মার্কিন কংগ্রেসের গ্যালারিতে সামিয়ার ‘জীবনের প্রতিচ্ছবি’
এনআরবি নিউজ :   
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০১৬

 প্রত্যেক কংগ্রেসম্যানের এলাকা থেকে সেরা একজন করে মোট ৪৩৫ জনের মধ্য থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ ১০ জনের আঁকা চিত্র সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয় ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটল ভিজিটর সেন্টারের কংগ্রেসনাল অডিটরিয়ামে। এর মধ্যে বাংলাদেশী সামিয়া ফাগুনের চিত্রটিও ছিল। জল রংয়ে আঁকা এ ছবিটির নাম ‘মোমেন্টস অব লাইফ’ বা জীবনের প্রতিচ্ছবি। নিউইয়র্ক কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট-৬ এর কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং-এর এলাকায় অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় জয়ী সামিয়াকে সপরিবারে আমন্ত্রণ জানানো হয় গত বৃহস্পতিবারের ঐ অনুষ্ঠানে। মা গুলশানা রহমান নীলা এবং ভাই সৈয়দ ফারাবিকে সাথে নিয়ে ক্যাপিটল হিলের এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন কুইন্সের নিউটাউন হাই স্কুল থেকে এবার বিশেষ কৃতিত্বের সাথে গ্র্যাজুয়েশনকারি সামিয়া। সামিয়াকে এ সময় বিপুল করতালির মধ্যে কংগ্রেসনাল সার্টিফিকেটও প্রদান করা হয়। এরপর অন্য ৯ জনের সাথে তাকেও পুরো কংগ্রেস-টানেল ঘুরিয়ে দেখানো হয়। সাথে ছিলেন কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং। সামিয়ার ছবিটি পুরো এক বছর থাকবে কংগ্রেসনাল টানেলের গ্যালারিতে। বাংলাদেশী-আমেরিকান হিসেবে সামিয়া দুর্লভ এ সম্মান অর্জন করলেন। উল্লেখ্য, ৪৩৫ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টেই হাই স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। তার মধ্যে জয়ী ৪৩৫ জনের ছবি প্রদান করা হয় কংগ্রেসনাল ইন্সটিটিউটে। সেখানে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করার পর ১০টি ছবির ওপর আলোকপাতের পাশাপাশি মার্কিন কংগ্রেস ভবন ‘ক্যাপিটল হিল’র সবচেয়ে বেশি মানুষ চলাচলকারি টানেলেই স্থান পেল বাংলাদেশী ছাত্রী সামিয়া ফাগুনের এই চিত্রকর্ম।
ক্যাপিটল হিলে এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি ছাত্রীর আঁকা ছবি স্থান পেলো। আর সামিয়া এ দুর্লভ সুযোগ করে নিয়েছেন এক প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে।
কুইন্সের এলম্হার্স্টে থাকা নিউ টাউন হাই স্কুলের দ্বাদশ গ্রেডের ছাত্রী সামিয়া গত এপ্রিলে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ওই এলাকার আরও ১৩ হাই স্কুলের ৪৬ জন ছাত্র-ছাত্রীর সঙ্গে। প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন ডেমক্রেটিক পার্টির স্থানীয় কংগ্রেসওম্যান এবং কংগ্রেসনাল বাংলাদেশ ককাসের অন্যতম সদস্য গ্রেস মেং।
গত ৩৫ বছর ধরে সব কংগ্রেসম্যানই একই সময়ে নিজ নিজ এলাকায় হাই স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ‘অ্যান আর্টিস্টিক ডিসকভারি’ শীর্ষক এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে।
আর এই প্রতিযোগিতায় পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিজয়ীদের অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় এ অনুষ্ঠানে। এ সময় কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং এর পক্ষ থেকে সামিয়াকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয় নির্বাচিত ওই ছবিটির জন্যে।
কংগ্রেসনাল এ প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ায় জর্জিয়ার ‘শাবান্নাহ কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড মিউজিয়াম’-এ স্কলারশিপ পেয়েছিলেন সামিয়া। কিন্তু তাঁকে দূরে রাখতে চাননি মা-বাবা। এজন্যে বাংলাদেশি এই ছাত্রী শিল্পকলা বিষয়ে সামনের সেপ্টেম্বরে শুরু নতুন শিক্ষাবর্ষে পড়তে যাবেন সিটি কলেজ অব নিউইয়র্কে।
১৯৮২ সালে শুরু এ প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত ছয় লাখ ৫০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী অংশ নেয়। বিজয়ীদের মধ্যে এই প্রথম একজন বাংলাদেশির নাম অন্তর্ভুক্ত হলো।
বাংলাদেশে সামিয়াদের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা পরিদর্শক হিসেবে কাজ করেন তার বাবা মঞ্জুরুল হক। মা ও এক ভাইসহ সামিয়াদের পরিবার ২০১২ সালে ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে নিউইয়র্কে বসবাস করছেন।
সামিয়া এর আগে বিভিন্ন বিষয়ে আরও কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন।
সর্বশেষ আপডেট ( বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০১৬ )