মূলপাতা arrow খবর arrow প্রবাস arrow তাজউদ্দীন আহমদের স্বদেশভাবনা
তাজউদ্দীন আহমদের স্বদেশভাবনা প্রিন্ট কর
আনিসুজ্জামান   
শুক্রবার, ২৭ জুলাই ২০১২

তাজউদ্দীন আহমদ (২৩ জুলাই ১৯২৫-৩ নভেম্বর ১৯৭৫)


তাজউদ্দীন আহমদ, ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী , তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরিচালক। তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন পরিণত সমাজভাবনা ও রাষ্ট্রচিন্তার অধিকারী। আপামর জনসাধারণের একান্ত প্রিয় এই নেতাকে নিয়ে আমাদের এবারের মূল রচনা.

তাজউদ্দীন আহমদ (১৯২৫-৭৫) যে দেশের মানুষের কাছ থেকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান পাননি, এ-দুর্ভাগ্য যতটা তাঁর, তার চেয়ে বেশি আমাদের সকলের। তিনি কেবল বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরিচালক। তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন পরিণত সমাজভাবনা ও রাষ্ট্রচিন্তার অধিকারী। এই দুইয়ের যোগফল সব দেশেই কম দেখা যায়। পড়াশোনায় তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল—এ-বিদ্যানুরাগ কেবল ভালো ছাত্র হওয়ার জন্যে ছিল না, ছিল মানুষ ও পৃথিবীকে জানার ও বোঝার জন্যে। আবাল্য দেশের মানুষের প্রতি তাঁর দরদ ছিল—তাঁর চরিত্রে যা অঙ্কুরিত হয়েছিল এলাকাবাসীর প্রতি গভীর ভালোবাসারূপে, উত্তরকালে তা-ই পল্লবিত হয়েছিল দেশবাসীর প্রতি অনুরাগ ও কর্তব্যবোধে। তিনি জনপ্রিয় নেতা ছিলেন না, তেমনটি হওয়ার কোনো চেষ্টাই তাঁর মধ্যে দেখা যায়নি; কিন্তু আপামর জনসাধারণ তাঁর একান্ত প্রিয় ছিল।
 তাজউদ্দীন আহমদ ভালো ছাত্র ছিলেন। ম্যাট্রিক ও আই এ পাশ করেছিলেন মেধা-তালিকায় স্থান লাভ করে। কিন্তু রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে—তার চেয়েও বেশি সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করার ফলে—তারপর থেকে যথাসময়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত করা তাঁর পক্ষে সম্ভবপর হয়নি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ডিগ্রি নিয়েছিলেন, কিন্তু এম এ পরীক্ষা দিতে পারেননি। এখানেই তিনি এল এল বি পড়েছিলেন, তবে জেলখানা থেকে পরীক্ষা দিয়ে আইনের ডিগ্রি পেয়েছিলেন। কারাগারে নিক্ষিপ্ত না হলে সেটাও হতো কি না বলা যায় না।
 স্কুলে থাকতেই তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন। তিনি যখন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের কাউন্সিল-সদস্য হয়েছিলেন, তখন তাঁর বয়স কুড়ি বছর হয়নি। কিন্তু পাকিস্তান-প্রতিষ্ঠার পরে রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে, সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে ও সুশাসনের প্রশ্নে তিনি মুসলিম লীগ ত্যাগ করেন এবং আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠায় উদেযাগী হন। পাকিস্তানের সংবিধান-বিষয়ক মূলনীতি কমিটির রিপোর্টের বিরুদ্ধে ১৯৫০ সালে ঢাকায় যে-মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, তিনি ছিলেন তার আয়োজকদের একজন। এই সম্মেলনে পাকিস্তান রাষ্ট্রের নাম ইউনাইটেড সোশালিস্ট স্টেট্স্ অব পাকিস্তান বলে প্রস্তাবিত হয়; অর্থাৎ দেশের কাঠামো হবে যুক্তরাষ্ট্রীয়, প্রদেশগুলো ভোগ করবে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, আর এর আর্থিক রূপ হবে সমাজতান্ত্রিক। প্রদেশের একমাত্র অসাম্প্রদায়িক অরাজনৈতিক সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগের তিনি একজন নেতা ছিলেন। তিনি যখন যুক্তফ্রন্টের মনোনয়ন লাভ করে বিপুল ভোট পেয়ে পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন, তখনো তাঁর বয়স তিরিশ হয়নি। আওয়ামী মুসলিম লীগের নাম থেকে মুসলিম শব্দ বাদ দেওয়ার বিষয়ে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বারবার গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘকাল তিনি কারাগারে কাটান। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহকর্মী হিসেবে তিনি ১৯৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি-নির্ধারণে বড়ো ভূমিকা পালন করেন। এ-দেশের নিরস্ত্র জনসাধারণের উপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্মম আক্রমণের পরে তিনি সহকর্মী ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে চলে যান এবং ১০ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করেন। বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসন-গঠন, আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদসমূহের প্রতিষ্ঠা, মুক্তিযুদ্ধের সামরিক শক্তির পুনর্বিন্যাস, স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বহির্বিশ্বে কূটনৈতিক তৎপরতা, পাকিস্তানের পক্ষত্যাগ করে বাঙালি কূটনীতিকদের বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য ঘোষণায় উৎসাহদান, ভারত সরকারের সঙ্গে সামরিক ও বেসামরিক ক্ষেত্রে অর্থপূর্ণ যোগাযোগ রক্ষা—এসব বহু ক্ষেত্রে তাঁকে এককভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলিতেই দলের ভিতর ও বাইরে থেকে তাঁকে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়। তিনি কোন অধিকারবলে প্রধানমন্ত্রী হলেন, তাঁকে এ-প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় দল থেকেই। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-অর্জনের পক্ষে তাঁর অনমনীয় মনোভাবের অনেক ভুল ব্যাখ্যা করা হয়। বলা হয়, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন কামনা করেন না। স্বাধীনতালাভের পরে তাজউদ্দীন বলেছিলেন:
 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারও আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনকে ধ্বংস করার জন্য বহুভাবে চেষ্টা করে। সংগ্রামের এক পর্যায়ে আমেরিকা প্রশ্ন তোলে—‘স্বাধীনতা চাও, না মুজিবকে চাও?’ এর উত্তরে আমি বলেছিলাম, ‘স্বাধীনতাও চাই, মুজিবকেও চাই। স্বাধীনতা এলেই মুজিবকে পেতে পারি।’ কারণ, আমি জানতাম, আদর্শের মধ্যে শেখ মুজিবকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলেই স্বাধীনতা সংগ্রাম জোরদার হবে। আর এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হতে পারে। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ২৭ বছর রাজনীতি করেছি, তাঁকে আমি গভীরভাবে জানি।
 এখানে যদিও তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলেছেন, তবে প্রশ্নটা তাঁর দলের মধ্য থেকে, এমনকি তাঁর মন্ত্রিসভার মধ্য থেকে, উত্থাপিত হয়েছিল এবং বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ মার্কিন সহায়তায় পাকিস্তানের সঙ্গে আপোস করতে চেয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তাঁর এই বিশ্বাসঘাতকতা ফাঁস হয়ে গেলে তাজউদ্দীন তাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে রেখেও সকল দায়িত্বভার থেকে অব্যাহতি দেন। (মোশতাক এই পরাজয় কখনো ভোলেননি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-অর্জনের পরে তাঁর সর্বক্ষণের কাজ হয়েছিল সর্বক্ষেত্রে তাজউদ্দীনের বিরোধিতা করা।) অন্যদিকে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র-র আনুকূল্যে আওয়ামী লীগের তরুণ নেতারা মুজিব বাহিনী গঠনের সুযোগ পেয়েছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের কর্তৃত্বের বাইরে, বাংলাদেশ সরকারের বিরোধিতাকারীদের দিয়ে, কেন একটি সমান্তরাল সশস্ত্র সংগঠন গড়ে তুলতে উৎসাহ ও সহায়তা দিলো ভারত সরকার, তাজউদ্দীন তাঁর কারণ জানতে চেয়েও কখনো কোনো জবাব পাননি। আবার ভারতের কাছে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে একটি গোপন চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন বলে জোর প্রচারণা হয়। এতে তাজউদ্দীনের ভাবমূর্তি খানিকটা যে কালিমালিপ্ত হয়, সে-কথা অস্বীকার করা চলে না। (১৯৭৫ সালে দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে খন্দকার মোশতাক এই গোপন চুক্তি খুঁজে পাওয়ার অনেক চেষ্টা চালিয়েছিলেন, কিন্তু যে-চুক্তি হয়নি, তা খুঁজে পাওয়া কেমন করে আর সম্ভবপর হয়!)
 বাংলাদেশের স্বাধীনতালাভের পরে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাজউদ্দীনের নীতিগত বিষয়ে কিছু কিছু মতান্তর দেখা দেয়। মুক্তিযুদ্ধবিরোধীরা এই সুযোগে তাঁদের দুজনের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়। তাজউদ্দীন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু তাঁর এই ইচ্ছা গোপন থাকেনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু তাঁকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন এবং সেই সঙ্গে পদত্যাগপত্রের খসড়াও পাঠিয়ে দেন। তাজউদ্দীন সেই খসড়া-অনুযায়ীই পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। তাতে তাঁদের দুজনেরই ক্ষতি হয়, সর্বোপরি ক্ষতি হয় বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পরে খুনিরা তাজউদ্দীনকে গ্রেপ্তার করে। অবশেষে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ মন্ত্রিসভার একজন বাদে আর সকল সদস্য কারাগারের অভ্যন্তরে নিহত হন।
আমি বলেছি, তাজউদ্দীন আহমদ তাঁর প্রাপ্য পাননি। বিষয়টি আরেক দিক দিয়ে ভাবা যেতে পারে। তিনি যা পেয়েছিলেন, তা কি তাঁর প্রাপ্য ছিল—বিশেষ করে তেসরা নভেম্বরের কালরাতে?
তাজউদ্দীন আহমদের রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে এর আগেও আমি একবার কথা বলেছি। সুতরাং তাঁর স্বদেশভাবনার কথা বলতে গিয়ে আমার আগে-বলা কথার কিছু পুনরাবৃত্তি হবে।
মুসলিম লীগে তাজউদ্দীন ছিলেন এর অপেক্ষাকৃত প্রগতিশীল অংশ সোহরাওয়ার্দী-আবুল হাশিমের উপদলের অন্তর্ভুক্ত। ঢাকায় তাঁর গুরু ছিলেন কামরুদ্দীন আহমদ ও শামসুল হক। তাঁরা একটি শোষণহীন সমাজের স্বপ্ন দেখতেন। ১৯৬৯-৭০ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকরূপে তাজউদ্দীনের বক্তৃতা থেকেও স্পষ্টভাবে শোষণহীন সমাজব্যবস্থা-প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ধ্বনিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি পরিষ্কারভাবে বলেন—এবং মন্ত্রিসভার অন্যেরাও সেটা মেনে নেন—যে, বাংলাদেশ হবে ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সমাজতন্ত্র-প্রতিষ্ঠায় তিনি এতই আবেগাপ্লুত ছিলেন যে, ১৯৭২ সালের ৮ জুনে প্রদত্ত এক ভাষণে তিনি ঘোষণা করেন, বাংলাদেশে ধনতন্ত্রের সমাধি রচিত হয়েছে। কিন্তু পরে আরেকটি বক্তৃতায় তিনি বলেন:
 আমরা সামন্তবাদী অবস্থা ও পরিবেশ থেকে এখনও পূর্ণ গণতান্ত্রিক অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি। সামন্ত প্রভু আজ নেই সত্য—কিন্তু সামন্ত মনোবৃত্তি এখনও রয়েছে। আগে এই মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।
তিনি হয়তো ভেবেছিলেন যে, আমাদের আধা সামন্ততান্ত্রিক-আধা পুঁজিবাদী সামাজিক অবস্থা থেকে সমাজতন্ত্রে রূপান্তর সম্ভবপর এবং গণতান্ত্রিক উপায়েও সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠালাভ সম্ভবপর। তাই বাংলাদেশে ধনতান্ত্রিক বিকাশকে বাধাহত করার সংকল্প তিনি একাধিকবার ব্যক্ত করেছেন এবং এ-কথাও বলেছেন যে, আমরা বাংলাদেশে যে-সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব, তা সোভিয়েত বা চীনের ধরনের হবে না, তা হবে আমাদের নিজেদের মতো। ‘আমরা গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্রের মধ্যে একটি সুষম সমন্বয় ঘটাব, যা বিশ্বে একটি অসাধারণ ব্যাপার হবে।’
বস্তুত তাজউদ্দীনের সমাজতন্ত্রের আদর্শ মার্কসবাদী আদর্শ থেকে অনেকখানি পৃথক ছিল। শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বের কথা তিনি ভাবেননি, বরঞ্চ বাংলাদেশে উৎপাদন ব্যাহত করে শ্রমিক ধর্মঘটের তিনি তীব্র সমালোচক ছিলেন। অবশ্য কৃষক শ্রেণির প্রতি তাঁর গভীর সহানুভূতি ও শ্রদ্ধা ছিল। তিনি মনে করতেন, বহু অসুবিধার মধ্য দিয়েও এ-দেশের কৃষক সমাজ উৎপাদনবৃদ্ধি করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, দেশের মানুষের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে হলে সর্বক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।
বাংলাদেশের সংবিধানে সম্পদের তিন ধরনের মালিকানার কথা বলা হয়: রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে, সমবায়-ব্যবস্থায় এবং ব্যক্তিগত খাতে। তিনি বড়ো রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের কথা ভেবেছিলেন, তবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত-ব্যবস্থায় তিনি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তিনি বলেছিলেন, দেশে সমাজতন্ত্রের নামে ব্যবসা চলছে। পুঁজিবাদী আমলাতন্ত্র দিয়ে যেমন সমাজতন্ত্র হবে না বলে তিনি মনে করতেন, তেমনি সমাজতন্ত্রে উৎসর্গীকৃত কর্মীবাহিনী ছাড়াও আমাদের পক্ষে সমাজতন্ত্রে উত্তরণ সম্ভবপর হবে না বলে বিবেচনা করতেন। তাই সমাজতান্ত্রিক মনোভাব অর্জন করতে তিনি বারবার করে ছাত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে, সমাজতান্ত্রিক মনোভাব অর্জন করতে না পারলে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে পরিচালনা করা যাবে না। সমবায়-খাতের উপরে তিনি অনেকখানি আস্থা স্থাপন করেন, বিশেষ করে, তাঁতিদের ক্ষেত্রে এর উপযোগিতা তিনি ব্যক্ত করেছেন। তা ছাড়া তিনি ছোটো ব্যক্তিগত খাত রাখার পক্ষে মত দেন। এ-ক্ষেত্রে তিনি পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর উদাহরণ দিয়েছেন।
পাকিস্তান আমল থেকেই তাজউদ্দীন কৃষকদের, বিশেষ করে, ভূমিহীন কৃষকদের দুরবস্থার কথা বিভিন্ন প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে কৃষকদের বকেয়া খাজনা মওকুফ করার উদেযাগ তিনি নিয়েছিলেন। তবে কৃষি ও ভূমিব্যবস্থার আমূল সংস্কারের আবশ্যকতা তিনি ব্যাখ্যা করেছেন এবং কৃষিজাত পণ্যের ন্যায্য অংশ যে কৃষককে পেতে হবে, সে-কথাও বারবার বলেছেন। সম্পূর্ণ কৃষি খাত রাষ্ট্রায়ত্ত করার কথা তিনি ভাবেননি—কেননা, তিনি বলেছেন, কোনো সমাজতান্ত্রিক দেশেই কৃষি খাত সম্পূর্ণত রাষ্ট্রীয় পরিচালনায় আনা হয়নি, বরঞ্চ একটা পরিমাণ পর্যন্ত ভূমি ব্যক্তি-মালিকানায় রাখা হয়েছে।
আমরা আগেই দেখেছি যে, তাজউদ্দীন চেয়েছিলেন গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে সমাজতন্ত্রে উত্তরণ ঘটাতে। তিনি মনে করেছিলেন, আমাদের দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রই সবচেয়ে উপযোগী। তবে এ-ক্ষেত্রে কিছু কিছু নীতি যে পালনীয়, সে-বিষয়ে তাঁর কোনো সন্দেহ ছিল না। যেমন, দল ও সরকারের মধ্যে সুষ্পষ্ট বিভাজন থাকতে হবে:
সরকারি কর্মকর্তারা দলীয় কর্মকর্তার পদে বহাল থাকতে পারবেন না। একজন মন্ত্রীর পক্ষে দলীয় কর্মকর্তার পদে বহাল থাকা উচিত নয়। কোনো ব্যক্তি যদি একই সঙ্গে সরকার এবং দলে অন্তর্ভুক্ত হন, তা হলে রাজনৈতিক ভারসাম্যের ক্ষতি এবং শাসনকাজে অসুবিধার সৃষ্টি হয়।
তিনি রাষ্ট্রযন্ত্রের দলীয়করণের বিরুদ্ধেও সুস্পষ্ট মত ব্যক্ত করেছেন। তিনি আমলা চেয়েছেন—তাঁদের ছাড়া রাষ্ট্রপরিচালনা অসম্ভব—কিন্তু আমলাতন্ত্র চাননি। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত সহনশীলতা:
গণতন্ত্রের মূল কথাই হচ্ছে সহনশীলতা। এর অভাবে শুধু রাজনৈতিক দলগুলোরই ক্ষতি হবে না, খোদ রাষ্ট্রের স্বার্থও বিঘ্নিত হবে। রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ির পথ পরিহার করে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী এই উভয়পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো সহনশীলতার অনুশীলন শিক্ষার প্রয়োজন। রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে ঊর্ধ্বে রেখে পারস্পরিক মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
 ১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিরোধী দলের আরো সদস্য সংসদে নির্বাচিত হলে তিনি সন্তুষ্ট হতেন। বিরোধী দলকে তিনি তাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এবং ‘ছায়া-মন্ত্রিসভা’ গঠনের আবশ্যকতার উপরে জোর দিয়েছেন। ছাত্র-রাজনীতিতেও তিনি একইরকম সহনশীলতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। তাঁর ব্যাখ্যাত গণতন্ত্রে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ একটি প্রধান শর্ত। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনকে তিনি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে দেখেছেন।
 ধর্ননিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী তাজউদ্দীন ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন:
 ধর্মের ওপর ভিত্তি করে দেশে কোনো রাজনৈতিক দল থাকবে না। অর্থনৈতিক ও গঠনমূলক কর্মসূচির উপর ভিত্তিশীল রাজনৈতিক দলগুলোকেই শুধু এখানে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে। বাংলাদেশ হবে একটি সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। বাংলাদেশে প্রতিটি ধর্মের জন্য পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে। রাষ্ট্র কোনো ধর্মের ব্যাপারে হস্তপেক্ষ করবে না। ধর্মের নামে কাউকে শোষণ করতে দেওয়া হবে না। ধর্মীয় ভিত্তিতে কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থাকবে না। দেশের সাধারণ নির্বাচনে পরাজিত দলই শুধু সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচিত হবে।
 জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সংযম-অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা তিনি ব্যাখ্যা করেছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির ওপরে তিনি জোর দিয়েছেন। তিনি দুঃখ করে বলেছেন যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যিনি কথা বলেন, তাঁর কোনো আপনজন দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হলে, তিনিও অভিযুক্তের পক্ষ অবলম্বন করেন। এই মনোভাব দূর না হলে দেশ অগ্রসর হতে পারবে না। সমাজবিরোধীদের সম্পর্কেও তাঁর একই কথা। অনেক সময়ে তাদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হয়, কিন্তু তা অনুচিত:
 দুর্বৃত্ত দুর্বৃত্তই, সে যে পদেরই অধিকারী হোক না কেন। যদি তাজউদ্দীনও কোনো প্রতারণা করে অথবা একজন নক্সালি কোনো ডাকাতিতে জড়িত হয়, তবে তাদের রাজনীতিক না বলে দুর্বৃত্ত বলেই আখ্যা দিতে হবে। দুষ্কৃতিকারী ও সমাজবিরোধী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে তাকে রাজনৈতিক রূপ যেন না দেওয়া হয়। রাজনৈতিক রূপ দিলে সে আশ্রয় পেয়ে যায়। দুষ্কৃতিকারী রাজনৈতিক নেতা বা কর্মী নয়। দুষ্কৃতিকারী সে যেই হোক তাকে ক্ষমা করা চলবে না।
 বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দেশের মানবসম্পদের ওপরে নির্ভর করছে বলে তাজউদ্দীন মনে করতেন। সে-মানবসম্পদের বিকাশ ও উন্নয়ন অনেকখানি নির্ভরশীল দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ওপরে। তাই শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার তিনি কামনা করেছিলেন। শিক্ষাব্যবস্থায় দেশের সমস্যা-আলোচনা ও তার সমাধান-সন্ধানের ব্যবস্থা না থাকলে দেশের জন্য তার কোনো প্রাসঙ্গিকতা দেখেননি তিনি। এর রূপ এমন হওয়া উচিত যাতে এ-ব্যবস্থা সচেতন ও দায়িত্ববান নাগরিক ও দক্ষ কর্মী সৃষ্টি করতে পারে। বস্তুত, চরিত্রগঠন, নৈতিকতা-অনুসরণ ও জ্ঞানার্জনকে জীবনের একটি প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। সকল নাগরিককে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য বলে তিনি মনে করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, সমাজের ভিত্তি গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষার ভূমিকাই মুখ্য। শিক্ষিত নাগরিকের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও তাঁর কাছে গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেছেন, কর্মসংস্থান না হলেই সমাজে অস্থিরতা ও অশান্তির সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রীয় কর্মে নিয়োগদানের ক্ষেত্রে কোটা-ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর ফলে মেধাবীরা বঞ্চিত হয় এবং তাতে তাদের মনে গভীর হতাশার সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রের সর্বস্তরে মাতৃভাষা-প্রয়োগের বিষয়ে তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর মতে,
 সংস্কৃতির আবেদন বিশ্বজনীন। এর সীমারেখা টানা ঠিক হবে না। সংস্কৃতি চির প্রবহমান। সত্য ও সুন্দরের সাধনাই সংস্কৃতি। সংস্কৃতি কোনোকালে কোনো অবস্থায়ই বর্জনীয় নয়, সর্বকালেই গ্রহণীয়।
 আত্মনির্ভরশীলতা—অন্য কথায়, উন্নয়ন-স্বয়ম্ভরতা—আমাদের জাতীয় লক্ষ্য বলে তিনি নির্ধারণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়লাভের পরপরই তিনি বলেছিলেন, আমাদের পক্ষে মার্কিন সাহায্যগ্রহণের প্রশ্নই ওঠে না। বৈদেশিক সাহায্য ছাড়া বাংলাদেশের চলবে কেমন করে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, আমরা দারিদ্র ভাগ করে নেবো। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের প্রবণতা লক্ষ করেই হয়তো তাজউদ্দীন দারিদ্র ভাগ করে নেওয়ার কথা বলতে পেরেছিলেন, কিন্তু ১৯৭২ সালের বাস্তবতা ছিল এই যে, মানুষ তখন পেতে চেয়েছে, আরো ত্যাগ স্বীকার করতে চায়নি। তাঁর দলের মধ্যেও বৈদেশিক সাহায্য নেওয়ার পক্ষে একটা প্রবল মত ছিল। ফলে এই প্রশ্নে তাঁকে পিছু হটতে হয়েছিল। মার্কিন সাহায্যগ্রহণের প্রশ্নই ওঠে না, একথা বলার কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন: মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মার্কিন সরকারের অনুসৃত নীতির জন্যে তাদের অর্থসাহায্য প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে; তাদের ব্যবহারের ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে কী হবে, তবে সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে কোনো সাহায্য নেওয়া হবে না। আরো পরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক সাহায্য দরকার, তবে ভিক্ষুকের মতো দান আমরা নেবো না। তিনি অবশ্য বরাবরই অর্থনেতিক মুক্তিসাধন এবং সাম্রাজ্যবাদী প্রভাববলয় থেকে দূরে থাকার কথা বলেছেন। সাম্রাজ্যবাদী সাহায্য মূলত শোষণের ক্ষেত্রই সম্প্রসারিত করে—এ-কথা বলে তিনি উদাহরণ দিয়েছিলেন মার্শাল প্ল্যানের। সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর দৃষ্টান্ত টেনে তিনি বলেন, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের ওপরে এরা দেশ পুনর্নির্মাণ করেছে মার্কিন সাহায্য ছাড়াই। আমাদেরও তেমনি চেষ্টা করতে হবে। ১৯৭২ সালের জুন মাসে তিনি বলেন, আমরা শর্তহীন সাহায্য নেবো। আবার ব্যাখ্যা করে বলেন, অনাহারে থাকব, কিন্তু শর্তযুক্ত ঋণ নেবো না।
 আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জোটনিরপেক্ষতার পক্ষে এবং সাম্রাজ্যবাদ ও ঔপনিবেশিকতাবাদের বিরুদ্ধে তিনি অবস্থান নিয়েছেন। ঠান্ডা লড়াইয়ের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি অনুসরণের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশ যে তখনো ঔপনিবেশিকতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ, তা উল্লেখ করে তিনি এসব দেশের স্বাধীনতার দাবি সমর্থন করেছেন। এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে, ভিয়েতনামের সংগ্রামের প্রতি তিনি সবসময়ে সমর্থন জ্ঞাপন করেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ভিয়েতনাম ছেড়ে আসতে আহ্বান জানান।
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বিভিন্ন দেশের ভূমিকা আমাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের নিয়ামক হবে, এমন কথা তিনি বলেছিলেন। ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব’, এই নীতি অনুসরণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যারা আমাদের সাহায্য করেছে এবং যারা আমাদের বিরোধিতা করেছে, তাদেরকে এক করে দেখা যায় না। আবার ঔচিত্যবোধের ভিত্তিতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকে চীনের সদস্যপদপ্রার্থিতা তিনি সমর্থন করেছিলেন, যদিও চীন তখন জাতিসংঘে আমাদের সদস্যপদলাভের বিরোধিতা করছে। তিনি বলেছেন, যে-কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি হবে পরস্পরের প্রতি মৈত্রী ও শ্রদ্ধাবোধ। বিশ্বশান্তির স্বার্থে আমরা কোনো সামরিক জোটে শরিক হব না, এই ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় ব্যয়ের ৬০ শতাংশ আমরা সামরিক খাতে খরচ করতে পারব না। দেশের প্রতিরক্ষা নির্ভর করে মানুষের সন্তুষ্টির ওপরে।
 বাংলাদেশের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি একবার বলেছিলেন, অনেকে নানা ধরনের বিবেচনা থেকে জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে যোগ দিয়ে থাকেন। মুক্তিসংগ্রাম শেষ হলে নিজের নিজের উন্নতির প্রত্যাশা তাঁরা করেন। স্বাধীনতা লাভ করলে, তাঁরা মনে করেন, অনেক কিছু করার স্বাধীনতা তাঁদের থাকবে। এমন ভাবনা শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিস্বার্থে পরিচালিত হতে আমাদের প্রণোদনা দেয়। আমাদের চিন্তা করতে হবে সামগ্রিকভাবে, সমষ্টির উন্নতির জন্যে। তাই তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন, ‘দেশের কাছে কিছু চাওয়ার আগে দেশকে আপনি কতটুকু দিয়েছেন, তা বিচার করুন।’
 তাজউদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য সঠিক শিক্ষা, খাদ্য, বস্ত্র এবং বাসস্থানের নিশ্চয়তা বিধান করতে না পারছি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের বিপ্লব পূর্ণ হবে না।’ আমরা জানি, সেই লক্ষ্যে এখনো আমরা পৌঁছোতে পারিনি। সে-লক্ষ্য যদি আজো আমাদের স্থির থাকে, তবে সেই গন্তব্যের পথে যাত্রায় তাজউদ্দীন আহমদের স্বদেশভাবনা আমাদের পক্ষে একই সঙ্গে প্রেরণাদায়ক ও পথনির্দেশক হবে।
 ৩ জুলাই ২০১২ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদত্ত ‘তাজউদ্দীন আহমদ স্মারক বক্তৃতা’
 

সর্বশেষ আপডেট ( শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১২ )
 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >
Free Joomla Templates