শেষের পরেও
শুভজিৎ বসাক, কলকাতা   
শুক্রবার, ১২ মে ২০১৭
(কবিগুরু-ছাত্র ছোট কাল্পনিক কথপোকথন)

রবীন্দ্রনাথ তখন অসুস্থ।লিখছেন শেষের কবিতা।সবসময় লিখতে ভালও লাগে না তাই মাঝে মাঝে খাটের পাশে জানলা থেকে কি যেন দেখেন আর মৃদু হাসেন।একদিন তাঁর ছাত্র সুবিনয় তাঁকে প্রশ্ন করল, "গুরুদেব একটা কথা জানতে চাইব যদি অনুমতি দেন?" রবীন্দ্রনাথ তাকে তখন অনুমতি দিলেন। সুবিনয়: আচ্ছা গুরুদেব আপনাকে দেখি ঐ জানলার দিকে মুখ বাড়িয়ে কি যেন দেখেন আর মৃদু হাসেন।এর রহস্যটা যদি বলেন।
রবীন্দ্রনাথ হাসলেন এবং বলতে লাগলেন, "আমার ঘরের ওপারে রয়েছে একটি আমগাছ।যার শুকনো পাতাগুলো মাটিতে পড়ে থাকে যখন তারা স্থির থাকে তখন।আর যখনই একটু হাওয়া দেয় তখনই তারা একসাথে উড়ে নুপূরের মত রিনিঝিনি শব্দ তুলে আমার লেখার শক্তি হয়ে আমার মাঝে ফিরে আসে।অনেক কিছু এক জীবনে একসাথে হারিয়ে সেই হারিয়ে যাওয়া শব্দদের দিয়ে গল্প-নাটক-কবিতা করে তুলেছি।কিন্তু ঐ যে শুকনোর পাতার শব্দ শেষ জীবনে আরও একটি শিক্ষা দিল।মৃত্যুর পরেও মানুষের ব্যবহার,কাজ মানুষকে মোটেই শিল্পীর আসন থেকে টলায় না।ঐ পাতা একদিন মঞ্জুরীর জন্ম দেখেছিল,আজ দেখেছে নিজেদের মৃত্যু অথচ সেই পাতা মৃত হয়েও শুকনো মাটিতে ঘষে নিজের শিল্পনৈপুণ্য জাহির করছে।কে বলে জীবনে কিছু না পাওয়া মানে বৃথা? বরং ঐ প্রকৃতির শুকনো পাতার সুর বলে দিচ্ছে তারা অনেক সবল এই বৃদ্ধ বয়সেও আমার থেকে।তাদের ছন্দ বিষয়ে অগাধ জ্ঞান সুবিনয়।আমি বল পাই সুবিনয় ঐ জড় পাতার থেকে।শেষ আর ক'টা দিন না হয় সাহস পুরে মনে মৃত্যুগ্রহণ করব"।
এই বলে কবিগুরু মৃদু হেসেছিলেন এবং তারপরে আবারও জানলা দিয়ে ঐ বাইরের দিকে তাকিয়ে বসেছিলেন।সুবিনয় আর কিছু বলেনি এই মানুষটাকে।নিঃশব্দে তাঁকে প্রণাম করে সে ঘর থেকে ধীর পায়ে বিদায় নিয়েছিল সেইদিন।
সর্বশেষ আপডেট ( শুক্রবার, ১২ মে ২০১৭ )