|
 ৮০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়বাবহ খরা চলছে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে । যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬২ শতাংশ এলাকা এবার খরায় আক্রান্ত হয়েছে। তার পরিণতিতে যুক্তরাষ্ট্রের শস্যভান্ডার বলে পরিচিত মধ্যাঞ্চলে ধান, গম, ভুট্টা, যব, ইক্ষু ও সয়াবিন জাতীয় ফসলের ক্ষেত শুকিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে.
বিশেষত ভুট্টা ও সয়াবিনের ফলন হ্রাস পেয়েছে ভয়াবহ রকম। করার কারনে এ মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন বুশেল লক্ষ্য মাত্রার বিপরীতে ১০ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন বুশেল ভুট্টা উৎপাদন হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি রাজ্যের এই তীব্র খরায় প্রভাবে পুরো খাদ্যচক্রকে বাধাগ্রস্ত করবে। এরই প্রতিক্রিয়াতে ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য সামগ্রীর মূল্য ছয় শতাংশ বৃদ্ধির পাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদেরা বলেছেন, মাংস থেকে শুরু করে সব ধরনের শস্যজাত পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যপণ্যের মূল্যও ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা চার শতাংশ অতিক্রম করতে পারে সামনের বছর। বাজার বিশ্লেষকদের মতে ২০১১ সালে ভারত ও চীনের মতো বিকাশমান দেশগুলোয় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের যেমন মূল্যস্ফীতি ঘটেছিল, খরার কারণে ২০১৩ সালেও তেমন পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে। খরার কারনে উৎপাদন কমে যাওয়ায় খাদ্যপণ্যের মূল্য কিছূটা বাড়বে। যেহেতু খরা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেহেতু এর ধাক্কা ক্রমেই খাদ্যপণ্যের ওপর পড়বে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর বাজার বিশ্লেষকদের মতে পশুখাদ্য হিসেবে ভুট্টা ও যবের মতো শস্যের ব্যবহার রয়েছে, সেহেতু খুচরা দোকানগুলোয় মাংসের মূল্যের ওপরও ইতিমধ্যে কিছুটা প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। হাঁস-মুরগির পোলট্রি শিল্পেও খরার প্রভাব পড়বে। উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার প্রভাব আটা-ময়দায় তৈরি রুটি, কেক, পাস্তা, এমনকি চা-কফির ওপর গিয়ে পড়ছে। খাদ্যপণ্যের মূল্যের ওপর খরার প্রভাব এখনো সরাসরি সেভাবে অনুভূত হচ্ছে না। তবে আস্তে আস্তে খরার প্রভাব আঁচ করতে শুরু করেছে এবং তারা মূল্যবৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সব খাদ্য উৎপাদক এ মুহূর্তেই খরার মাশুল ভোক্তাদের ওপর ফেলতে চাচ্ছে না । তবে অন্যতম খাদ্যপণ্য প্রতিষ্ঠান টিম হর্টনস গত সপ্তাহে নির্দিষ্ট কিছু রুটি জাতীয় খাদ্যের মূল্য কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর কারণ হিসেবে টিম হর্টনস পরিচালনা ব্যয় ও কিছু প্রয়োজনীয় উপাদানের মূল্য বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করছে। কফি অ্যান্ড ডোনাটস চেইন বলছে, মাফিন পাঁচ সেন্ট এবং স্যান্ডউইচ ১০ সেন্ট বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। ম্যাপল লিফ ফুডসের প্রেসিডেন্ট এবং সিইও মাইকেল ম্যাককেইন সতর্ক করে গত সপ্তাহে জানান, প্রস্তুতকারীদের খাবারদাবারের মূল্য বৃদ্ধি করা অত্যাবশক হয়ে উঠেছে। তবে তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রভাব চলতি বছরের শেষ দিকে ভোক্তাদের ওপর সরাসরি গিয়ে পড়বে। তিনি বলেন, তাঁর ভাষায়, আমরা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না খরার কারণে শস্য উৎপাদনের পরিমান ঠিক কতটা কম হবে। গ্রীষ্মের মাঝামাঝি একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রধান প্রধান খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, যারা আটা ও চিনির ওপর বেশি নির্ভরশীল, তারা খরার কারণে বেশি সমস্যায় পড়বে। এর প্রভাব ক্রমেই খুচরা বাজারে গিয়ে পড়বে। তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারের কারণে এখন পর্যন্ত নিত্যপণ্যের ভোক্তারা চলমান তীব্র খরার প্রভাব সেভাবে অনুভব করতে পারছে না। কানাডার লবল, মেট্রো এবং সবেস তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। আর অন্টারিওর শপারস ড্রাগমার্ট, ওয়ালমার্ট ইতিমধ্যেই তাদের খাদ্যজাত পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। |