অদিতির গানে অনুরাগ, আচরণে বিরাগ
নিউজ-বাংলা ডট কম   
বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭

হেমন্তের পড়ন্ত বেলায়  যুক্তরাষ্ট্রের  রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির পাদদেশে সেদিন ছিল  সুরের মুগ্ধতা।  গত ১৯শে নভেম্বর রবিবার গ্রেটার ওয়াশিংটনের সৃজনশীল সাংষ্কৃতিক গোষ্ঠী "ধ্রুপদ" এর আয়োজনে  গান শোনালেন রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী অদিতি মহসিন। তার সুরেলা কণ্ঠের যাদুতে মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ছিল,  ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডস্থ হলিডে ইন হোটেল অডিটোরিয়ামে।  অদিতি মহসিনের গানের আসরে রবীন্দ্র ভক্তদের জন্য সন্ধ্যাটি ছিল মনোরম। মিলনায়তন জুড়ে বিরাজ করছিল রাবিন্দ্রিক আবহ। অদিতি মহসিন প্রথমেই গেয়ে শোনান প্রার্থনা পর্বের গান 'বরিষে '। একটু থেমে শ্রোতাদের সঙ্গে আলাপন সেরে আবারও সুরের ভেলায় ভাসিয়ে নিয়ে যান অদিতি। শিল্পী অদিতি মহসিন নিজের পছন্দের পাশাপাশি শ্রোতাদের অনুরোধও উপেক্ষা করেননি। শ্রোতারা তন্ময় হয়ে শুনছিলেন তার পরিবেশিত একের পর এক রবীন্দ্র সঙ্গীত।  দেশাত্মবোধক থেকে শুরু করে, প্রেম, পূজা, প্রকৃতি সবই ছিল তাতে। রবীন্দ্র সংগীতের পাশাপাশি শাহ আব্দুল করিমের  গান,দ্বিজেন্দ্র লাল, অতুল প্রসাদ ও রজনীকান্তের গান  শুনিয়েও জয় করে নিলেন শ্রোতাদের মন।  

ধ্রুপদের আয়োজনে বোদ্ধা ও সুস্থ রসবোধসম্পন্ন সংস্কৃতিমনা শ্রোতাদের উপস্থিতি  উল্লেখযোগ্য । টিকেটের  উচ্চ মূল্য সত্ত্বেয় এবারের  এই আয়োজনে  শ্রোতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কেননা রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইবেন অদিতি মহসিন। যার গলা যেন তৈরি হয়েছে রবীন্দ্রনাথের গানের জন্য।  তিনি যে শুধু রবীন্দ্রনাথের গানই করেন তা নয়, তার কণ্ঠে দ্বিজেন্দ্রলাল, অতুল প্রসাদ, রজনীকান্ত প্রমুখের গানও ধ্বনিত হলো সাবলিল।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পী অদিতি মহসিনের শিল্পী জীবন তুলে ধরেন ভয়েস অব আমেরিকার তাহিরা কিবরিয়া।  তবলা সঙ্ঘতে পল ফেবিয়ান গোমেজ, বাঁশি আব্দুল মজিদ, কি বোর্ডে হিরণ চৌধুরী এবং মন্দিরাতে সাধক চক্রবর্তী। শব্দ নিয়ন্ত্রনে শান্তুনু বড়ুয়া।

‘বরিষ ধরা-মাঝে শান্তির বারি" - গান দিয়েই শুরু হয় পরিবেশনা। মুহূর্তের মধ্যে ভিন্ন এক পরিবেশের সৃষ্টি হয় পুজা পর্বের  এ গানটি পরিবেশনে। শিল্পী গেয়ে উঠলেন  ‘আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ সুরের বাঁধনে’। প্রেম পর্যায়ের এ গানটিতে যেমন ছিল সুর তেমনি ছিল গায়কী। অদিতি প্রতিটি গান পরিবেশনের আগে গানটি সম্পর্কে কিছু তথ্য উপস্থাপন করেন।
গ্রাম ছাড়া
 
তিনি পরপর পরিবেশন করেন "ভালো বাসি ভালো বাসি" "গ্রামছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ", ‘দিবস রজনী আমি যেন কার আশায় আশায় থাকি’। শেষ করেন দেশের গান ""সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে"।  নিঃশব্দে, নিভৃতে সবাই যেন গানেই মগ্ন হয়ে পড়েন।  দেড় একঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে শিল্পী অদিতি একের পর এক গানে মুগ্ধ করলেন সবাইকে।

কিছু কথাঃ
অদিতি মহসিনের গান নিয়ে কোন কথা নেই। বাংলাদেশের অসাধারন একজন রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী অদিতি মহসিন, যার গান  সব সময় সরাসরি প্রবেশ করে স্রোতাদের হ্রদয়ের গভীরে। কিন্তু অনুষ্ঠান জূড়ে তার কিছু বক্তব্য বিতর্ক তুলে শ্রোতা মহলে। এটা সত্য একজন পেশাদার শিল্পী হিসাবে তার যে গানের অনূসংগী দরকার অনেক সময়েই প্রবাসে সেটা দেওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রেই কিছুটা কম্প্রোমাইজ করতে হয়। গান পরিবেশনার সময় প্রবাসের যন্ত্রীদের ব্যপারে তিনি  বেশ উষ্মা প্রকাশ করেছেন। যা ছিল দৃষ্টকটু, নিন্দনীয়। তবলা বাদক ডঃ পল ফেবিয়ানের সাথে তিনি রিহার্সেল করেছেন, এরপর অনুষ্ঠানের মঞ্চে। পেশায় কলেজ শিক্ষক পল বাংলাদেশের অনেক নামী দামী শিল্পীদের সাথে বাজিয়েছেন। হয়তো এমনি পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনও হয়নি। তেমনি শব্দ  নিয়ন্ত্রনে শান্তুনুর বিষয়ে মন্তব্যও শ্রোতামন্ডলীর অনেকের কাছে গ্রহন যোগ্য হয়নি। উল্লেখ্য যে গ্রেটার ওয়াশিংটনের অন্যতম সেরা তবলা বাদক দেবু নায়েক অদিতি মহসিনের এই ধরনের আচরনের করেন তার সাথে তবলা সঙ্ঘত করেন না। অনুষথান শেষে অনেকেই ছিল সমালোচনা মুখর। স্বল্প কয়েকজন ছাড়া অনুষ্রহান শেষে কেহই শিল্পীর সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় কিংবা ফটো সেশনে অংশ নেয়নি।  একজন ভাল গায়কের কাছে আরো বিনয় প্রত্যাশা করা যেতেই পারে।
সর্বশেষ আপডেট ( বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭ )