| আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে |
|
| নাজমা রহমান, মেরিল্যান্ড থেকে | |
| শুক্রবার, ২৭ জুলাই ২০১২ | |
|
যেখান থেকে কেউ কোনদিন ফেরেনি আর। ইন্টারনেটে এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে তাঁর কত রকমের ভিডিও চিত্র। টেলিভিশনের পর্দায় শুধু তাকে নিয়েই আলোচনা। পত্র পত্রিকায় তারই সংবাদ। তাঁর কথাই ঘুরে ফিরে বারবার আসছে মানুষের আলোচনায়। বাংলাদেশ এবং তাঁর বাইরেও প্রিথীবি জুড়ে ছড়িয়ে আছে তাঁর লেখা আড়াই শতাধিক বই, প্রায় পঞ্চাশটি নাটক, বেশ কিছু জনপ্রিয় গান। অসংখ্য নাটক ও সিনেমার ভিডিও চিত্র। শুধু মানুষটা নাই। (২৩-৭-২০১২) মানুষের কল্পনা শক্তি প্রবল। ধরুন, এই মুহূর্তে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ বসে আছেন একটি চেয়ারে। তার সামনে অনেকগুলি টেলিভিশন সেট খোলা। সবগুলো টেলিভিশনেই ঢাকার বিভিন্ন চ্যানেল চলছে। চ্যানেলগুলি ভিন্ন হলেও বিষয়বস্তু এক অর্থাৎ সবাই হুমায়ুন আহমেদের কথাই বলছে। তিনি খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছেন। ব্যাপারটাতে তিনি বেশ মজা পাচ্ছেন। মজা পেতে এবং মজা করতে তিনি বরাবরই ভালবাসেন। তবে এই মুহূর্তে মজার চাইতেও তার যে বোধটা বেশি কাজ করছে তার নাম শঙ্কা। তিনি শঙ্কিত এবং হতভম্ব। তার লাশ কোথায় দাফন হবে তাই নিয়ে বাক বিতণ্ডা চলছে। এবং বাক বিতণ্ডা যারা করছে তারা তাঁর পরিবারের লোক। প্রিয়জন। এই মানুষগুলোরতো যে কোন পারিবারিক সিদ্ধান্তের ব্যপারে এক থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। সারা দেশের চোখের সামনে তারা দুই দলে বিভক্ত হয়ে দুই মেরুতে অবস্থান নিয়েছেন। কেউ চাইছেন নুহাশ পল্লীর ভিতরে দাফন হোক কেউবা বলছেন বাইরে হোক। এটা কেমন কথা! তিনি নিজে অনেক মজার মজার নাটক লিখেছেন কিন্তু এই রকম মজার একটা প্লট তাঁর মাথায় আসেনি কখনো। আসলে ভাল হত। চমৎকার একটা নাটক হতে পারতো। টেলিভিশনের ঈদের নাটক হিসাবে ভাল হিট হয়ে যেত। সুযোগটা হাত ছাড়া হয়ে গেল। এখন তিনি আর প্রিথীবিতে নাই। তাই লেখাটা সম্ভব হচ্ছেনা।
(২৫-৭-২০১২) উপরের দৃশ্যগুলো কল্পনার চোখে দেখা। কিন্তু এই কথাতো সত্য যে হুমায়ুন আহমেদের লাশ কোথায় দাফন হবে এই নিয়ে দিনভর তাঁর পরিবারের মধ্যে যে মতভেদ চলে তা বড় বেদনার্ত চোখে টেলিভিশনে দেখেছে সারা বাংলাদেশ। গভীর রাতে অবশ্য এই সমস্যার সমাধান হয়। কিন্তু তার জন্য সরকার প্রধান পর্যন্ত ঘটনাটি গড়ায়। শেষ পর্যন্ত সরকারের প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানকের বাসভবনে বসে বিষয়টির শুরাহা হয়। (২৬-৭-২০১২) কোথাও কেউ নেই। আসলে সবাই আছে কিন্তু হুমায়ুন আহমেদ নেই। অচিন দেশে, অচিন কোনো গাঁয়ে চন্দ্রকারিগরের কাছে ধবল পঙ্খী নায়ে চড়ে চলে গেছেন কথার জাদুকর। কিন্তু তার চলে যাওয়ার পর, গত ২৩ তারিখের তার পারিবারিক মতভেদের ঘটনাটি নাড়া দিয়েছে দেশবাসীকে। অনেকের মনে আজ প্রশ্ন জেগেছে এটা কিসের অশনী শঙ্কেত! ঘটনাটি কি আসলেই শেষ হয়েছে! এর আর কোন পুনরাবৃত্তি হবেনাতো কখনো? শুধু সময়ই দিতে পারে এর উত্তর। তবে গোটা বাংলাদেশ চায় আগামিতে তার পরিবারের সকল সদস্য এক হয়ে পথ চলবেন। নুহাশ পল্লীতে গড়ে তুলবেন তারা সবাই মিলে হুমায়ুন আহমেদের স্বপ্নের ইমারত। |
|
| সর্বশেষ আপডেট ( শুক্রবার, ২৭ জুলাই ২০১২ ) |
| < পূর্বে | পরে > |
|---|