বেদনার কালো জল হারিয়ে গেল জীবন
নিউজ-বাংলা ডট কম   
বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০১৪
ছবি এবং তথ্যঃ মিজানুর রহমান ভুইয়া
 
মানুষের জীবন মৃত্যু সবই বিধাতার লিখন। তাইতো বেদনার কালো ছোয়াতে হারিয়ে গেল দুইটি জীবন। ছবিতে জীবনের শেষ মুহুর্তেও প্রিয়তমাকে এই ভাবে বাহুর বন্ধনে আগলে রেখে পৃথিবী থেকে চির বিদায় নেওয়া তরুন যুবকটির নাম আলাউদ্দিন আহমেদ। ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যক্স কাউন্টির সাউথরাইডিং এ বসবাসরত আলাউদ্দিন মাত্র এক বছর আগে বিয়ে করেছিল মাত্র এক বছর আগে। এই বেদনা দায়ক ঘটনার মাত্র তিন সপ্তাহ আগে তিনি দেশে গিয়েছিলেন প্রিয়তমা স্ত্রী আইরিন সুলতানা লিমাকে সংগে নিয়ে আসতে।উন্নত জীবনের হাতছানির মাঝে স্ত্রীকে নিতে আলাউদ্দিনের আমেরিকাতে ফিরে আসার কথা ছিল ৪ঠা এপ্রিল। কিন্তু নিয়তির নির্মম করাঘাতে জীবনের সকল সম্ভাবনা দূরে ঢেলে হারিয়ে গেল এক না ফেরার দেশে। 
জীবনের মধুর এই সময়ে নব পরিণতা বধুকে নিয়ে কাপ্তাই হ্রদে বেড়াতে গিয়েছিল আলাউদ্দিন দম্পতি। কাপ্তাই হ্রদে নৌ বিহারের সময় হয়তো ওরা বুনছিল নতুন জীবনের স্বপ্ন। প্রেম-ভালবাসার এই স্বপ্ন মুহুর্তেই মলীন হয়ে গেল হঠাৎ উঠা এক সর্বনাশী ঝড়ে। ওরা তলিয়ে গেল অসীমে। ঘটনার দুইদিন পড়ে ডুবে যাওয়ার স্থানসংলগ্ন এলাকাতেই একে অন্যকে জড়িয়ে ধরা অবস্থায় ভেসে উঠে তাঁদের দুজনের মৃতদেহ। একই সাথে আমেরিকায় যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে পরপারের সঙ্গী হলেন ঠিকই। মৃত্যুও যেন পারল না দুজনকে আলাদা করতে। স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার এ এক অনন্য নিদর্শন। ঝড়ের তোরে নৌকা থেকে পড়ে যাওয়া সাতার না জানা স্ত্রীকে রক্ষা করার সব চেষ্টাই করল আলাউদ্দিন। নিজের জীবন বাচাতে আলাউদ্দিন হয়তো তীরে উঠে আসতে পারত। কিন্তু প্রিয়তমা স্ত্রীকে মৃত্যুর মুখে রেখে আলাউদ্দিন নিজকে রক্ষা না করে, ভালবাসার অটুট বন্ধনে স্ত্রীর সাথে সহ মরণের পথই যেন শ্রেয় মনে করলেন। কলি কালে মানুষ যে ভাবে শুধু নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত সেই ক্ষেত্রে আলাউদ্দিনের এই প্রেমের নিদর্শন বিরহের পরম ছোয়ায় মানুষের মনকে আপ্লুত করছে। হয়ত ছবির এই দৃশ্যটি দেখে নিরবে চোখ থেকে গড়িয়ে পরছে এক ফোঁটা অশ্রু। ভার্জিনিয়া প্রবাসী মিজানুর রহমানের জন্য এই বেদনাদায়ক মৃত্যুটি যেন আরো সুকরুন। কারন তার সম্পর্কিত ভাগিনা এই আলাউদ্দিন তার পরিবারের সাথেই থেকেছে কিছুদিন। তাই হঠাৎ করেই এই অকাল মৃত্যু তাকে ব্যথিত করেছে বারে বারে। নিউজ-বাংলার পক্ষ থেকে এই করুন পরিনতির জন্য শোক প্রকাশ করছি। আশা করছি জীবনের সব চেয়ে সংকতাপন্ন মুহুর্তে তারা যে ভাবে আলিংগনে বাধা হয়ে ছিল, পরজন্মে যদি সুযোগ থাকে তবে ওদের যেন আবারো এই ভাবে মিলন ঘটে।
সর্বশেষ আপডেট ( সোমবার, ০৭ জুলাই ২০১৪ )