প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও কিছু ভাবনার খোরাক
নিউজ-বাংলা ডেস্ক   
বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে মানুষের সচেতনতা তুঙ্গে। আগেও লিখেছি, দলের চাইতে তাঁর ইমেজ বড় এখন। তিনি নিজগুণে তা তৈরি করেছেন। একটা সময় ছিল যখন এমনও শুনতাম বা বিশ্বাস করা হত যে, তাঁর অতিকথন বা বক্তব্য দলের জন্য অহিতকর। সে বদনাম যে মিথ্যা সেটা তিনি প্রমাণ করেছেন ধারাবাহিকভাবে দুবার দেশশাসনে আসার পর। এখন বাংলাদেশের উন্নয়ন আর তিনি সমার্থক। এটাও দেখছি, তাঁকে হেয় বা ছোট করার রাজনীতি কেমন গুটিয়ে গেছে। একজন মানুষের সব কিছু ভালো হতে পারে না। রাজনীতি কাউকে মানবের ওপরে তুললেও নয়। তিনি তাঁর মতো। তবে এটা মানতেই হবে যে, প্রাজ্ঞতা আর দূরদর্শিতায় তিনি এখন আছেন বা উঠেছেন এমন জায়গায় সেখানে বাংলাদেশ তাঁকে ছাড়া মূলত অভিভাবকহীন।

একসময় আমাদের নেতারা বিদেশের নেতাদের সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে বিনয়ের অবতার হয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালাতেন। এখন দেখুন, জার্মানির মতো দেশের নির্বাচনে অ্যাঞ্জেলার বিলবোর্ড বা পোস্টারে তাঁর সঙ্গে ছবি দেওয়া হয়। কানাডার জাস্টিনের সঙ্গে ছবিগুলো মজার। শেখ হাসিনাকে মায়ের মমতা দিয়ে ভালোবাসা বা অবলোকনের ছবিগুলো দেখলে জাস্টিন ট্রুডোকে মনে হয় তাঁর পুত্রসম। সেদিন দেখলাম, ট্রাম্পও ঝুঁকে পড়ে তাঁর সঙ্গে বেশ সময় নিয়েই কুশল বিনিময় করলেন। Seeing is believing মানলে বুঝতে কষ্ট হবে না দিন ঘুরছে, চাকা ঘুরছে সময়ের। সেই বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশে অনেক ফারাক। আর এই তফাৎ রচনা করার মূল নেতা শেখ হাসিনা।

ফলে তাঁর কুশল ও নিরাপদ থাকা না-থাকা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ থাকা স্বাভাবিক। তিনি যখন জাতিসংঘে তখনও আমরা আমাদের দেশের বহুলপ্রচলিত দৈনিকটিতে আলো অন্ধকারে আবারও ষড়যন্ত্রের মুখ দেখেছি। তারা বলতে চেয়েছিল যে, বাংলাদেশ বন্ধুহীন। আর প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় নাকি আসনগুলো খালি ছিল। পরে অবশ্য সে খবর তুলে নেওয়া হয় তাদের ইন্টারনেট ভার্সন থেকে।

যা বলছিলাম, শেখ হাসিনা যখনই কোনো সফরে যান আমরা দেখি এক ধরনের ষড়যন্ত্র আর তাঁর ওপর আক্রোশের খবর বেরিয়ে আসে। একবার শুনলাম খাদ্যে নাকি বিষ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। আর একবার আকাশে প্রায় সমূহ বিপদের হাত থেকে বেঁচে আসেন তিনি। চাকা খোলা থেকে চাকা বন্ধ এসব চক্রান্তের লোকেরা থেমে নেই।


এই তফাৎ রচনা করার মূল নেতা শেখ হাসিনা
 এবারের বোমটি ফাটিয়েছেন কলকাতার সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক। খবরটিরে বিস্তৃতি ও ভয়াবহতা আমাদেরকে আক্রান্ত করবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা অনেকে তা শেয়ার করেছি এই ভেবে যাতে মানুষ সতর্ক হতে পারেন। এর সঙ্গে ছিল প্রধানমন্ত্রীর জন্য ভালোবাসা ও আবেগের বহিপ্রকাশ। এটি এত দ্রুত এত বেশি প্রচারিত হয় যে, এর সন্দেহ নিরসনে একাত্তর টিভি সুবীর ভৌমিককে নিয়ে আসে পর্দায়। তিনি অবশ্য এখনও বলছেন, জেনেবুঝেই রিপোর্টটি তৈরি করেছিলেন তিনি। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একে গুজব বলা হয়েছে এবং এ ধরনের কিছু প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সাবধানও করা হয়েছে।

আমরা অবশ্যই তাদের কথা বিশ্বাস করতে চাইব। এ-ও চাই এ ধরনের খবর গুজবই হোক। কারণ আমরা খুব ভালোভাবে জানি যে, অন্ধ হলেও প্রলয় বন্ধ হবে না। এই দেশ ও আমাদের ইতিহাস বলে, যারা দেশ ও দশের জন্য কাজ করেছেন করছেন তাদের কাউকেই ছেড়ে দিইনি আমরা। কে না জানে, আমাদের দেশের প্রতিক্রিয়াশীল চক্র কত শক্তিশালী। তারা যেমন অপপ্রচারে এক কাঠি সরেস তেমনি তাদের নেটওয়ার্কও কম নয়। তাদের হাতে আছে অঢেল অর্থ, বিভিন্ন দেশের মদদ, ভিনদেশি গোয়েন্দা সংস্থাসহ আমাদের দেশের বিপথগামী রাজনীতিও।

একুশে আগস্ট যেহেতু সত্য, আমরা কিছুতেই কারও জড়িত থাকা না-থাকার বিষয়টা সহজে উড়িয়ে দিতে পারি না। মনে রাখা উচিৎ যে, প্রেস রিলিজে স্বস্তি আছে কিন্তু ভয় কাটাতে লাগবে সতর্কতা আর আন্তরিক ভালোবাসা। দেশে দেশে অঘটনগুলো সব সময় ঘটায় কাছের মানুষরাই। তাদের ছাড়া কোনো ষড়যন্ত্র কোথাও কোনো দিন সফলতার মুখ দেখেনি।

আমরা বিশ্বাস করতে চাই, এ প্রতিবেদন ছিল বানোয়াট বা গুজবের অংশ। শেখ হাসিনাকে অন্ধ সমর্থন না করলেও বিশ্বাস করি, তিনি ছাড়া এই দেশ ও সমাজ এখন কিছুতেই এমনভাবে চলতে পারবে না। আর যারা যেনতেন প্রকারে নিয়ম-অনিয়মের তোয়াক্কা না করে তাঁর বিদায় চায় তাদের কাউকে কাউকে আমরা হররোজ দেখি। মোকাবেলা করি। এরা ধূর্ত ও মধ্যপন্থী। এদের মুখে এক আর ভেতরে আরেক। শেখ হাসিনার উন্নয়নের সবকিছু ভোগ করা মানুষগুলোই আসলে মুখোশধারী।

এখনও শেখ হাসিনার বিকল্প যেমন আওয়ামী লীগে নেই বা তৈরি হয়নি তেমনি তিনি ছাড়া এই সমাজের পরিণাম হবে ভয়াবহ। যারা মুখ বুজে চোখ বন্ধ করে আছেন তারাও বাঁচতে পারবেন বলে মনে হয় না।

একবার ভেবে দেখুন তো কী হতে পারে? যারা ওঁৎ পেতে আছে তারা কারা? জামায়াত-শিবির আপাতত নেই মনে হলেও সময়মতো ঠিকই বেরিয়ে আসবে। জনমনে তাদেরও জায়গা আছে। আর সবচেয়ে ভয়ংকর হবে যুবরাজ ও তার দোসররা। একটি ভিডিওতে দেখা গেল, জাতিসংঘের সামনে মুখোমুখি দুদল; একদিকে আওয়ামী সমর্থকরা, আরেক দিকে বিএনপি। উভয় দিকের আক্রমণ পাল্টা-আক্রমণ এমন ছিল যে, বেচারা পুলিশ অসহায়ের মতো উভয়দিকে দৌড়াচ্ছে!

যেখানে আমেরিকায় এই হাল সেখানে দেশে কে কী করবে তা কি অনুমান করা খুব কষ্টের? তাছাড়া যারা ধরে নিয়েছিল গদি বা শাসন তাদের অধিকার, কেউ তাদের থেকে তা কেড়ে নিতে পারবে না, তারা আজ দশ বছর ধরে কেমন জীবন কাটাচ্ছে? আমাদের দেশে কোনো দল রাজনীতি বা প্রতিশোধের বাইরে পা ফেলতে পারেনি। শেখেওনি। ফলে এদেশের সকল প্রগতিশীল ও সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের জন্য আরেকটি অমানিশা নেমে আসাই স্বাভাবিক।

বিষয়টি আবার এমন নয় যে, আওয়ামী লীগ ধোয়া তুলসী পাতা বা তাদের মন্ত্রী নেতারা যা করছেন তা-ই ভালো। বরং এরা জনমনের কোন জায়গাটিতে আছেন জানতে পারলে ভালো হত। তাদের ধারণাও নেই তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণে কী ভোগ করে চলেছেন। এটাও নিশ্চিত যে, এরা প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ করতেও পারবেন না। যারা পারবেন তাদের দেশে থাকাটাই হবে কাল।

ইতিহাস ও অতীতের দিকে তাকিয়ে এর চেয়ে ভালো কিছু বলা মানে মিথ্যাচার। যদি দেশ রাজনীতি বা পরিবেশ স্বাভাবিক হত, নিয়মতান্ত্রিক গণতন্ত্র আর শুদ্ধ রাজনৈতিক আবহ থাকত, আমাদের উৎকণ্ঠা তীব্র হত না। যেহেতু সামান্য ভোট বা জনঅধিকার নিয়েও ঐক্য নেই, আছে ষড়যন্ত্র আর চক্রান্তের রাজনীতি, আমরা শেখ হাসিনার জন্য উদ্বিগ্ন থাকব এটাই স্বাভাবিক।

তাই সরকারি প্রেস নোটের পাশাপাশি সত্যিকার সংকট বা ষড়যন্ত্র আঁতুড়ঘরে নির্মূল করাটাই হবে কাজের কাজ।
সর্বশেষ আপডেট ( বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ )