গ্রেটার ওয়াশিংটনে "ডুয়াফি" ছন্দে আনন্দে নির্মল সন্ধ্যা
নিউজ-বাংলা ডট কম   
মঙ্গলবার, ০৭ নভেম্বর ২০১৭
    
গত  ৪ঠা নভেম্বর শনিবার গ্রেটার ওয়াশিংটনে বসবাসরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটদের সংগঠন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই ফোরাম ইঙ্ক -ডুয়াফির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হল বিনোদনধর্মী অনুষ্ঠান " জীবনের ছন্দে আনন্দে" । হেমন্তের  হিমেল সন্ধ্যায় মেরিল্যান্ডের  Herbert Hoover Middle School মিলনায়তনে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের
পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে  উৎসব স্থল । বাহিরে মেঘাচ্ছন্ন গুমোট আবহাওয়া।  ক্ষনে ক্ষনেই রিম ঝিম  বৃষ্টি। এমনি বাদল দিনেও  "ডুয়াফি" এই আসরে আগত সবাই   নির্মল আনন্দে মেতে ছিল সারাটা ক্ষণ। গ্রেটার ওয়াশিংটনে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের যে কোন আয়োজনেই থাকে আলাদা আমেজ । মঞ্চের অনুষ্ঠানের বাহিরেও আনন্দ-আড্ডাতে মেতে থাকে অনেকটা সময়। হৈমন্তের  মিষ্টি মিশ্রিত  সোনালী উদ্ভাসে সুসজ্জিত হলুদ,লাল,বাদামী রঙের অভিব্যক্তি নিয়ে সবাই যেন ছিল আনন্দে বিভোর। 

'ডুয়াফি' আয়োজিত এই  বিনোদন সন্ধ্যাটি সাজানো হয়েছিল তিন পর্বে।  নৃত্য-সঙ্গীত ও আবৃত্তি আর কথার মালার সাথে বিশেষ আকর্ষন ছিল  রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্প অবলম্বনে পরিবেশিত “দৃষ্টিদান”নাটকের মঞ্চায়ন।

 শতরূপা বড়ুয়া এবং তারেক মেহেদীর সঞ্চালনে শুরুতেই স্বাগত বক্ত্যব্য রাখেন ডুয়াফির প্রেসিডেন্ট, সাবরিনা রহমান শর্মী। প্রথম পর্বের পরিবেশনা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের সন্তানদের তথা আমেরিকার ভিন্ন পরিবেশে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মের পরিবেশনা। শুরুতেই নৃত্য।

গ্রেটার ওয়াশিংটনের  জনপ্রিয় নৃত্য শিল্পী মিতু গনজালভেজের কোরিওগ্রাফীতে প্রথমেই মনিপুরী নৃত্য।পরিবেশন করে - লাবিবা, জারা, আশফিহা এবং নায়সা। এরপর রবীন্দ্রসঙ্গীত “আনন্দধারা বহিছে ভুবনে” সাথে নৃত্য পরিবেশন  করে রণিতা, আরিয়ানা, অমি এবং নুহা।  নৃত্যদ্বয় উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে।   

এরপর “টুনাটুনির গল্প” নিয়ে ছোট্ট মনিদের গানের আসর জমান  আনন্দ খান। অংশগ্রহন করে  আমিসি, আরিয়ানা, ঈশান, ফাইজান, ফারহান, জেরিন, লাবিবা, লাবীবা, মাধবী, নায়সা, সারিয়া, সাফিয়া, শেরিন, জারা, আহনাফ, নিথিন, হুসেইন, রায়ান,জেসার, রণিতা, আশফিয়া, আলভীরা এবং সায়রা।  কীবোর্ডে ছিলেন আনন্দ খান, তবলায় প্যাট্রিক গোমেজ, গীটারে ডেভিড রানা,  এবং অক্টোপ্যাডে ছিলেন আরিফুর রহমান স্বপন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল  রবীন্দ্রনাথের “শেষের কবিতা”,তাপস গোমেজের পরিচালনায় সংগীতের আসর - “প্রকৃতি ও প্রেম”এবং সফিকুল ইসলামের পরিচালনায় “সারি গান”।

জনাব আনিস আহমেদ এবং শাহনাজ ফারুকের পরিবেশনায় অমিত এবং লাবন্যের প্রীত সংলাপ সাবলীন  আবৃত্তির ছন্দে সবাইকে মুগ্ধ করে।

গান আর আবৃত্তি দিয়ে সাজানো  “প্রকৃতি ও প্রেম” অনুষ্ঠাটী   নির্মল ছন্দ আর সুরের মূর্ছনায় উল্লোসিত ও মূর্ছিত হয়েছেন অনুষ্ঠানে আগত দর্শক শ্রোতাবৃন্দ। এতে অংশ গ্রহন করেন  তারা হলেনঃ সামিনা আমিন, শান্তনা গোমেজ, তাপস গোমেজ, রুমানা সুমী, ডোরা গোমেজ, সাদিয়া খান জেনী, মোজহারুল হক, আরিফা সুলতানা শম্পা, ব্রীজেট আগাথা গোমেজ,
এবং নাহিদ পারভিন। তবলায় ছিলেন পল ফেবিয়ান গোমেজ এবং আবৃত্তিতে অংশগ্রহন করেন আতিয়া মাহজাবিন নীতু এবং অদিতি সাদিয়া রহমান।

দ্বিতীয় পর্বের শেষ পরিবেশনা ছিল সারি গানের আসর।

গ্রাম বাংলার সারি গান মুলত সমবেত কর্ম সংগীত। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর এর আমলে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অবলম্বন করেই সারিগানের উৎপত্তি ও বিকাশ লাভ করেছে।
মাঝিরা সারিবদ্ধ ভাবে নৌকা বাইচের সময় আরো জীবনী শক্তি পেতে এই গান গেয়ে থাকে। ডুয়াফির মঞ্চেও যেন সেই দৃশ্যেরই অবতারনা হয়। পর্বটি পরিচালনা করেন সফিকুল ইসলাম। গানে নেতৃত্ব দেন  রাজিয়া সুলতানা তানিয়া এবং শফিকুল ইসলাম, সাথে ছিলেন  শাহরিয়ার আবছার আবির, ডেনিয়েল কুদ্দুস, খৈয়াম খান, কামরুল মজুমদার, মোঃ মকবুল আহসান টিটো,  এ্যন্ড্রু গোমেজ এবং শার্মিন চৌধুরী। গানের সাথে মাঝি মল্লার দলে ছিলে  নিথিন, হুসেইন, জুহা, লাবিবা, আমিসি, রায়ান এবং জসর। তবলায় ছিলেন প্যাট্রিক গোমেজ, অক্টোপ্যাডে আরিফুর রহমান স্বপন, গীটারে ডেভিড রানা এবং  হারমোনিয়ামে রাজিয়া সুলতানা তানিয়া।

শেষ পর্বের পরিবেশনা ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প “দৃষ্টিদান” অবলম্বনে পরিবেশিত নাটক। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেয় সফল মঞ্চায়নে এবং অভিনয় শৈলীতে নাটকটি দর্শকদের প্রশংসিত হয়েছে।

নাটকটির স্ত্রীপ্ট ও পরিচালনায় ছিলেন নুসরাত শফিক সোমা।  কুমুদিনীর চরিত্রে  অভিনয় করেছেন সঙ্গীত শিল্পী হিসাবে পরিচিত ডরোথী বোস রিমি।  কুমুদিনীর মত কোমলতা, ভক্তি ও বেদনা, বিধুরতা,  সাধনার প্রত্যয় ও প্রাণময়তা এবং অস্তিত্বের আবেদন উৎকণ্ঠিত ও উজ্জীবিত একটি চরিত্রে প্রানবন্ত অভিনয় করেছে ডরথী। কুমুদিনীর স্বামী অবিনাশ।
অবিনাশ সামাজিক চাপে দ্বিতীয় বিবাহে রাজি হলেও কুমুদিনীর প্রতি তার ভালোবাসা ফল্গু ধারার মত প্রবাহিত ছিল। দ্বিচারিতার মানসিক  চাপের  মধ্যে  অবিনাশ চরিত্রে নাজমুল হক রনি ছিলেন সাবলীন।  কুমুদিনীর  দাদার চরিত্রে তৌফিক হাসান এবং  হেমাঙ্গিনীর চরিত্রে রাহাত ই আফজা  পিসি মার চরিত্রে মেরিনা রহমান ছিলেন এক কথায় অনন্য।  এ ছাড়া  ক্ষেমির মায়ের চরিত্রে- শারমিন চৌধুরী, মাসীর চরিত্রে মিতা চক্রবর্তী, ডাক্তার- শাহেদুজ্জামান এবং আরিফুর রহমান , রামু- হোসেইন, রোগী- নিথিন, জুহু এবং রন- সবাই ভাল অভিনয় করেছে।

বিশেষ করে পিসি মার চরিত্রে মেরিনা রহমানের অভিনয় অনেক পেশাদার শিল্পীকে ছাড়িয়ে গেছে। নাটকের নেপথ্যে  অডিও-ভিডিও পরিচালনায়  শফিকুল ইসলাম, উপদেষ্টা এবং মেন্টর - অনুতোশ সাহা, ধারা বর্ননায় তৌফিক হাসান এবং সাদিয়া খান জেনী। সবশেষে উপভোগ্য একটি শেষে নৈশ ভোজে আপ্যায়ন আর ‘ডুয়াফি’পরিবারের ছবি তোলার আনন্দে আরো কিছুটা  সময় পার করে " জীবনের ছন্দে আনন্দে" এর সমাপ্তি ঘটে।
সর্বশেষ আপডেট ( মঙ্গলবার, ০৭ নভেম্বর ২০১৭ )