রাত জেগে কাজ নয়!
নিউজ-বাংলা ডেস্ক   
বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি ২০১৪
একটু রাত জেগে যারা কাজ করতে ভালোবাসেন কিংবা রাতের সময়টায় নিরিবিলি নিজের মতো করে মুভি দেখে বা বই পড়ে কাটাতে চান তাদের অনেকেই সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে উঠে ঘুমের ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে চান।
তবে আমাদের দেহঘড়ির দীর্ঘদিনের অভ্যস্ততা যে এভাবে পুষিয়ে নেওয়ার মতো নয় এবার সেই কথাটিই নতুন করে আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব সারের একদল গবেষক। তারা জানিয়েছেন, এতে করে ঘুমের ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ক্ষতি হয় এবং আমাদের দেহচক্রে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বিশেষ করে যারা দিনের পর দিন রাতের পালা বা নাইট শিফটে কাজ করেন তাদের মাঝে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হয়। বিশেষ করে দেহঘড়ির এই পরিবর্তন বা ঘুমের সময়ের পরিবর্তন মানুষের দেহের ওপর খুব দ্রুত প্রভাব ফেলে বলেও জানান বিশ্ববিদ্যালয়টির বায়োসায়েন্স ও মেডিসিন বিভাগের দুই গবেষক ডার্ক জ্যাঁ ডিক ও সিমন আর্চার। এই গবেষণার অংশ হিসেবে গবেষকরা ২২ জন স্বেচ্ছাসেবীকে ২৮ ঘণ্টায় এক দিনের মতো করে অভ্যস্ত করে তোলার চেষ্টা করেন। অর্থাত্ প্রতিদিন তাদের ঘুমের সময় চার ঘণ্টা করে পিছিয়ে দেওয়া হয়। আর এভাবে স্বেচ্ছাসেবকদের নতুন রুটিনে অভ্যস্ত করে ফেলার পর শারীরিক তথ্য বিশ্লেষণের জন্য তাদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এতে করে দেখা যায় যে, এসব ব্যক্তির রক্তের ডিএনএ'র মাঝে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ড. সিমন আর্চার জানান, 'অনিয়মিত ঘুমে মানুষের শরীরে ৯৭ শতাংশ জিন নিজেদের স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার ব্যাপারে বিশৃঙ্খলায় পড়ে যায়। এ জন্যই বিমান ভ্রমণ অথবা রাতে কাজ করার পর শরীরে নানা রকম অস্বস্তি অনুভব করি।' গবেষণার এই ফল প্রকাশিত হয়েছে ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের কার্যবিবরণীতে।
সর্বশেষ আপডেট ( সোমবার, ১৪ জুলাই ২০১৪ )