মেলানিয়া ট্রাম্পের কাছ থেকে সম্মাননা পেল বাংলাদেশি শারমিন
নিউজ-বাংলা ডেস্ক   
শুক্রবার, ৩১ মার্চ ২০১৭

বিশ্বের সেরা সাহসী নারীর একজন হিসেবে সেক্রেটারি অফ স্টেটস ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অফ কারেজ- আইডব্লিউওসি অ্যাওয়ার্ড ২০১৭ অর্জন করলেন বাংলাদেশি শারমিন।
 বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে তার দৃঢ় অবস্থানের কারনে  মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং আন্ডার সেক্রেটারি থমাস শ্যাননের কাছ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন তিনি।
সাহস, অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের জন্য তাকে এই পুরস্কার দেয়া হয়। ২০১৫ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় মাত্র ১৫ বছর বয়সী শারমিনকে বাবার বয়সী এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালায় তার পরিবার। এই প্রচেষ্টার  বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে রুখে দাঁড়ায় শারমিন।
 বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান তিনি। কিন্তু এরপরই তিনি পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হন। বন্ধুদের সহযোগিতায় থানায় গেলেও দায়িত্বরত পুলিশ তার মামলা নিতে অস্বীকার করে।
পরে সাংবাদিকদের সহায়তা নিয়ে পরিবারের নামে মামলা করেন তিনি। বাবা- মা সহ হবু বরকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন রাজাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী।
 সব বাধা পেরিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন এই সাহসী কন্যা।  মার্কিন দূতাবাসের প্রেস রিলিজে বলা হয়, শারমিন নারী ও মেয়েদের কাছ থেকে সচরাচর প্রত্যাশিত নীরবতা ভাঙ্গার সাহস দেখিয়েছেন, নিজের অধিকার রক্ষায় লড়াই করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত তার মা ও হবু বরকে আইনের আওতায় এনেছেন। সাহসিকতার জন্য প্রশংসিত শারমিন বর্তমানে রাজাপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী এবং সমাজের ক্ষতিকর প্রথা বাল্যবিবাহ ও  জোরপূর্বক বিয়ের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে তিনি ভবিষ্যতে একজন আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।

ওয়াশিংটন ডিসিস্থ স্টেস্ট ডিপার্টমেন্টে  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের  আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেলানিয়া বলেন, এখানে আসা নারীদের সঙ্গে এক মঞ্চে উপস্থিত থাকতে পারা সম্মানের ব্যাপার। আপনাদের প্রত্যেকের জীবনের সাহসি গল্পগুলো  আমাদের অনুপ্রেরণা । বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য আপনাদের সবাইকে অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে হয়েছে। নারী মুক্তি ও ক্ষমতায়নের বীজ এই জায়গা থেকেই জন্ম নিবে। নারীর জন্য নিরাপদ বিশ্ব গড়তে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন, নারী অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ নারী পিছিয়ে থাকা মানে বিশ্ব পিছিয়ে থাকা। আমরা সবাই মানুষ জাতি। আমাদের সবার বিশ্বের কাছে নিজকে তুলে ধরার ক্ষমতা রয়েছে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত ১৩ জনের মধ্যে রয়েছেন ইয়েমেন ও সিরিয়ান দুই জন মানবাধিকার কর্মী। তবে দেশ দুটোতে ট্রাম্পের অভিবাসন নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারেন নি তারা। সাহসিকতা ও নেতৃত্বের জন্য ২০০৭ সাল থেকে বিশ্বের ৬০ দেশ হতে শতাধিক নারীকে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে আইডব্লিউওসি।

সেক্রেটারি অফ স্টেটস ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অফ কারেজ (আইডব্লিউওসি) অ্যাওয়ার্ড, প্রতি বছর বিশ্বের নারীদের অসাধারণ সাহসিকতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি দিয়ে থাকে যারা ব্যক্তিগত ঝুঁকি স্বত্বেও শান্তি,  ন্যায় বিচার, মানবাধিকার, নারী পুরুষের সমতা, এবং নারীর ক্ষমতায়ন এর ব্যাপারে অবদান রেখেছেন । ২০০৭ সালে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের এই পুরস্কার এ পর্যন্ত বিশ্বের ৬০টি দেশ থেকে শতাধিক নারীকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশের শারমিন আক্তার ছাড়া আরো ১২ জন নারী এই পুরস্কার পেয়েছেন।
সর্বশেষ আপডেট ( শুক্রবার, ৩১ মার্চ ২০১৭ )