মূলপাতা arrow খবর arrow ঈদের আনন্দের সবটুকুই ধনীরা লুফে নেয়।
ঈদের আনন্দের সবটুকুই ধনীরা লুফে নেয়। প্রিন্ট কর
মাহফজ মোহন   
শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১২
ঈদের আনন্দে শামিল হতে রোজার মাসের শুরু থেকেই বিত্তবানরা নানা ধরনের কেনাকাটায় ব্যস্ত আছেন। অথচ এই গরিব দেশে চারপাশে আমরা কী দেখছি? ত্যাগ ছেড়ে, আত্মশুদ্ধির পথ ছেড়ে বস্তুমোহে, বিলাসী জীবনে গা ভাসিয়ে দেয়ার মহোৎসব যেন চলে রোজা-ঈদ মৌসুমে।

 রোজা ও ঈদের আনন্দ মুষ্টিমেয় ভাগ্যবান বিত্তবানরাই দুহাতে লুফে নিচ্ছে। এ কেমন ত্যাগ, এটাই সংযম আমাদের? মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকারের মধ্যে মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য সামান্য জায়গা থাকা সভ্য দেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। রাষ্ট্রকে যখন গণপ্রজাতন্ত্রী বলা হয় সেই রাষ্ট্রের জনগণের বৃহৎ একটি অংশের এতোটুকু মাথা গোঁজার বাসস্থান থাকবে নাÑ তা তো রাষ্ট্রের সংবিধান ও সরকারের শপথের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি বিষয়।

  অবর্ণনীয় কষ্টে দিনাতিপাত করতে বাধ্য হওয়া আইলা-সিডর দুর্গত, নদীভাঙনে গৃহহারা, ছিন্নমূল পথশিশুদের দিকে এই ঈদে একটু নজর দিন। তাদের প্রয়োজন পূরণ করুন। সুখে-দুঃখে সমব্যথী হোন। এই মানবিক দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্র, বিদ্বান-বিত্তবান সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।

 হাজারো রকমের যন্ত্রণা নিষ্পেষণে-বৈষম্যে কোটি মানুষের স্বাভাবিক জীবন চলার পথ আজ রুদ্ধ। শক্তিমান-বিত্তবানদের দাপটে-উপহাসে গরিব মানুষগুলোর চোখে-মুখে আজ হাসি নেই। এদের আনন্দ-খুশি কেড়ে নেয়া হচ্ছে। লাখ দেড় লাখ টাকা দামের হাজারো লেহেঙ্গা এই ঈদে ধনীরা প্রতিদিনই হজম করে নিচ্ছে, ঈদকে বিলাস জীবনের অনিবার্য অনুষঙ্গ হিসেবে ধরে নিয়ে বাহারি পণ্য ক্রয়ের উৎসবে ধনীরা মেতে আছে মাসজুড়ে। অথচ তার আশপাশের শত শত গরিব অভাবী মানুষ নিজ স্ত্রীর জন্য এখনো শতিনশ টাকা দামের একটি শাড়ি,
 নিজের জন্য একটি সাধারণ লুঙ্গি, বাচ্চাদের জন্য কম দামের প্যান্ট-শার্ট কেনার সামর্থ্যও রাখে না।

 লাখ-দুলাখ টাকার বাজেট নিয়ে কোমর বেঁধে নেমে ঈদের আনন্দের সবটুকুই ধনীরা লুফে নেয়। অন্যদিকে গরিব মানুষরা এই ঈদে জনপ্রতি একটি নিম্নমানের পোশাকও কিনতে পারে না। দারিদ্র্যের সীমাহীন কশাঘাতে ওরা জর্জরিত। ওরা বিপন্ন। ওরা অধিকার হারা। তবুও এই অভাবী দুস্থ মানুষের দিকে ধনীদের সহানুভূতির দৃষ্টি পড়ে না। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকা, ভোগ-বিলাসে ডুবে থাকার নামই কী রোজার সংযম, ঈদের চেতনা ও শিক্ষা?

সর্বশেষ আপডেট ( শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১২ )
 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >
Free Joomla Templates