বন্যাদুর্গতদের সাহায্যার্থে "বাই"এর অনুদান
নিউজ-বাংলা ডেস্ক   
বৃহস্পতিবার, ০২ নভেম্বর ২০১৭

বন্যাদুর্গতদের সাহায্যার্থে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা (বাই) প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে তিন হাজার ডলার অনুদান দিয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর অপরাহ্নে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে সংগঠনের সভাপতি সফি দেলোয়ার কাজল  মাননীয় রাষ্ট্রদূত জনাব মোহম্মদ  জিয়াউদ্দিনের কাছে এই চেক হস্তান্তর করেন।   এই সময় উপস্থিত ছিলেন "বাই"এর সাধারন সম্পাদক সালেহ আহমেদ এবং পরিচালক মিজানূর রহমান ভুইয়া।

 নিরন্তর সংগ্রাম করে যাওয়া এসব বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াতে  সামাজিক দায় থেকে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা (বাই) বাই এর সদস্যদের কাছ থেকে এই তহবিল সংগ্রহ করে। বন্যা দূর্গতদের সাহায্যের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন না করা সত্ত্বেয়  স্বেচ্ছা প্রনীত হয়ে বন্যাদুর্গতদের সাহায্যার্থে   এগিয়ে আশার জন্য মান্যবর রাষ্ট্রদূত "বাই"এর কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।

এই প্রসংগে তিনি বলেন দেশের অর্থনীতি এখন অনেক শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। ফলে এই ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেয় সরকার এই ক্ষতি সামাল দিয়েছে।
এই সময় তিনি নানা প্রসংগে "বাই"এর প্রতিনিধি দলের সাথে মত বিনিময় করেন। মান্যবর রাষ্ট্র দূতের ব্যস্ততার মাঝেও প্রায় এক ঘন্টা আলোচনা করেন।

শুরুতেই তিনি সম্প্রতি ফ্লোরিডা রাজ্যের মায়ামীতে  ফোবানা সম্মেলন নিয়ে কথা বলেন। জানতে চান ফোবানা সম্মেলন কি একটাই হয়েছে এবার? । "বাই" এর সভাপতি সফি দেলোয়ার কাজল বলেন বিগত  ছয় বছর ধরে আমেরিকাতে একটি ফোবানা সম্মেলনই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ফোবানা একক ভাবে আইনী প্রক্রিয়াতে সংলিষ্ট, ফলে অন্য কেহ এই নামে সম্মেলন আয়োজন করতে পারবে না। যদিও কানাডাতে এবং এনএবিসি নামে ক্ষুদ্র পরিসরে কেহ কেহ সম্মেলন আয়োজনের চেষ্টা করছে। এই প্রসংগে তিনি বলেন এ বছর ৮২টি সংগঠন এই ফোবানা সম্মেলনে অংশ গ্রহনকরে।

ফোবানা সম্মেলন প্রসংগে রাষ্ট্রদূত মোহম্মদ জিয়াউদ্দিন বলেন সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ফোবানার কার্যক্রমে বহু মাত্রিকতা আনা প্রয়োজন। এর কার্যক্রমকে আমেরিকার মূলধারার সাথে লিষ্ট করা উচিত। এখানে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মদের ব্যাপক ভাবে অংশ গ্রহনের সুযোগ করে দেওয়া প্রয়োজন। তিনি এবারের ফোবানার "বিজনেস ফোরাম"এর প্রসংশা করেন এবং এই ধরনের আরো উদ্যোগের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন তরুন প্রজন্মকে আমেরিকার মূলধারার  রাজনীতি অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক পদে অংশগ্রহনের জন্য প্রবাসে বাংলাদেশী সংগঠনগুলিকে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন মূলধারায় ব্যাপক অংশ গ্রহনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশী সংগঠনগুলিকে  স্থানীয় প্রশাসন, রাজনীতিক, কংগ্রেস এবং সিনেটের সাথে যোগাযোগ এবং সম্পর্ক তৈরীর তাগিদ দেন।

প্রবাসে বসে শুধু মাত্র দেশীয় সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা দেশীয় দলীয় রাজনীতি করে দেশের ভাবমূর্তি এবং উন্নয়নে ভূমিকা রাখা  যাবে না।
বর্তমান রাষ্ট্রদূত সম্পর্কে  বাংলাদেশ কমিউনিটির কিছু মানুষের নেতিবাচক ধারনা রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময় বলার চেষ্টা করেন বর্তমান রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশী কমিউনিটিকে এড়িয়ে চলেন। এখানকার প্রবাসী বাংলাদেশীদের নুষ্ঠানে আসেন না------ইত্যাদি। কিন্তু "বাই"এর প্রতিনিধি দলের সাথে আলাপ কালে এমনটি মনে হয়নি। তিনি বরং প্রবাসী বাংলাদেশী   সংগঠনগুলিকে তাদের কার্যক্রমকে আরো বহুমাত্রিক অংগিকে দেখতে আগ্রহী। বং এই ব্যাপারে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। এই প্রসংগে তিনি বলেন প্রবাসী বাংলাদেশী সংগঠনগুলির কার্যক্রম মূলত সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান নির্ভর। আমি অনেক সময়ই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের এই নিমন্ত্রনে যেতে পারিনা। পনারা সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন আর আমি সেখানে যেয়ে বসে থাকবো। এতে আদৌ আপনাদের তেমন কোনো লাভ হচ্ছেনা । দেশেরও নয়। বরং আপনারা স্থানীয় সিনেটর, ডেলিগেটে কংগ্রেসম্যান অথবা উচ্চপদস্ত ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে অনুষ্ঠান করুন। কিভাবে এই দেশের ব্যবসা, বানিজ্য কিংবা রাজনীতিতে একটা অবস্থান তৈরী করা যায়, সেই বিষয়ে কাজ করুন। এই ধরনের নুষ্ঠানে আমাকে অমন্ত্রন জানালে আমিও আপনাদের পক্ষ হয়ে কথা বলতে পারি। এতেই বরং আপনাদের এবং দেশের মংগল হবে।

রাষ্ট্রদূত মোহম্মদ জিয়াউদ্দিনের সাথে বাই প্রতিনিধিরা সহমত পোষন করেন এবং এই ব্যাপারে করনীয় নির্ধারনে আগ্রহী হন। এত ব্যস্ততার মাঝেও বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব  আমেরিকা (বাই)এর  প্রতিনিধিদলকে সময় দেওয়ার জন্য এবং আন্তরিক আলোচনার জন্য মাননীয় রাষ্ট্রদূত জনাব মোহম্মদ জিয়াউদ্দিন স্যারকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই  সৌজন্য সাক্ষাৎকার পর্বটির সমাপ্তি ঘটে।

সর্বশেষ আপডেট ( বৃহস্পতিবার, ০২ নভেম্বর ২০১৭ )