| নিউজার্সীতে বিএনপি এবং আওয়ামীলীগের নতুন কমিটি নিয়ে দৌড়ঝাপ |
|
| আকবর হোসাইন, এবিএম নিউজ | |
| মঙ্গলবার, ০৭ আগস্ট ২০১২ | |
|
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি অব নিউজার্সী এবং সাউথজার্সী আওয়ামীলীগের নতুন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ নেওয়ার জন্য নেতৃবৃন্দের দৌড়ঝাপ বৃদ্দি পেয়েছে। আটলান্টিক সিটি ভিত্তিক দুইটি রাজনৈতিক দলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সিটিতে বিরাজ করছে একটু ভিন্ন আমেজের রাজনৈতিক পরিস্থিতি।যুক্ত্ররাষ্ট্রের বিভিন্ন সিটি এবং ষ্টেটে যে সকল বাংলাদেশীরা রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত তাদের অধিকাংশই রাজনীতি করেন তাদের প্রিয় নেতা,নেত্রী এবং দলকে ভালবেসে।বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মত কিছু পাওয়ার আশায় সাধারণত প্রবাসীরা রাজনীতি করেন না।বিএনপি এবং আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে বিশেষ করে যুক্ত্ররাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের কমিটি সমূহ দলের সংকটময় মুহুর্তে লবিং গ্রুপ হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ক্ষমতায় আসার পর কোন দলের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কখনও এই দুই দলের প্রবাসী নেতৃবৃন্দকে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে বিবেচনা করেন না।বিএনপি এবং আওয়ামীলীগের যুক্ত্ররাষ্ট্র কেন্দ্রীয় কমিটি যেখানে রাজনীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে না সেখানে বিভিন্ন ষ্টেটের কমিটির গুরুত্ব কতটুকু তা নিঃসন্দেহে প্রশ্নাতীত।তারপরও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়া অসংখ্য প্রবাসীর রাজনীতিবিদদের স্বপ্ন।এই স্বপ্নকে বাস্তব রুপ দেয়ার জন্য ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের মাঝেও নিরলসভাবে অর্থ এবং শ্রম ব্যয় করে যাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। দুইটি দলের কমিটিতে আসার জন্য স্হানীয়ভাবে গণ সংযোগের পাশাপাশি চলছে যুক্ত্ররাষ্ট্রের এবং বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ।কেন্দ্রীয় কমিটির দিক নির্দেশনা এবং তাদের পছন্দের লোককে কমিটিতে রাখার জন্য প্রতিনিয়ত অনুরোধ আসছে আহবায়ক কমিটির কাছে।আহবায়ক কমিটি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মতামতকে গুরুত্ব দিবেন নাকি স্হানীয় রাজনীতিতে নেতাদের অবদানকে গুরুত্ব দিবেন তা নিয়ে বিব্রতকর অবস্হায় রয়েছেন ।কমিটির গঠন প্রক্রিয়ার সময় যত কমে আসছে দুইটি দলের মধ্যে মেরুকরন ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে।নিউজার্সী বিএনপির কমিটি গঠন প্রক্রিয়া স্হানীয় প্রবাসীদের কাছে সহজ মনে হলেও বর্তমানে এই প্রক্রিয়া এতই জটিলতার দিকে যাচ্ছে যে শেষ পর্যন্ত হয়ত নেতা-কর্মীদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করতে হবে।নিউজার্সী বিএনপির প্রাক্তন কমিটি গঠনের সময় সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন মাহবুবুর রহমান চুন্নু এবং সৈয়দ মোঃ কাউছার।বয়স এবং সিনিয়ারিটি বিবেচনা করে সমঝোতার মাধ্যমে মাহবুবুর রহমান চুন্নুকে সভাপতি পদ দেওয়া হয়।তাদের সুশৃংখল নেতৃত্বে নিউজার্সী বিএনপিতে রাজনীতির একটি সুস্থ ধারাবাহিকতা সৃষ্টি হয়েছে।প্রাক্তন সভাপতি মনে করছেন এই ধারাকে অব্যহত রাখার জন্য তিনি আবারও সভাপতি পদে থেকে যাওয়া উচিত যার কারনে এই পদ থেকে সরে দাড়ানো এবং পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিয়ে তিনি নিজেও এখনও পর্যন্ত সংশয়ে রয়েছেন।এদিকে সাউথজার্সীর রাজনীতির অন্যতম প্রিয়মুখ সৈয়দ মোঃ কাউছার সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়ে তার দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য বদ্ধ পরিকর।দলীয় নেতা কর্মীরা নতুন নেতৃত্বকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানা যায়।অধিকাংশ নেতা-কর্মী মনে করছেন পূর্বের কমিটি গঠনের সময় সৈয়দ মোঃ কাউছার যেভাবে প্রাক্তন সভাপতিকে সম্মান দেখিয়েছিলেন দলীয় স্বার্থে মাহবুবুর রহমান চুন্নুকেও বর্তমানে তাই করা উচিত।তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্দান্ত নিতে পারেন তিনি নিজেই।সাধারন সম্পাদক পদ নিয়ে চলছে নানা রকম গুঞ্জন।এই পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী এম রহমান বাবুলের রয়েছে ক্লিন ইমেজ এবং গত দুই বছরের সাংগঠনিক কর্মকান্ড।অন্য দিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী শামসুদ্দিন মাহমুদ গত দুই বছর বিএনপির দলীয় সাংগঠনিক কর্মকান্ডের সাথে খুব বেশি সম্পৃক্ত না থাকলেও স্হানীয় সংগঠনের কর্মকান্ডে তিনি ছিলেন সক্রিয়।স্হানীয় রাজনীতিতে তার কিছুটা ইমেজ সংকট থাকলেও যুক্ত্ররাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে রয়েছে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ।যুক্ত্ররাষ্ট্র বিএনপির কোন কমিটি না থাকলেও প্রাক্তন নেতৃবৃন্দ বিভিন্নভাবে তাদের বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।তবে একাধিক নেতৃবৃন্দ কমিটি গঠনের ক্ষেএে কোন হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।বর্তমান পরিস্হিতিতে সাধারন সম্পাদক নির্বাচনে বেশি ঘাম ঝরাতে হবে আহবায়ক কমিটিকে এমনটিই মনে করছেন বিএনপির নেতা কর্মীরা। বিএনপির মত আওয়ামীলীগের কমিটি গঠনেও দেখা দিয়েছে নানাবিধ সমস্যা।কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্হানীয় আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা বর্তমানে চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আছে।চারটি গ্রুপকে একএিত করে নতুন কমিটি উপহার দেয়া খুবই কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে আওয়ামীলীগ আহবায়ক কমিটির।সভাপতি পদে একাধিক প্রার্থী থাকলেও ইমেজ সমস্যার কারনে সভাপতি পদে কে আসবেন তা নিয়ে চলছে নানা বির্তক।নেতা-কর্মীরা এই পদে ক্লিন ইমেজের অধিকারী একজন শিক্ষিত এবং সন্মানীত ব্যক্তিকে দেখতে চায়। রাজনীতিতে মতভেদ থাকবে এটাই স্বাভাবিক।কিন্ত এই মতভেদ যাতে বিরোধের জন্ম না নেয় তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব নেতা কর্মীদের পাশাপাশি আহবায়ক কমিটিরও।সুন্দর মনের অধিকারী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ পদে আসবেন এটাই সাউথজার্সীবাসীর সবার প্রত্যাশা। |
|
| সর্বশেষ আপডেট ( শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১২ ) |
| < পূর্বে | পরে > |
|---|