মূলপাতা arrow খবর arrow প্রবাস arrow সুরবিতানের সাফল্য গাথা রূপবানের জমজমাট আসর
সুরবিতানের সাফল্য গাথা রূপবানের জমজমাট আসর প্রিন্ট কর
নিউজ-বাংলা ডট কম   
মঙ্গলবার, ২৮ আগস্ট ২০১২

 

গত ২৫শে আগষ্ট শনিবার বাংলাদেশ থেকে সাত সমূদ্র দূরে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াতে অনুষ্ঠিত হল লোকজ আঙ্গিকে রচিত আবহমান বাংলার চিরায়ত ' রূপবান' পালার সফল মঞ্চায়ন। মেট্রো ওয়াশিংটনের পরিচিত সাংষ্কৃতিক কর্মী এবং সংগীত শিল্পী বুলবুল আক্তারের পরিচালনায় এবং সুরবিতানের পরিবেশনায় আলেকজান্দ্রিয়াস্থ প্যাট্রিক হেনরী এলিমেন্টারী স্কুলে গ্রাম বাংলার এই লোকজ গল্পগাথায় অংশ গ্রহন করে রি প্রবাসে দ্বিতীয় প্রজন্মের কিশোর-কিশোরীরা।

  

উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে আনন্দঘন পরিবেশে স্বচ্ছন্দ গতিতে সৌখিন  কুশীলবদের দারুন অভিনয়ে প্রান পায় এই যাত্রা পালার মঞ্চ।  লোকজও সাংষ্কৃতি বাংলার সম্পদ, বাংলাদেশের  মাটি এবং মানুষের হৃদয় থেকে উঠে এসেছে, যাত্রা বাঙালির আদি সংস্কৃতি, নিজস্ব সম্পদ। বাংলাদেশের মুলধারাতে এই লোকজ সংষ্কৃতির প্রভাব অনেকটাই লুপ্ত হলেও গ্রেটার ওয়াশিংটনে এই লোকজ সাংষ্কৃতি নিয়ে কাজ করছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। সুরবিতান তাদের মধ্যে অন্যতম। ২০১০ সালে বেহুলা লক্ষিন্দরের সফল মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে লোক নাট্য পালাতে তাদের হাতে খড়ি। এবার তারা মঞ্চে আলোকিত করল রূপবান। উল্লেখ্য যে রূপবান বাংলাদেশের সাংষ্কৃতিক অংগনে একটি  মাইল ফলক।  ১৯৬৫ সালে  উর্দু ছায়াছবির আধিপত্যের যুগে রূপবান ছিল একটি বিপ্লবের নাম। এরপর থেকেই  বাংলার লোকজ গাথা বাংলা চলচিত্রে একটি বিশেষ জায়গা করে নেয়।
 
 জনপ্রিয় রূপবান বিভিন্ন আংগিকে বারবার উপস্থাপিত হয়েছে বাংলার জনপদে । সালাউদ্দিন পরিচালিত সেই রূপবানের আলোক ছটা প্রায় অর্ধ শতাব্দী পরে  ওয়াশিংটনের প্রবাসে বাংগালী সংষ্কৃতির মঞ্চ আলোকিত করলো।  আর এই লোকজ পালা টিকে প্রবাসী বাংগালীরাও দারুন উপলব্ধিতে গ্রহন করল। আর এখানেই সুরবিতানের সার্থকতা।



রূপবানের কাহিনী গড়ে উঠেছে অসম প্রেমের কাহিনী নিয়ে। দরবেশের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে বাদশা তার ১২ দিন বয়সের ছেলে রহিমের সাথে  সাথে ১২ বছরের কন্যা রূপবানের   বিয়ে দিয়ে  বনবাসে পাঠিয়ে দেন। রূপবান বনে জংগলে নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে শিশু স্বামীকে বড় করে তোলে।



স্বামী রহিম বড় হয়ে তাজেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়াস  পায়।



কিন্তু রূপবান তার ত্যাগ আর ভালবাসার মহিমা দিয়ে রহিমকে জয় করে রাজ  প্রাসাদে ফিরে আসে। নৃত্য আর গীতের মধ্য দিয়ে এই লোক গাথার কাহিনী এগিয়ে চলে মানুষের মনের আংগিনায়।

প্রবাসের দ্বিতীয় প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের নিয়ে এই প্রয়াসে রূপবান চরিত্রে অভিনয় করে মরিয়ম এবং রহিম চরিত্রে অভিনয় করে আকিব। তাজেল চরিত্রে অভিনয় করে পিরু। প্রবাসের ভিন্ন পরিবেশে বেড়ে উঠা এই কিশোর-কিশোরীরা বাংলা তেমন না বুঝলেও অভিব্যক্তি দিয়ে সকলে দারুন অভিনয় করে।

রাত আটটায় অনুষ্ঠানের পর্দা উন্মোচন হয়। অনুষ্ঠান ঘোষনায় ছিলেন ভয়েস অব আমেরিকার কথা সাংবাদিক আনিস আহমেদ। প্রথম পর্ব সাজানো হয় নাচ এবং ফ্যাশন শো দিয়ে।



নাচে অংশ গ্রহন করে ম্যারীল্যান্ডের ক্ষুদে নৃত্য শিল্পী  মনিষা, পিটার, সেন্ড্রা, এঞ্জেলিনা, রিতি, এমা, এলিননা, বার্নাডেট, শিথিল এবং তানহা।  এরপর মঞ্চে আসে রঙ্ তুলির শিল্পীবৃন্দ।

এই পর্বে নৃত্যে অংশ গ্রহন করে  পূর্নি , নিশি ,  এ্যানি ,  নিশি , আকাশ  , অয়ন  , দিবাকর  , রূপন্তী, ইশাক, ও লিটু।  তাদের মন ভোলানো নৃত্য সকলকে আনন্দ দেয়। ফ্যাশন শো দিয়ে এই পর্বের সমাপ্তি ঘটে।



 ফ্যাশন শোতে অংশ গ্রহন করে মরিয়ম, তাসনুবা,  তানহা, শিথীল, পিয়ু, মিম, হাসনা, ফারা, ওরমানা, রিতিকা,  মারবি,   তিসা, সারিকা,  আকন্দ,  ইশাক আকিব,তাজ, ডেমিয়েন, শিথিল, স্বপনা, মিনহাজ, মুকুট, নাহিদ, জিওন, নিরব, সাওন, আদনান, জিসান,  আইরিন, নওরিন,  তাসিন, অপূর্ব, শিশির, রূপন্তন, অবন্তকা, সায়মা, আইরিন, নওরিন, রাসেল, ফারিহা, রূপন্তী, নুহা, ও সায়মা।



মূল আকর্ষন রূপবান শুরুর আগে আনিস আহমেদ সংষ্কৃতিক কর্মী দম্পতি কামরুল ইসলাম কামাল এবং বুলবুল আক্তারকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। বুলবুল আক্তার এই সময় অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এই সময় অনুষ্ঠান সংলিষ্ট সকলকে এবং অনুষ্ঠানের স্পন্সরদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় মঞ্চে পরিবেশিত এই রূপবান পালার গ্রন্থনা এবং সম্পাদনা কারক শাহ হাবিবুর রহমান সহ সংলিষ্ট সকলকে সাথে অনুষ্ঠানের স্পন্সরদের।


রাত সোয়া ৯টায় শুরু হয় আলোচিত যাত্রা পালা রূপবান।  প্রায় সোয়া ঘন্টার এই  যাত্রা পালা দর্শকশ্রোতারা দারুন পছন্দ করে। বিপুল করতালিতে তারা তাদের মনের এই উচ্ছ্বাস বারবার প্রকাশ করে।  রূপবান এই যাত্রা পালায় মরিয়ম (রূপবান), আকিব (রহিম) পিরু (তাজেল) ছাড়াও আরো অভিনয় করে  সালাউদীন আকন্দ ( একাব্বর বাদশা) ,    তাজ ( শিশু রহিম) ,   ডেমিয়েন ডায়েস   (উজির এবং জংলি সর্দা),  স্বপনা (মাসী) , অন্যান্য চরিত্র শিথিল, তানহা, মিনহাজ, মুকুট, নাহিদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে শব্দ ব্যবস্থাপনায় ছিলেন জামিল খান, সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বয়ক কামরুল ইসলাম কামাল।

নাটক শেষে নিউজ-বাংলার প্রতিনিধির কাছে জনাব কামাল রূপবানের সাফল্যের জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন কোন কোটারী ভুক্ত নয় সুরবিতান সকলকে নিয়ে কাজ করছে। তিনি এই নাটক মঞ্চাতনে সকলের সহযোগিতা পেয়েছেন বলে জানালেন। আগামীতেও তিনি এই প্রয়াস অব্যাহত রাখবেন। তিনি বলেন সুরবিতান দুই বছরে একটি করে লোকজ নাট্য উপহার দেবার পরিকল্পনা রইয়েছে। আগামী ২০১৪ সালে এমনি কোন জনপ্রিয় লোক গাথা নিয়ে সুরবিতান গ্রেটার ওয়াশিংটন প্রবাসীদের সামনে উপস্থিত হবার আশা রাখছেন।

সর্বশেষ আপডেট ( শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১২ )
 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >
Free Joomla Templates