প্রবাসী নেতাকর্মিদের ভাগ্যে মনোনয়ন জোটেনি!
সাবেদ সাথী, ব্যুরো চিফ   
শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর ২০১৩
নিউইংল্যান্ড থেকে: সাম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিউইয়র্কে জাকজমক ও সেরা নাগরিক সংবর্ধনা দেয়ার পরও আসন্ন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের দশম নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিদের কেউ মনোনয়ন পাননি।
গত সেপ্টম্বরের শেষ সপ্তাহে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের উদ্যোগে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হয়। কিন্তু যে আশা বুকে নিয়ে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল তাতে গুড়েবালি পড়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবিতে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ ১৮ দলের লাগাতার আন্দোলনের মুখে নির্বাচন কমিশন আগামী ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করলে দেশের ন্যায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নির্বাচনী হাওয়া বইছে শুরু করে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল আলম গত ২৯ নভেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আয়োজিত জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে দলের সংসদীয় বোর্ড মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কোন প্রার্থী নেই। দলীয় মনোনয়ন প্রেতে ব্যর্থ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা ড. নূরুন্নবী ও ড. মহসিন আলী, সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ প্রমুখরা। মনোনয়ন না পেয়ে প্রবাসী প্রার্থীরা যেমন হতাশ হয়েছেন তেমনী তাদের সমর্থকরাও দারুণ হতাশ হয়েছেন। উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ প্রায় এক ডজন নেতা দেশে অবস্থান করে এবং মনোনয়নের আশায় কেন্দ্রিয় নেতাদের পেছনে ঘুরছেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদসহ বেশ কিছু নেতা এবার মনোননয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তারা বা তাদের পক্ষে জাতীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহণের জন্য মনোনয়নপত্র ক্রয় করাও হয়েছিল। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ড. নূরুন্নবী (টাঙ্গাইল), উপদেষ্টা ড. মহসীন আলী (নাটোর), যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান (বগুড়া-১ ও বগুড়া-৬), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম চৌধুরী (ফেনী), সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি এম ফজলুর রহমান, উপদেষ্টা সাইফুল ইসলাম রহীম (মৌলভীবাজার), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ (জামালপুর), সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ (সিলেট-৪) ও নিউইয়র্ক সিটি আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এম. আলমগীর (ঢাকা), আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট আব্দুস সালাম (কুষ্টিয়া), নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক এডভোকেট মোর্শেদা জামান কাকন (জামালপুর-৪ সরিষাবাড়ী) ও ফ্লোরিডা আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ এমরান (চট্টগ্রাম-৮) এলাকার প্রার্থী ছিলেন। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো যারা আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী ছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন যুব বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুল হক টুকু (বরগুনা), নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের কুইন্স বরো কমিটির সাধারণ সম্পাদক একেএম সফিকুল ইসলাম (ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া) । এদের মধ্যে ড. নূরুন্নবী, ড. মহসীন আলী, ড. সিদ্দিকুর রহমান, নিজাম চৌধুরী, আব্দুস সামাদ আজাদ, ফারুক আহমেদ, সাইফুল ইসলাম রহীম, এডভোকেট মোর্শেদা জামান কাকন ও এম. আলমগীর ইতিমধ্যেই দেশে গিয়ে জোর লবিং চালাচ্ছেন।
সর্বশেষ আপডেট ( সোমবার, ০৭ জুলাই ২০১৪ )