারীতে কোনও একসময়ে বড়বেলাতেও ছোট থাকার সুখ ফিরে পেয়েছিলেন এই স্মৃতিটুকু মনে নিয়ে।ক্যালেন্ডারে দেখলেন আজই তো 25শে ডিসেম্বর।পিউ বেশে সান্তাবুড়োর ছোটবেলার উপহার ফিরিয়ে দেওয়া সত্যিই স্মরণীয় হয়ে রইল তাঁর কাছে।সত্যিই তিনি ভুল করেছিলেন গতকাল টাকার প্রসঙ্গ তুলে আর তা যদি দিয়েও দিতেন এই আন্তরিকতাটা তিনি নিঃসন্দেহে পেতেন না পিউয়ের থেকে সেটা মনে মনে বুঝতে পারলেন তিনি।শৈশব ফিরে পাওয়ার খুশী সত্যিই অন্য এক শৈশবের জন্ম দিল অমর্ত্যবাবুর মন জুড়ে।
সর্বশেষ আপডেট ( শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ )