নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা
তৈয়বুর রহমান টনি, নিউইর্য়ক   
রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩

 

৫ সিটি কর্পোরেশন  নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিপর্যয় কারণের একটি হচ্ছে মিডিয়া

‘বিগত পৌণে ৫ বছরে বাংলাদেশের অনেক সুনাম অর্জিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থা এ জন্যে বাংলাদেশকে পুরস্কৃতও করেছে। এতদসত্বেও গত ৫ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের বিপর্যয় ঘটার অনেক কারণের একটি হচ্ছে মিডিয়াগুলোর নেতিবাচক প্রচারণা।

মিডিয়ায় আমাদের উন্নয়ন-অগ্রগতির সংবাদ তেমন আসেনা। গত কাল শনিবার বিকাল ৫টায় ২৮ সেপ্টেম্বর  জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করতে এত কালক্ষেপন কেন সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে গপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি নিজেও একজন রাজনীতিক, তাই একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার কথা বলবো কীভাবে। জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপারটি কোর্টে রয়েছে। তারাই সিদ্ধান্ত দেবেন।

 বাংলাদেশের বিচার বিভাগ  এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন, তাই রায় যেটাই হবে সেটি আমরা মেনে নেব।’ সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু স্যাটেলাইট টিভি  টিভি-রেডিওতেও সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রচার ঘটছে না কেন-এমন এক প্রশ্নের অবতারণা করলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের মিডিয়া এখন পুরো স্বাধীনতা ভোগ করছে, মিডিয়ার ওপর সরকারের কোন প্রভাব নেই।

এছাড়া বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো  নেগেটিভ সংবাদকে বেশী গুরুত্ব  দেয়ার কালচার তৈরী করেছে। এটি মিডিয়াগুলোর সাইকোলজিক্যাল  প্রবলেম।’ শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীত্বে রেখে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না বলে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম জিয়া ঘোষণা দিয়েছেন, আপনিও (শেখ হাসিনা) অনড় রয়েছেন যে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করবো-এ অবস্থায় সামনের নির্বাচন নিয়ে সংশয়-সংকট তৈরী হয়েছে। এথেকে উত্তরণের উপায় কি জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিরোধী দলীয় নেতা কী চান তা তিনি স্পষ্ট করে বলতে পারেন। তবে আমি এবং আমরা চাই সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে।

 সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন  করার রীতি চালু করতে  হবে কাউকে না কাউকে, সেটি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট করে দেখাতে চায়।’ তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক বিশ্বে কখনোই কোন পার্লামেন্ট বাতিল করে নির্বাচন করা হয় না। আমরা পারবো না কেন? গত পৌণে ৫ বছরে ৬ হাজার ৭৭৭টি নির্বাচন হয়েছে।

প্রতিটিতেই বিএনপি সমর্থিত  প্রার্থীও ছিলেন। কখনোই  তারা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেননি। অর্থাৎ বর্তমান  নির্বাচন কমিশনের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব-এটি  আজ প্রতিষ্ঠিত।’

টিভি টক শো এবং অন্যান্য মিডিয়ায় সুশীল সমাজ বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যেকার মতবিরোধের কারণে  আবারো সংঘাতময় পথে এগুচ্ছে  বাংলাদেশ-এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা এসব কথা বলছেন তারা সকলেই আগে সরকারী অথবা আধা সরকারী প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদে ছিলেন। সে সময় তারা কে কী করেছেন সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।’ সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হলে সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে, আর তা না ঘটলে সংকট দেখা দিতে পারে বাংলাদেশে।

 সে ক্ষেত্রে তিনি  আবার গাড়িতে পতাকা উড়াতে  পারবেন। সে আশা পূরণ  হচ্ছে না ভেবে এখন হা-হুতাশ  করছেন ঐ সম্পাদক। এ  কথা বলেন শেখ হাসিনা।  তিনি আরো বলেন, ‘যারা বড় বড় কথা বলছেন, পরামর্শক সেজেছেন, তারা সকলেই চাচ্ছেন দেশ আবার সংকটে আবর্তিত হউক এবং তাহলেই তাদের গুরুত্ব বাড়বে।’ টক শো’র অতিথি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিজেদের অতীত ভালো করে বিশ্লেষণ করে দেখে তারা যদি চুপ থাকেন তাহলে সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।’ তিনি বলেন, জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে পুনরায় বাংলাদেশকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়ার অপচেষ্টা চলছে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ  হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়া যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে না দাঁড়ান, তাহলে সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে খুব সহজে। বিরোধী দলীয় নেতা ভাবছেন যে, জামাত-শিবির আর হেফাজতের মদদে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেই ওনাদের দুয়ার খুলে যাবে। কিন্তু তা কখনোই ঘটবে না।

যারা ক্ষমতা নেবে তারা একাত্তরের  মানবতাবিরোধী অপরাধীদের  চেয়েও জঘন্য অপকর্মে লিপ্ত  হবে। বাংলাদেশ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারী (প্রেস) মামুন-অর রশীদের সঞ্চালনে এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্হিত ছিলেন পরাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ দিপু মনি, স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ড. এ কে এ মোমেন বলেন, ‘আজ জাতিসংঘ মহাসচিবের সাথে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক হয়েছে।

 সে সময় মহাসচিব বান  কি-মুন জানান যে, শীঘ্রই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আরো এক ব্যাটেলিয়ন সৈন্য নেয়া হবে বাংলাদেশ থেকে। এটি বাংলাদেশের জন্যে অনেক বড় একটি সংবাদ। উল্লেখ্য, এখনই বাংলাদেশ হচ্ছে সর্বাধিক সৈন্য সরবরাহকারী রাষ্ট্র।

সর্বশেষ আপডেট ( সোমবার, ০৭ জুলাই ২০১৪ )