বাংলাদেশ দূতাবাসে "এম্বাসি নাইট" অনুষ্ঠিত
নিউজ-বাংলা ডেস্ক   
বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৩

ওয়াশিংটনস্থ জাতীয়  প্রেস ক্লাবের সহযোগিতায়  বাংলাদেশ দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু  মিলনায়তনে আজ প্রথমবারের মত "এম্বাসি নাইট" আয়োজন করা হয়। জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্টসহ যুক্তরাষ্ট্রের এবং আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমের খ্যাতনামা সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীগণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব আকরামুল কাদের অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ।

 

আগত অতিথিগণকে স্বাগত জানিয়ে জনাব আকরামুল কাদের  তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী অগ্রযাত্রার  চিত্র তুলে ধরেন । তিনি বলেন, বিগত চার দশকে বাংলাদেশ রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক  ক্ষেত্রে যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে তা কেবল স্বাধীনতা  পরবর্তীকালে বাংলাদেশের ভঙ্গুর ভবিষ্যৎ নিয়ে কতিপয় মহলের অমূলক আশঙ্কাকেই মিথ্যা প্রমান করেনি, বরং বাংলাদেশ-কে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে, যেখানে আজ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য একটি 'রোল মডেল' হিসেবে গন্য করা হয় । নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য উদীয়মান দেশসমুহের সাথে বাংলাদেশের উন্নয়নের তফাত হল, বাংলাদেশ টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানব উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একটি ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে । জনাব কাদের গণতন্ত্রের পথে এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এই সাফল্যের পেছনে দেশটির সচেতন সুশীল সমাজ, প্রধানত স্বাধীন গনমাধ্যমের অবদানের কথা স্বীকার করে বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণে বর্তমান সরকার যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করেছে।

 

রাষ্ট্রদূত কাদের  এসময় স্বাধীনতার ৪২ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া  শুরুর প্রসঙ্গে বলেন, এটি  কেবল আওয়ামী লীগ-এর নির্বাচনী  প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দণ্ডমুক্তির  সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে  সমাজে ন্যয়বিচার প্রতিষ্ঠাই এর মূল লক্ষ্য । তিনি আন্তর্জাতিক  অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিধিসমূহের বিবরণ দিয়ে বলেন, বিচার  প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ, ন্যয়সঙ্গত এবং আন্তর্জাতিক  মানসম্মত হয়, তা যথাযথভাবে  নিশ্চিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত এরপর বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে চলমান অচলাবস্থা এবং তা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরন্তর ও আন্তরিক উদ্যোগসমূহের বিষয়ে আলোকপাত করেন । তিনি এসময় জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলকে বারংবার সংলাপ-এর জন্য আমন্ত্রন জানানো সত্ত্বেও দুঃখজনক ভাবে বিরোধীদল তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং সংলাপে অংশ না নিয়ে তাঁরা ক্রমাগত হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচী দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যাচ্ছে ।

 

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে-কে 'অংশিদারিত্বের' সম্পর্ক  হিসেবে চিহ্নিত করে রাষ্ট্রদূত কাদের বলেন, উভয় রাষ্ট্রই একে অপরের প্রয়োজন ও  দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক  ও অন্যান্য ক্ষেত্রে পারস্পরিকভাবে  লাভবান হতে পারে । যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যকার বানিজ্য সম্পর্ক বিষয়ে জনাব কাদের বলেন, যেখানে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে প্রতিবছর প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি শুল্ক প্রদান করে থাকে সেখানে বাংলাদেশকে জি এস পি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিশ্চয়ই আলোচনার অবকাশ রাখে । বক্তব্য শেষে রাষ্ট্রদূত কাদের আগত অতিথিগনের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন । প্রশ্নোত্তর পর্বে জনাব কাদের গ্রামীণ ব্যাংক এর ইতিহাস এবং এর সাফল্যে বাংলাদেশ সরকারের অবদান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি এবং সন্ত্রাস ও ধর্মীয় মৌলবাদের মূলোৎপাটনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন ।

 

 জাতীয় প্রেস ক্লাবের  ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব  মায়রন বেলকাইন্ড তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত কাদের কে তার বক্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানান। প্রেস ক্লাব এর প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে এ 'এম্বাসি নাইট' আয়োজন করার জন্য তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন । অনুষ্ঠান শেষে সকলকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার জনাব স্বপন কুমার সাহা ।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিগন  কে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা  হয় ।

সর্বশেষ আপডেট ( সোমবার, ০৭ জুলাই ২০১৪ )