হারান্ডন বেঙ্গলসকে হারিয়ে ভার্জিনি
নিউজ-বাংলা ডেস্ক   
বৃহস্পতিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৭

 

বৈরী আবহাওয়া থাকা সত্ত্বেও প্রচুর দর্শকের উপস্থিতে শেষ হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ এর পঞ্চম আসর টেকট্রেন্ড বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ ২০১৭। ফাইনালে অংশ নেয় এবারের লীগের সবচেয়ে স্পিরিটেড টিম হারান্ডন বেঙ্গলস বনাম সব চেয়ে অভিজ্ঞ দল ভার্জিনিয়া টাইগার্স। ভার্জিনিয়া টাইগার্স হারান্ডন বেঙ্গলসকে ৫২ রানে হারিয়ে তৃতীয় বারের মত শিরোপা ঘরে তুলে নেয়।


চ্যাম্পিয়ন; ভার্জিনিয়া টাইগার্স

রাবার আপঃ হারান্ডন বেঙ্গলস
ফাইনালে ভার্জিনিয়া টাইগার্স এর হয়ে টেক্সাস থেকে আসেন অল রাউন্ডার আলী সামাদ , নিউ ইয়র্ক থেকে অভিজ্ঞ উইকেট কিপার দিহান , মিশিগান থেকে জুবেল, জ্যাক , সাকি ও মুফাস্সার আলী। আর সাথে ছিলেন নিউ জার্সি থেকে আগত জাতীয় দলের সাবেক তারকা বোলার তাপস বৈশ্য। বিদেশী কোটায় ছিলেন ওয়াশিংটন ক্রিকেট লীগের তারকা খেলোয়াড় বিলাল জাভেদ। ওপর দিকে হারান্ডন বেঙ্গলস ছিল লোকাল খেলোয়াড় নিয়ে সংঘটিত একটি দল, সাথে দুই বিদেশী খেলোয়াড় সায়ীদ ও নাভিদ নূরী। আর ফাইনাল খেলা পরিচালনা করার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ কর্তিপক্ষ নিয়ে আসে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বিশ্বকাপ পরিচালনাকারী আম্পায়ার স্টিভ বাকনর কে। তার সাথে ছিলেন আলী বক্স নামের আরেক গায়ানার আম্পায়ার। খেলা শেষে তিনি তার বক্তব্যে ওয়াশিংটনে এই লীগ আয়োজন করার জন্য এবং তাকে আম্পায়ার হিসাবে নিয়ে আসার জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।


খেলার শুরুতে সংগীত পরিবেশন করেন গ্রেটার ওয়াশিংটনের জনপ্রিয় শিল্পী পুলি বালা কর্মকার।
বৃষ্টির কারণে টস ৩০ মিনিট দেরিতে হয়। টসে জিতে হারান্ডন অধিনায়ক সুমন ভার্জিনিয়া টাইগার্সকে ব্যাটিং এর আমন্ত্রণ জানান। খেলার প্রথম ওভারেই অভিজ্ঞ দিহান রানের খাতা না খুলেই রান আউট হয়ে যান। কিন্তু দুই লোকাল অভিজ্ঞ খেলোয়াড় জুলিয়াস ও রসি ঠান্ডা মাথায় খেলে দল কে বিপর্যয়ের মুখ থেকে বাঁচান। রসি ৩৮ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলেন। অষ্টম ও নবম ওভারে এই দুই ব্যাটসম্যান আউট হয়ে গেলে জুবেল ও তাপস জুটি বাঁধেন আর সেই সাথে রানের চাকাকে উর্ধমুখী করতে থাকেন। ১৪৬ রানে জুবেল তার ব্যাক্তিগত ৪৩ রানে আউট হন। তাপস আবারো আরেকটি অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এবার তিনি করেন ৫৪ রান। ২০ ওভারে ভার্জিনিয়া টাইগার্স ১৭১ রানের বিশাল সংগ্রহ করেন। নাভিদ নূরী ভালো বল করলেও কোনো উইকেট নিতে পারেননি। তৌকির, ইফতি ও জুনায়েদ একটি করে উইকেট নেন। তবে ইফতি ও নাভিদ নূরীর দুর্দান্ত ফিল্ডিং দর্শকদের নজর কাড়ে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে হারান্ডন বেঙ্গলস উইকেট ধরে রাখতে পারলেও রানের চাকা সচল রাখতে পারেন নি। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তৌকির ও নাভিদ ১৪ ০ ২০ করলেও হারান্ডন তাদের এই দুই উইকেট হারায় ৭ ওভারের বিনিময়ে যা কিনা তাদের আস্কিং রানরেটকে অনেক বাড়িয়ে তুলে। জুনায়েদ ও আবু বকর ভালো জুটি গড়লেও আস্কিং রানরেটকে বাড়ানো ছাড়া কমাতে পারেননি। ১৩ ওভারের মধ্যে এই দুই ব্যাটসম্যান আউট হয়ে গেলে বেঙ্গলস এর হারাটা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু তখনি আসেন বেঙ্গলস এর দুই সফল তারকা নাজু ও ইফতি। নাজু ও ইফতি দুই জন্যেই যথাক্রমে ২৬ ও ১৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ইফতি’র স্ট্রোক ব্যাটিং দর্শকদের আনন্দ দেয়। দর্শকদের থেকে অনেকেই আফসোস করে বলেন কেন এই দুই জনকে আগে নামানো হলো না। ২০ ওভার শেষে হারান্ডন মাত্র ১১৯ রান তুলতে সক্ষম হয় এবং ৫২ রানের বড় পরাজয় নিয়ে মাঠ ত্যাগ করে।



ফাইনালে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ দূতাবাসের ডিফেন্স এটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল চৌধুরী , ভয়েস অফ আমেরিকার কর্ণধার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ
এর বিশেষ পৃষ্ঠপোষক ও ওয়াশিংটন এর পরিচিত মুখ জনাবা রোকেয়া হায়দার। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন লীগ কে আকর্ষণীয় করতে বিশেষ অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান বিদেশ ফাউন্ডেশন,
কুইক সেল রিয়ালটি , ইন্টারস্টেট ট্যাক্স এক্সপার্ট, হোমফার্স্ট মর্টগেজ, জী স্পোর্টস, মারিও পিজা, চকোবেরি ইভেন্টস ও কারভেল আর্লিংটন এর এর প্রতিনিধিরা।
 আরো উপস্থিত ছিলেন নিউজ-বাংলার  সম্পাদক শফি দেলোয়ার কাজল , জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার শামীম চৌধুরী, প্রিয় বাংলার প্রিয়লাল কর্মকার এবং সাথে লীগে অংশ নেয়া ১০ টি দলের খেলোয়াড় ও প্রতিনিধিবৃন্দ। হাফ টাইম এর সময় সংগীত পরিবেশন করেন পুলি বালা।

ফাইনালের পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন লীগের আরেক স্পনসর বিদেশ ফাউন্ডেশনের সিইও সোহেল আহমেদ। ভবিষ্যতে তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ এর সাথে আরো সক্রিয় ভাবে সংযুক্ত হবার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এরপর বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ এর প্রধান অতিথি ও অন্যতম পৃষ্ঠপোষক রোকেয়া হায়দার। বৃষ্টি বিঘ্নিত এই দিনে তিনি শুধু ছুটে এসেছেন বিসিএল এর টানে, বলে জানান তার বক্তব্যে। ওপর প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের ডিফেন্স এটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল চৌধুরী এই লীগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ভবিষ্যতে বিসিএল এই লীগকে আরো সাংগঠনিক দক্ষতার সাথে উচ্চ মাত্রায় নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পরিশেষে বক্তব্য রাখা অতিথিরা ও শামীম চৌধুরী পুরস্কার খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় হন অনবদ্য ব্যাটিং এর জন্য ভার্জিনিয়া টাইগার্স এর তাপস বৈশ্য। লীগের সেরা ব্যাটসম্যান এর পুরস্কারটিও তুলে নেন তাপস বৈশ্য। সেরা বোলার হন হারান্ডন বেঙ্গলস এর নাভিদ নূরী। লীগ এমভিপি হন ভার্জিনিয়া ওয়ারিয়র্স এর চৌকস ব্যাটসম্যান গোকারণ রূপনারায়ণ। সেরা উইকেট কীপার হন ব্লিজার্ডস এর রিয়াদ। সেরা ফিল্ডার হন ভার্জিনিয়া টাইগার্স এর অভিজ্ঞ খেলোয়াড় যুবি। লীগের তরুণ উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার তুলে নেন হারান্ডন বেঙ্গলস এর ইফতি। ইফতি ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং এই তিন বিভাগেই দারুন পারদর্শিতা দেখান।

সব ম্যাচ এর সেরা খেলোয়াড়দেরকে ফাইনাল শেষে পুরস্কৃত করা হয়। সেরা বোলার , সেরা ব্যাটসম্যান ও লীগ এমভিপি ট্রফির সাথে $১০০ গিফট কার্ড পান।বাকিদের $৫০ গিফট কার্ড দেয়া হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিসিএল এর কার্যকরী কমিটির সদস্য সুমন ও তাকে সাহায্য করেন আরেক কার্যকরী কমিটির সদস্য আমিন। জামাল রাজু ও মনির ৫ সদস্যের বিসিএল কার্যকরী কমিটির সদস্য হিসাবে লীগ পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। অফিসিয়াল স্কোরার হিসাবে তুহাদের ভূমিকা সকলের প্রশংসা কুড়ায়। উল্লেখ্য এইবার প্রথম বার এর মতো বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ এর খেলা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে ইউ টিউব এর মাধ্যমে। যারা খেলা দেখতে পারেননি তারা খেলা দেখতে পারবেন এই লিংকে https://www.youtube.com/watch?v=QuwxG8Xe-mE

খেলা চলাকালীন ও খেলা শেষে দর্শকদের মধ্যে লীগের স্পনসর টেকট্রেন্ড এর পক্ষ থেকে টিশার্ট ও কফি কাপ উপহার দেয়া হয়। লীগের পক্ষ থেকে উভয়দল এবং অনেক দর্শকদের কে লাঞ্চ সরবরাহ করা হয়। সকলের জন্য গরম খাবার পরিবেশনের জন্য ফুড ট্রাক মাঠে উপস্থিত ছিল। পরিশেষে এই বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও খেলা দেখতে আসার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ কর্তৃপক্ষ সকল কে ধন্যবাদ জানান।

সর্বশেষ আপডেট ( বৃহস্পতিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৭ )