ওয়াশিংটনে "গানের ভেলায় বেলা অবেলায়- ফাগুন সন্ধ্যা" হৃদয় ছোঁয়া জলসা
নিউজ-বাংলা ডেস্ক   
শুক্রবার, ৩১ মার্চ ২০১৭

গত শনিবার, ১৮ই মার্চ, ২০১৭ ভার্জিনিয়ার ম্যানাসাসে উইন্ডহ্যাম হোটেলের বলরুমে অনুষ্ঠিত হলো  ভিন্ন মাত্রার সঙ্গীত এক সংগীত সন্ধ্যার। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী- শ্রেয়া গুহঠাকুরতা, কানাডা প্রবাসী  সঙ্গীত শিল্পী পিনু সাত্তার, সাথে  নিউইয়র্ক প্রবাসী মঞ্চ অভিনেত্রী, বাচীক শিল্পী লুৎফুন নাহার লতা।  তাদের  অনবদ্য পরিবেশনার   মোহময় মাধুর্য্যে প্রাণে সুরের বন্যা  বয়ে গেছে প্রবাসী বাংগালীর অন্তরে।

কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট  আরিফ ইখতেখার এবং পিউস গোমেজের উদ্যোগে   আয়োজিত  এই জলসায় প্রথমেই পরিবেশিত হয়  শ্রেয়া গুহ ঠাকুরদার হৃদয় ছোঁয়া রবীন্দ্র সংগীত।  নির্মল আনন্দের  এই অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল  ভারতের এই  প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীতশিল্পীর  সংগীত পরিবেশনের সাথে ধ্রুপদের শিল্পীদের মনভোলানো নৃত্য।
 
দেড়শত বছরেও রবীন্দ্রসঙ্গীত বাঙ্গালির মানসে এখনো দিবাকরের মতো সমানভাবে সমুজ্জ্বল; তার কিরণ এতোটুক ম্লান হয়নি। শ্রেয়া গুহ ঠাকুরদার মনমুগ্ধকর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এই কথাটিই অনুরত হলো  বারে বারে।

রবীন্দ্র সংগীত  নতুন করে আমাদের আত্মপরিচয়ের তাগিদ দেয়। আত্ম শক্তির উদ্বোধনে মানুষ আর প্রকৃতিকে ভালবাসার বারতা ছড়িয়ে দেয় মানসপটে।  শ্রেয়া গুহ ঠাকুরদার কন্ঠের মাধুর্যে রবীন্দ্রনাথের  চিরচেনা শব্দ, কথা, সুর, ছন্দ, তাল, লয় সবটাই যেন হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত  এক প্রাণ উচ্ছাসের ফল্গুধারা হয়ে মুক্তির উৎস খুঁজে ফিরেছে হল ভর্তি দর্শক
শ্রোতাদের অন্তর। এরপর সংগীত পরিবেশন করে  পিনু সাত্তার। তার সংগীতও উপস্থিত শ্রোতাদের অন্তর স্পর্শ করে। মাঝে লুৎফুন নাহার লতা অনবদ্য আবৃত্তি।

 শিল্পীদের পাশাপাশি যে সব যন্ত্রীরা সঙ্গত করেছেন অনুষ্ঠানে- তবলায় দেবু নায়েক, বাঁশীতে মোহাম্মদ মজিদ, কী বোর্ডে হীরণ চৌধুরী এবং আবু রুমী, হামমোনিয়ামে কুমকুম বাগচী এবং মন্দিরায় সাধক।

সন্ধ্যার এই  আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের সফল সমাপ্তির পর যারা  অন্তরে গান ধারণ করে, গান যাদের একান্ত অবসরের মুঠি মুঠি আনন্দ  সঙ্গী -সেই সব সৃজনশীল কিছু মানুষের  মন ছুঁয়ে যাওয়া অনুভুতির  মাঝেই  খুজে পাওয়া গেল অনুষ্ঠানের  নিটোল সার্থকতা।

সর্বশেষ আপডেট ( শুক্রবার, ৩১ মার্চ ২০১৭ )