ভার্জিনিয়ায় ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামেলীর বৈশাখী উৎসব অনুষ্ঠিত
নিউজ-বাংলা ডেস্ক   
বুধবার, ০৩ মে ২০১৭

গত ২৯শে এপ্রিল  ছিল আমেরিকাতে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। প্রখর খরতাপে আগুন । তারপরও ঘরে বসে ছিলেন না গ্রেটার ওয়াশিংটনের  উৎসব প্রিয় প্রবাসী বাংলাদেশিরা। " ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামেলী"র  এই বৈশাখী মেলায় তারা তারা দলে দলে যোগ দেন। নিউইয়র্ক থেকে আগত  বিশিষ্ট উপস্থাপক আবীর আলমগীরের প্রানবন্ত উপস্থাপনায় দলীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে  অনুষ্ঠানের  সূচনা হয়।

"এসো হে বৈশাখ " এবং  "আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে" এই দুটি গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা।  দুপুর থেকেই তারা আসতে শুরু করেন ভার্জিনিয়ার আলিংটনস্থ গেটওয়ে পার্কে।  শামিল হলেন বাঙালির প্রাণের উৎসব বৈশাখী উৎসবে।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি মিশন প্রধান আবু হাসান সালেহ এবং বিশেষ অতিথি ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার। এই সময় পাশে ছিলেন ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামেলীর দুই কর্ণধার আবু রুমি এবং আকতার হোসেন।  

 দলীয় সঙ্গীতের পর  দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে মেরিল্যান্ডের  মনজুরী নৃত্যালয়। এই পর্বে নৃত্যে অংশগ্রহন করে মনিষা, সান্দ্রা, রিতি, শিরল, পিটার, এলিজাবেথ, সামান্থা, শুভ্র, পলা, মৌসুমী, লিন্ডা ও জিনিয়া। নৃত্যের কোরিওগ্রাফী ও পরিচালনা করেন শিল্পী রোজারীও।

 

অনুষ্ঠানের এবারের  থিম ছিল "বাউলিয়াপনা"।  এই পর্বে  লোক সঙ্গীত এবং বাউল গান পরিবেশন করেন ওয়াশিংটন প্রবাসে মেট্রো বাউল খ্যাত জাফর রহমান , বাংলাদেশ রেডিও টেলিভিশনের এক সময়ের জনপ্রিয় বাউল শিল্পী কালাচাঁদ সরকার, একতারার বাউল শিল্পী শেখ মাওলা মিলন, নিউইয়র্ক থেকে আগত শাহ মাহবুব, ফ্লোরিডা থেকে আগত অনিমা ডি কষ্টা। সাথে তবলাতে ছিলেন  আতিকুর রহমান এবং ঢোলে নিউইয়র্ক থেকে আমন্ত্রিত শফিক ঢোলকিয়া।  

এরপর ছিল সদ্য প্রয়াত  শিল্পী লাকী আখন্দের স্মরণে "আগে যদি জানতাম" শিরোনামে একটি বিশেষ পর্ব। এখানে  লাকী আখন্দের জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করে আবু রুমি, আকতার হোসেন, রাফি, আফসানা সিরাজ , সীমা খান, স্বপন গোমেজ প্রমুখ।  শিল্পীর জনপ্রিয় হানপগুলি- ‘এই নীল মনিহার’,‘আমায় ডেকো না’,‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে’, ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’, ‘মামনিয়া, ‘বিতৃঞ্চা জীবনে আমার’  ‘কি করে বললে তুমি’ ‘লিখতে পারি না কোনও গান, ‘ভালোবেসে চলে যেও না’,আগে যদি জানতাম প্রভৃতি পরিবেশন করেন শিল্পীরা।  গান পরিবেশনের এক পর্যায়ে  উপস্থিত সবাই শিল্পীর প্রতি দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এরপর  বর্ষবরণ ১৪২৪ এর বিশেষ অনুষ্ঠান ”এসো নব আনন্দে মেতে উঠি”তে দলীয় নৃত্য পরিবেশনায় বর্ণমালা শিক্ষাঙ্গণ এবং বনানী ড্যান্স  গ্রুপ। রোকেয়া জাহান হাসির কোরিওগ্রাফীতে  বর্ণমালার নৃত্যে অংশগ্রহন করে রাইসা, মাইসা, শ্রাবনী, ইশাল, আয়না, সুমাইয়া, অর্পিতা, তামিন, নাজিয়া, ও শর্মী। বনানী চৌধুরীর কোরিওগ্রাফীতে নৃত্যে অংশ নেয়

অনুষ্ঠানের শেষ পরিবেশনা ছিল  বাংলাদেশ থেকে আগত আমন্ত্রিত শিল্পী বাদশা বুলবুল। রাত ৮ ঘটিকায় পার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগ পর্যন্ত বাদশা বুলবুল তিনটির বেশী গান পরিবেশন করেন। তবে স্থানীয় শিল্পীদের  ব্যাপক  অংশ গ্রহনের কারনে এবং টাইম ম্যানেজমেন্টে সমস্যার কারনে প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানেই অতিথি শিল্পীরা সংগীত পরিবেশনায় তেমন সময় পান নয়া।ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামেলীর এই আয়োজনও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রবাসী বাংলাদেশির পাশাপাশি পথযাত্রী ভিনদেশি নাগরিকেরাও খানিকটা দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করার চেষ্টা করেন।

অনুষ্ঠানের শব্দ নিয়ন্ত্রনে ছিলেন শিশির, কিবোর্ড সৌমি, তবলা আশীষ বড়ুয়া, ড্রাম ক্যানী বিশ্বাস, গীটার তুর্ঘ্য, বেইজ নাফিস, অক্টোপ্যাড প্রান্তীক, ঢোল শফিক ঢোলকীয়া মঞ্চ সজ্জা ও ষ্টল টেবিল সহায়তায় ছিলেন আবু রুমি ও আকতার হোসেন। অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল  শাড়ী গয়না, খেলনা, খাবার সহ নানা ধরনের বাণিজ্যের ষ্টল। লোকজন "রথ দেখেছে, কলাও বেচেছে"। এবারের বাংলা নব বর্ষ বরণে তিনটি অনুষ্ঠান ছিল উল্লেখযোগ্য।

 

১৫ই এপ্রিল বিসিসিডিআই আয়োজিত ইনডোর বৈশাখী মেলা, ২২শে এপ্রিল বাই আয়োজিত "বৈশাখী জলসা" এবং ২৯শে এপ্রিল ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামেলী আয়োজিত উন্মুক্ত মঞ্চে বৈশাখী মেলা। তিনটি অনুষ্ঠানেই ছিল ভিন্ন মাত্রার। গ্রেটার ওয়াশিংটনে উন্মুক্ত মঞ্চে বাংলা নব বর্ষ উদযাপনের পথিকৃত ছিল বিসিসিডিআই। তবে গত দুই বছর ধরে ফেন্ডস এন্ড ফ্যামেলীই খোলা আকাশের  মুক্ত মঞ্চে বৈশাখী মেলার আয়োজন করছে।

এ ছাড়া গত ৩০শে এপ্রিল স্বদেশ বাংলাদেশ ভার্জিনিয়ায় এবং মেরিল্যান্ড  ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামেলী বাল্টিমোরে বৈশাখী মেলার আয়োজন করে। আগামী বছর বাংলা নব বর্ষ-১৪২৫ উদযাপনে ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামেলী ১৪ই এপ্রিল,  "বাই" ২১শে এপ্রিল এবং বিসিসিডিআই ২৮শে এপ্রিল তারিখ ঘোষনা করেছে। এর পাশা পাশি বাগডিসিও সবার আগে ১৪ই এপ্রিল পান্তা-ইলিশ উৎসব শিরোনামে বাংলা নব বর্ষের ঘোষনা দিয়েছেন। ই হিসাবে ২০১৮তে একই দিনে দুইটি অনুষ্ঠানে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সূচনা হবে।

সর্বশেষ আপডেট ( বুধবার, ০৩ মে ২০১৭ )