"বাই" এর মর্যাদাপূর্ণ বিজয় দিবস উদযাপন
নিউজ-বাংলা ডট কম   
শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৭

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ৪৬তম বিজয় দিবসকে  সামনে রেখে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইঙ্ক (BAAI) গত ১৭ই ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডস্থ কোমফোর্ট ইন হোটেলের বল রুমে  উদযাপন করলো প্রানবন্ত বিজয় দিবস।

শিশু শিল্পী লাবিবা খন্দকার পরিবেশিত জাতীয় সংগীত পরিবেশনার সাথে শত কন্ঠের মিলিত স্বরে অনুষথানের শুভ সূচনা ঘটে।

 

এরপর  তরুণ তারুন্যের ফারাহ চৌধুরীর উপস্থাপনায় বিজয় দিবসের সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানটি নাটিকা, আলেখ্য, নাচ, গান এবং আবৃত্তি দিয়ে সাজানো হয়। "BAAI" সভাপতি সফি দেলোয়ার কাজলের শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর ফারাহ চৌধুরী পাঠ করেন বিজয়ের স্মারক পত্র। এরপর এক মিনিট   নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে স্বাধীণতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

বিজয় দিবসের এই অনুষ্ঠানে একক বক্তা ছিলেন ভয়েস অব আমেরিকার বিশিষ্ট সাংবাদিক জনাব আনিস আহমেদ। তিনি তার বক্তব্যে একদিকে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট এবং অন্যদিকে আমাদের অর্জন এবং প্রাপ্তি নিয়ে বিশ্লেষনধর্মী প্রতিবেদন কথা তুলে ধরেন।
 

এরপর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে আলেখ্য। আতিয়া মাহজাবীন নীতুর  ধারাবর্ননায় এবং সাথে আদিল আহমেদের  গানের মধ্য  দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে তুলে ধরার প্রয়াস পান। তাদের এই  পরিবেশনায়  উপস্থিত সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের রক্ত ঝরা দিনগুলির সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। নীতু মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে  মায়ের কাছে লেখা এক  মুক্তিযোদ্ধারর চিঠি  এবং পরে বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আব্দুর রউফের রনাংগণের বীরত্ব গাঁথা তুলে ধরে এক আবেগময় পরিবেশের অবতারনা করেন। সাথে আদিল আহমেদের গাওয়া "মাগো ভাবনা কেন" এবং "এক খানা জানালা খুলে দাও না " গান দুটি শ্রোতাদের মনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।  

দিলশাদ চৌধুরী ছুটির আবৃত্তি এই মাত্রাকে আরো রাংগিয়ে দেয়।

(নাটিকাটির ভিডিও দেখতে ছবিটিতে ক্লিক করুন)

অনুষ্ঠানের আবেগময়ী আকর্ষণ ছিল নাটিকা- " বীরংগনার গল্প কথা"। রংপুরের এক বিরংগনা ফিরোজার চরিত্রে হৃদয় মর্মাপর্শী অভিনয় করেন  কুলসুম রহমান এবং সাংবাদিক চরিত্রে প্রানবন্ত অভিনয় করেন মিজানুর রহমানঙ্খান। সাথে ধারাবনর্নায় নাটিকার আবেদনটি ফুটিয়ে তোলেন দিলশাদ চৌধুরী ছুটি। পিন পতনের নিরবতায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এই মানবতা বিরোধী এই অধ্যায়টি অনুষ্ঠানে আগত হল ভর্তি দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয়কে রক্তাক্ত করে। অনেকেই এই সময় নিরবে অশ্রুপাত করে। নাটিকাটি গ্রন্থনা এবং পরিচালনা করেন সফি দেলোয়ার কাজল। আবাহ সংগীত গ্রন্থনা এবং পরিচালনায় বাই পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সফিকুল ইসলাম।
এই পর্যায়ে বাংলার মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্বরচিত আবৃত্তি করেন আহসান কবীর।

(রিমির গান শুনতে ছবিটিতে ক্লিক করুন,)

অনুষ্ঠানের শেষ আকর্ষন ছিল দেশের গান । "বাই" এর পরিচালক আনন্দ খানের পরিচালনায় এই পর্বের গানে অংশ গ্রহন করে প্রবাসের গুণী শিল্পী ডরথী বোস রিমি এবং দিনার মনি, সাথে  আনন্দ খান। তারা সমবেত এবং একক গান পরিবেশনা সকলকে মুগ্ধ করে। গীটারে ছিলেন আনন্দ খান এবং ডেভিড রানা। শব্দ নিয়ন্ত্রনে ছিল আদিল আহমেদ। মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় কামরুল খান লিঙ্কন, রেজিষ্ট্রেশন আফসান খান, ফুড সাবিহা চৌধুরী এবং মিজানুর ভুইয়া, সার্বিক সহযোগিতায় রেহানা কুদ্দুস শিখা, বিপ্লব দত্ত, নুরাইন জামিল চমন, নাসিমা মাহমুদ ঝর্ণা। 

 

ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং নৈশ ভোজে আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের মাপ্তি ঘটে।

সর্বশেষ আপডেট ( শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭ )