ভার্জিনিয়াতে চাটগাঁইয়া ‘মেজবান’
নিউজ-বাংলা ডেস্ক   
সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

মেজবান হচ্ছে অতিথি আপ্যায়নকারী। আর  মেজবান মানেই চট্টগ্রাম।  সুদীর্ঘকাল থেকে চাটগাঁইয়া  মেজবানের  রয়েছে আলাদা কদর, রূপ-বৈচিত্র্য ও বহুল জনপ্রিয়তা। চট্টগ্রামের সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হিসেবে এটা স্থান করে নিয়েছে।  মেজবানির কদর-সুখ্যাতি এখন দেশ ছড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। গত বছর থেকে চট্টগ্রামের এ মেজবানের আয়োজন শুরু হয় গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসিতে। গত বছরের ধারাবাহিকতায় গত ১৬ই সেপ্টেম্বর ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডস্থ একন্টিক পার্কের অনুষ্ঠিত হল এই মেজবানির আয়োজন।


 বিশেষ কোনো উপলক্ষে মেজবানির আয়োজন করা হয়। তবে চট্টগ্রামের পাশ্ববর্তী অঞ্চলে মেজবান জেয়াফত নামে পরিচিত। বৃহত্তর চট্টগ্রামের এ মেজবানের আয়োজন করা হয়।গ্রেটার ওয়াশিংটনের অগনিত প্রবাসী  বাংলাদেশীরা   ব্যতি-ব্যস্ততা, খাওয়া-দাওয়া আর আনন্দযজ্ঞে মেতে উঠে এই "মেজবান"কে কেন্দ্র করে।
 
মেজবানের এই পরিসর ও সংস্কৃতি শুধু মাত্র চাটগাইয়াদের পরিসীমাতে না থেকে এর  প্রসার ঘটেছে বাংগালী সংষ্কৃতির অংগনেও । মান্ধাতা আমলের মতো ঢোল পিটিয়ে, চোঙা ফুঁকিয়ে দাওয়াত এখন আশ্রয় নিয়েছে ফেইস বুকের পাতাতে। মোবাইল-টেলিফোন, ই-মেইলে দাওয়াত পৌঁছানো হয়।  মাটির বাসন, মাদুরের বদলে ঠাঁই করে নিয়েছে চেয়ার-টেবিল, ।
তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় মেজবানের রঙ-রূপ পাল্টে গেলেও ওয়াশিংটনের এই মেজবানিতেও  মূলধারা জিইয়ে রয়েছে। সাদা ভাত, গরুর মাংস, গরুর পায়ের হাড়ের ঝোল (নলা কাঁজি), চনার ডাল পরিবেশন করা হয়।  ছিল  মুরগির মাংসও।

চট্টগ্রামের গাঁও-গ্রামের মেজবান কালক্রমে বাংলার সংস্কৃতির আঁকর হয়ে উঠেছে বলেই মনে হল গ্রেটার ওয়াশিংটনে। পুর বারটা থেকে আরাম্ভ করে একটানা বিকেল চারটা অবধি চলে মেজবানের আপ্যায়ন ও সাথে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায়  চাঁটগাইয়া গানের লহরি।

এ বছরের আয়োজনে গত বছরের আয়োজকরা ছিল অনুপস্থিত। এ বছর সম্মুখ ভাগে নেতৃত্বে ছিল জীবক বরূয়া। চাটগাইয়া না হলেও দস্তগীর জাহাংগীর  ছিলেন মেজবানীর আয়োজনের অন্যতম পুরধা। তাই চাটগাইয়া মেজবানি হয়ে উঠে সর্বজনীন বাংগালী মেজবানিতে। বিশিষ্টজনের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের উপ-প্রধান ও কবি মাহবুব হাসান সালেহ ।
আয়োজক মোঃ পারভেজ আলম চৌধুরী, আব্দুল মান্নান, জীবক কুমার বড়ুয়া, আমান উল্লাহ,মো:আলতাফ হোসেন, মোঃ জাকির হোসেন , মোঃ সেলিম (বর্ণমালা), সুজিত বড়ুয়া, মো:করিম ( ম্যারীল্যান্ড),মোস্তাফিজুর রহমান, দেওয়ান আরশাদ আলী বিজয়, মেজর ফজলুর চৌধুরী ও দস্তগীর জাহাঙ্গীর তুঘ্রীল। শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন শিশির ও তাঁর সাউন্ড টেক। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন দীপ্তি বড়ুয়া ও সন্তোষ বড়ুয়া।

সর্বশেষ আপডেট ( সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ )