এক কনের কাহিনি
নিউজ-বাংলা ডেস্ক   
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৬

ঘরটিতে ঢুকলেই বোঝা যায়, কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য তা সাজানো। অতিথিদের উদ্দেশে ‘আশীর্বাদ চাই’ লেখা সাঁটানো দেয়ালে। অতিথি আপ্যায়নে গরু কেনা হয়েছে। এক হাজার লোকের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইয়ুসরা ফিতরিয়ানির বিয়ে উপলক্ষে এই আয়োজন। যাঁর জন্য এই আয়োজন, সেই ইয়ুসরার মনে আনন্দ নেই। আকুল হয়ে তিনি কাঁদছিলেন। যে বিছানায় দুজন হাতে হাত রেখে আগামী দিনের স্বপ্ন বোনার কথা বলবেন বলে ভেবেছিলেন, সেই বিছানায় শুয়ে স্বপ্নভঙ্গের হাহাকার নিয়ে কাঁদছিলেন ইয়ুসরা। যে দিনটি হতে পারত তাঁর জীবনের সবচেয়ে সুখের দিন, তা এক মুহূর্তে বিষাদে ঢেকে গেল। বিয়ের দিন বরকে আদর জানানোর বদলে চিরবিদায় জানাতে হলো।
গত বুধবার ইন্দোনেশিয়ায় আচেহ প্রদেশে ৬ দশমিক ৫ মাত্রার তীব্র ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পে নিহত ১০০ জনের মধ্যে ছিল ইয়ুসরার হবু বর ও বরের পরিবারের সাতজন।
ফজরের নামাজের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় মুসলিম অধ্যুষিত ওই প্রদেশে আঘাত হানে ভূমিকম্প। এতে বহু বাড়ি ও মসজিদ ধসে পড়ে। প্রতিবেশীদের সহায়তায় অনেকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। তবে ইয়ুসরার হবু বর ঘড়ি বিক্রেতা সুহার্না সেই সৌভাগ্যবানদের একজন হতে পারেননি। ভূমিকম্পে মেউরিউডুতে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় তিনি মারা যান।

ইয়ুসরার বাবা মুহাম্মদ ইউনুস বলেন, মেউরিউডু মার্কেটটি ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে বলে খবর শুনে ছুটে যান। তিনি বলেন, ‘আমি যখন মার্কেটের দিকে ছুটছিলাম, আশঙ্কায় আমার বুক ধড়ফড় করছিল। গিয়ে দেখি, সুহার্নাদের বাড়িটি পুরোটাই ধসে পড়েছে। বিকেলের দিকে তাঁর লাশ পাওয়া যায়।’ তিনি জানান, বিয়েতে আমন্ত্রিত অনেক অতিথি এই মর্মান্তিক খবর জানতেন না। ঘটনার পরদিন বিয়েবাড়িতে তাঁরা বর-কনেকে আশীর্বাদ করার জন্য উপহার নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। এসে দেখেন, ইয়ুসরা মুষড়ে পড়েছেন। আর তাঁর পরিবার সুহার্নার দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব দেখে অতিথিরা বিহ্বল হয়ে পড়েন।
ইয়ুসরার বাবা বলেন, ‘বিয়ের সব আয়োজনই শেষ করা হয়ে ছিল। বর-কনের টেবিল সাজানো হয়। এক হাজার মানুষের বসার আয়োজন করা হয়।’
বিয়ের জন্য সাজানো ঘরটিতে মেয়েকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন মা রাজিয়াতি। বাষ্পরুদ্ধ গলায় তিনি বলেন, ‘মনকে শক্ত করো, মা! এটা আল্লাহর পরীক্ষা!’
এএফপি অবলম্বনে
সর্বশেষ আপডেট ( শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৬ )