মূলপাতা arrow লেখালেখি arrow মতামত arrow মায়ানমারের অমানবিকতা
মায়ানমারের অমানবিকতা প্রিন্ট কর
স্বাধীন মাহফুজ মোহন, নিউইয়র্ক   
বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১২

মায়ানমারে মুসলিম নিধন এটা বিশ্ব দেখে না - নিন্দা করতে ও ভয় পাচ্ছে কি মুসলিম বিশ্ব ? মায়ানমারের মুসলিমদের কে মানুষ হিসাবে গণ্য করে তাদের পাশে দাড়ানো ছাড়া এদের রক্ষা করা সম্ভব নয়।

আসমা , হাবিবা , কাহির , এনায়েত , তাদের মা আদিবা , এরা পালিয়ে যেতে চাচ্ছিল , কিন্তু পথে তাদের গতি রোধ করে লাল কাপড় পরা  গৌতম বুদ্ধের অনুসারী  কয়েকজন বুদ্ধ  । কাহির , এনায়েত , তাদের মা আদিবাকে  তাদের সামনে কুপিয়ে হত্যা করে । আসমা , হাবিবাকে নিয়ে যায় একটি পেগডার কাছে , ধর্ষণ করে , তার পর এক এক করে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলে , একজন মুসলিম  প্রতিবাদী যুবক আড়াল থেকে দেখে আর কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে ।

একটি উদাহরণ , এমন হাজার হাজার ঘটনা প্রতিদিন করে যাচ্ছে অহিংস ধর্ম প্রচার কারী গৌতম বুদ্ধের লোক । মসজিদ , মুসলিমদের ঘরবাড়ি সব পুড়িয়ে দিতেছে , আর নোবেল বিজয়ে সূচী এখন বিদেশে নিজের চামড়া নিয়ে চেহারা আর নির্লজ্জের মত মিটিং করে যাচ্ছেন ----- প্রশ্ন জাগে এই সব সূচীর কি মুসলিম দের শত্রু ? এরা কি শুধু  মুসলিম নিধনের কাজের জন্যে আগাম নোবেল পায় ?

আরিফ , হাবিউর , জামিল রহমান , এরা নিজের এলাকায় প্রতিরুধ করার চেষ্টা করে - কিন্তু মায়ানমার সেনা বাহিনী তাদের কে ধরে নিয়ে একটি বাজার প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে !! বিদেশী একটা মিডিয়া ও কিছু লিখলো না , এরা আজ কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেধে রেখেছে আর খুঁজে বেড়ায় কি করে মুসলিমদের সন্ত্রাসী  বানানো যায় ।

একটি উদ্বাস্ত তাবুতে কথা হয় রহিমার সাথে - সে তার পরিবারের ১০ জন কে হারিয়ে এখন নিজে একা । এর পর আর কথা বলতে পারেনি রহিমা ।এমন হাজার হাজার রহিমা আজ ঘর বাড়ি ছাড়া ।

আজ বিশ্বের বিবেক মরে গেছে , এরা আছে যেখানে তেল , সোনা পাবে সেই সব দেশ গ্রাস করে তাদের সাম্রাজ্য  বাদী লেলোপ কাজটি নিয়ে , আর মুসলিম বিশ্ব আছে তাদের তাবেদারী করে কি করে ক্ষমতায় থাকতে পারে ।কিন্তু এরা কি জানেন না ব্রিটিশ আর মার্কিনিদের যখন রক্ত চুষা শেষ তখন তারা  ওই সব নেতাদের হত্যা করে   নিজের দেশের জনগনকে দিয়ে ।
 শুধু মুসলমান নয়, পৃথিবীর অগণিত মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। পশ্চিমের গনমাধ্যমগুলোকে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। বাধ্য করতে হবে এই সব অনাচার , হত্যা  বন্ধ করতে । মানবতাকামী সব মানুষকে আজ বলতে হবে জাতি আর সম্প্রদায় নয়, মানবিক বোধ থেকেই উচ্চারণ করতে হবে মিয়ানমারে শান্তির কথা, হত্যাযজ্ঞ বন্ধের কথা।আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকেই রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়েও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। বাধ্য করতে হবে সুচির মত নোবেল বিজয়ে নাচরত মানুষদের  এ দাবি শুধু মুসলমানদের নয়, এ আবেদন মানবতার। সারা পৃথিবীর।সকল মানুষ কে বলতে হবে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করো ।
একটি দেশের মানুষ কে নিয়ে চিন্তা না করে তাদের কে দেখতে হবে মানুষ আর মানবতার দৃষ্টিতে । মায়ানমারে      বুদ্ধরা যত খুশি সন্তান জন্ম দিতে পারে , কিন্তু মায়ানমারে মুসলিমরা দুইটার বেশি সন্তান জন্ম দিতে পারবে না -- এটা কিসের নীতি ? এটা কি মানবতা ?  নিজের ভূমিকে তারা নিজের নামে কাগজ করতে পারেনা - এটা কি অহিংস নীতি ? কিসের জন্যে সুচির মত নির্মম আর মানবতা লাঞ্চিত কারী মানুষ নোবেল পায় সেটা এখন বিবেচ্য ।

জাতি সংঘকে বাধ্য করতে হবে এই সব নির্যাতিত মায়ানমার মুসলিম কে রক্ষার বিষিয়ে । নিরপেক্ষ ভাবে মুসলিম দেশ সমূহ এক হয়ে   চাপ দিতে হবে সকল  পশ্চিমা মানবতার লেবাসের দাঙ্গা সৃষ্টি কারী দেশ গুলোকে। 

স্বাধীন মাহফুজ মোহন (আমেরিকা থেকে )

 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >
Free Joomla Templates