গ্রেটার ওয়াশিংটনে এশিয়ান কাপ ক্রিকেটের জমজমাট আসর
নিউজ-বাংলা ডেস্ক   
বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৩


তারুন্যের উদ্দীপনায়, আনন্দঘন পরিবেশে গত ২০শে অক্টোবর গ্রেটার ওয়াশিংটন পরিসরে অনুষ্ঠিত হল এশিয়ান কাপ ক্রিকেট কাপ টূর্নামেন্ট। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা (বাই) এর আয়োজনে শরতের রিমঝিম রোদ্দুরের সিগ্ধ পরিবেশে সকাল সাড়ে আটটা থেকে দুই পর্বের এই টূর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্বের এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।


 চূড়ান্ত এই পর্বে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত এবং শ্রীলংকার প্রতিনিধিত্বকারী চারটি দল অংশ গ্রহন করে।  ন্স।

প্রতিযোগিতার প্রথম পর্ব-"বাংলাদেশ কাপ" এ  অংশগ্রহন করে স  দূরন্ত টাইগার্স, ডালাস থান্ডার্স, ডুয়াফি টাইগার্স, গর্জন ক্রিকেট ক্লাব, প্রিয় বাংলা, ফন্ট টেক, ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামেলী  । গত ১৩ই  অক্টোবর আট দলের এই "বাংলাদেশ কাপ" টূর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন- দূরন্ত টাইগার্সের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল প্রতিনিধিত্ব করে। 

 ভার্জিনিয়ার লরটনস্থ নিউইটন হাইটস্ পার্ক, ফিল্ড ১ টি-টয়েন্টির আদলে নির্ধারিত ওভারের এই ক্রিকেট ম্যানিয়ায় নক আউট পদ্ধতিতে রাজকীয় অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেটের এই আসর শুরু হয় সকাল সাড়ে আটটায়। রাউন্ড রবীন লীগ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিত্বশীল দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই টূর্নামেন্টে শ্রীলংকা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, বাংলাদেশ গ্রুপ রানার আপ হয়ে  ফাইনালে উর্ত্তীর্ণ হয়।পরে ফাইনালের চূড়ান্ত খেলায় শ্রীলংকা বাংলাদেশ কে হারিয়ে উত্তর আমেরিকাতে দ্বিতীয় বারের মত অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ ক্রিকেট টূর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করে।

 প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে শ্রীলংকা নতুন চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করে। এই টূর্নামেন্টের গ্র্যান্ড স্পন্সর ছিল আইটি ট্রেনিং একাডেমী-ফন্ট টেক এবং অন্যতম স্পন্সর ডঃ ফাইজুল ইসলাম।

 টান টান উত্তেজনার এই ক্রিকেট টূর্নামেন্টের ফাইনালে বাংলাদেশকে চার রানে হারিয়ে শ্রীলংকা চ্যাম্পিয়ন হয়। বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মত রানার আপ হয়। এশিয়ান কাপ টূর্নামেন্টে   আম্পেইয়ারের দায়িত্ব পালন করেন সাইফুল আলম মুকুল। লেগ আম্পেয়ারের দায়িত্বে ছিলেন সাইদ আহমেদ

অনুষ্ঠানে সন্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ওয়াশিংটন ডিসিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার স্বপন কুমার সাহা এবং  সন্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন
বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সেক্রেটারী নিরুপম দেব নাথ, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা (বাই) এর সভাপতি সাজদা সোলায়মান, প্রাক্তন সভাপতি   ইনারা ইসলাম, ডঃ বশির আহমেদ,ধ্রুপদের শওকত খান দীপু,  বিসিসিডিআই  এর সভাপতি শামীম চৌধুরী , প্রিয়বাংলা ইঙ্কের নির্বাহী পরিচালক প্রিয়লাল কর্মকার, একতারা ইঙ্কের পরিচালক শেখ মাওলা মিলন, আরিফুর রহমান স্বপন, ইনাম হক, দেলোয়ার হোসেন, ড বদরুল খান, মোস্তফা হোসাইন মুকুল, মেজর(অব) মোহম্মদ জামিল, ডুয়াফির সভাপতি শাহনাজ শিরীন, সাধারন সম্পদক সাব্রিনা রহমান শর্মী প্রমুখ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।

বাই এর এই ক্রিকেট টূর্নামেন্টকে ঘিরে দ্বিতীয় প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল দেখার মত।


 প্রতিটি খেলার বিরতিতে পীচের রক্ষনাবেক্ষন, উইকেট মার্কিং, স্কোরিং বোর্ড পরিচালনা বেশ দক্ষতার সাথে  সম্পন্ন করেছে  সামী জামিল, শাকিফ , সাদমান, সায়য়ান এবং সাহরিয়াজ।

বাই এর পক্ষে   কামরুল খান লিংকন ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করে। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন বাই এর সাধারন সম্পাদক সফি দেলোয়ার কাজল, সহ সভাপতি রাজীব ভুইয়া, পরিচালক কামাল আহমেদ তুষার, নুরেন চমন, বিপ্লব দত্ত প্রমুখ।

খেলার ধারা বর্ননায় ছিলেন আরিফুর রহমান স্বপন,  কামাল আহমেদ তুষার, শামীম চৌধুরী এবং নাইম রহমান। তাদের প্রাঞ্চল ধারাবর্ননার পাশাপাশি ক্ষনে ক্ষনে ছিল গানের স্পন্দন। বাদ্য বাজিয়ে অনেকেই খুজে ফিরেছে বাড়তি আনন্দ

চারটি দেশের ভাষার গানগুলি ক্রিকেটের পাশাপাশি দর্শক শ্রোতাদের মনে ভিনদেশী সংষ্কৃতির আমেজ তৈরী করে। অনুষ্ঠানে শব্দ নিয়ন্ত্রনে ছিল রবিউল ইসলাম শিশির। খেলা চলাকালে ছোট ছেলে মেয়েরা চার দেশের পতাকা নিয়ে মাঠ প্রদক্ষিন করে এবং নৃত্য করে খেলার আসরে নতুন মাত্রা যুক্ত করে। ফাইনাল খেলার আগে আমেরিকা, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, ভারত এবং পাকিস্তানের জাতীয় সংগীত বাজিয়ে বিশেষ উদ্দীপনার সঞ্চার হয়।

 মাঠে ছিল বারবিকিউ, চটপতি, ঝালমুড়ি, এবং  চায়ের আয়োজন।


খেলা শেষে শ্রীলংকার অধিনয়কের  হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার স্বপন কুমার সাহা, 

বাংলাদেশ দলের হাতে রানার আপ ট্রফি তুলে দেন বাই এর সভাপতি সাজদা সোলায়মান  এবং

বাংলাদেশ কাপের চ্যাম্পিয়ন দূরন্ত টাইগার্স এবং রানার আপ ডালাস থান্ডার্সের প্রতিনিধির হাতে রানার আপ ট্রফি তুলে দেন ডঃ ফাইজুল ইসলাম। 



এ ছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের দলগত এবং ব্যক্তিগত ট্রফি তুলে দেন ফ্রন্ট টেকের প্রতিনিধি। এই খেলাকে কেন্দ্র করে একটি আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেকেই স্বপরিবারে এবং সামাজিক বলয়ে পিকনিকের আমেজে এই খেলা উপভোগ করেন। সব শেষে বাই এর সভাপতির সমাপনী বক্তব্য এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপনের  মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

সর্বশেষ আপডেট ( সোমবার, ০৭ জুলাই ২০১৪ )