হার্ভার্র্ডে কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে
বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক:   
মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট ২০১৭

 যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ক্যামব্রিজের বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে তালিকাভূক্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যেও শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীর চেয়ে  অশ্বেতাঙ্গদের সংখ্যাই বেশি।ফলে ৩৮০ বছরের ঐতিহ্যবাহী হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রথম শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীরা সংখ্যালঘু হতে চলেছে। বিশ্বখ্যাত মার্কিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পরের শিক্ষাবর্ষে যারা ভর্তি হতে চলেছেন, তাদের অর্ধেকেরও বেশি হবেন অশ্বেতাঙ্গ।আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ৫০.৮ শতাংশ নতুন ছাত্র বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে আসছে। গত বছর এই হার ছিল ৪৭.৩ শতাংশ।
ম্যাসাচুসেটস ভিত্তিক এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে যতজন পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, আর কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তত জন হননি।
পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, নতুন শিক্ষার্থীদের ২২.২ শতাংশ এশিয়ান-আমেরিকান। এরপর রয়েছে আফ্রিকান-আমেরিকান ১৪.৬ শতাংশ, হিস্পানিক বা ল্যাটিনো ১১.৬ শতাংশ এবং ন্যাটিভ আমেরিকান বা বিভিন্ন প্যাসিফিক দ্বীপ থেকে আসা ২.৫ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ ও নিউইয়র্ক টাইমসের মধ্যে চলমান এক বিবাদে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে জড়ানোর কয়েকদিন পর।
১ অগাস্টে ঐ পত্রিকায় বলা হয় ভর্তির নীতিমালা শ্বেতাঙ্গ আবেদনকারীদের বিপক্ষে থাকার কারণে বিচার বিভাগ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে 'ইতিবাচক পদক্ষেপ' নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে বিচার বিভাগ থেকে বলা হয় যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জাতি-বর্ণের ভিত্তিতে ছাত্র ভর্তি করে এমন কোন অভিযোগ খতিয়ে দেখার কোন পরিকল্পনা তাদের নেই।
বিচার বিভাগ জানায়, যে নথির ভিত্তিতে নিউইয়র্ক টাইমস রিপোর্টটি করেছে, সেটি আসলে ২০১৫ সালে এশিয়ান-আমেরিকানদের পেশ করা একটি অভিযোগ, যাতে দাবী করা হয়েছিল হার্ভার্ড এবং অন্যান্য আইভি লীগ বিশ্ববিদ্যালয় কোটা পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো ফলাফল করা এশিয়ানদের ভর্তি থেকে বঞ্চিত করছে।
হার্ভার্ডের মুখপাত্র র‍্যাচেল ডেন গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের বিশ্ববিদ্যালয় সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে "প্রতিজ্ঞাবদ্ধ"।
তিনি বলেন, "আমাদের বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাজে নেতা হতে হলে শিক্ষার্থীদের এমন সক্ষমতা থাকতে হবে, যাতে করে তারা বিভিন্ন পটভূমি, জীবন-অভিজ্ঞতা এবং দৃষ্টিকোণ সম্পন্ন মানুষের সঙ্গে কাজ করেতে পারে"।
"হার্ভার্ডের ভর্তি প্রক্রিয়ায় প্রত্যেক আবেদনকারীকে একজন সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর মার্কিন সুপ্রীম কোর্ট যে আইনী মান ঠিক করে দিয়েছে, আমরা তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সবকিছু বিবেচনা করি"। মার্কিন সুপ্রীম কোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে জাতিগত কোটা নিষিদ্ধ করেছে, তবে নির্দেশনা দিয়েছে যে একজন আবেদনকারীর সার্বিক বিষয় পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তার জাতিগত পটভূমির বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
রক্ষণশীল প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকুয়্যাল অপরচুনিটির সভাপতি ও বিচার বিভাগের একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রজার ক্লেগ বলেন যে তিনি মনে করেন 'ইতিবাচক পদক্ষেপ' নামের ব্যবস্থা সেকেলে হয়ে পড়েছে।
"আমি বুঝতে পারি আফ্রিকান-আমেরিকানদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। পৃথকীকরণ আইন জিম ক্রো বাতিল হওয়ার পর এই আইনের সুবিধাভোগীর তুলনায় তাদের একটু সুবিধা দেয়া খুব বাজে কোন আইডিয়া নয়। কিন্তু আমরা এখন ২০১৭ সালে আছি, আর জিম ক্রো অনেক আগেই বাতিল হয়ে গেছে। আমরা এশিয়ান-আমেরিকানদের তুলনায় ল্যাটিনোদের সুবিধা দেয়ার কথা বলছি। এর কি কোন মানে আছে?" ক্লেগ বলেন। তবে বিকল্প একটি মতামত দিয়েছেন ব্রেন্ডা শাম, যিনি ল-ইয়ার্স কমিটি ফর সিভিল রাইটস আন্ডার ল-এর একজন পরিচালক।
ব্রেন্ডা শাম আরও বলেন, যে বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ অভিজ্ঞতা থেকে সব জাতি-বর্ণের শিক্ষার্থীরাই শিখতে পারেন।"আমাদের ছাত্রদের এমন একটি জ্ঞানের পরিবেশ দিতে আমরা বাধ্য যেটি যে বিশ্বে তারা বাস করছে, তাকে প্রতিফলন করে,"।
সর্বশেষ আপডেট ( মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট ২০১৭ )