মূলপাতা arrow খবর arrow দেশ arrow নুহাশ পল্লীতে চিরনিদ্রায় হুমায়ূন আহমেদ
নুহাশ পল্লীতে চিরনিদ্রায় হুমায়ূন আহমেদ প্রিন্ট কর
নিউজ-বাংলা ডেস্ক   
বুধবার, ২৫ জুলাই ২০১২

যে স্থানটি ছিল তার নিজের জীবনের চেয়েও প্রিয়, সেই নুহাশ পল্লীতেই চিরনিদ্রায় গেলেন নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদ। লাখো ভক্ত অনুরাগীর শ্রদ্ধা ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে নুহাশ পল্লীর সেই চিরচেনা লিচুতলায় শেষ শয্যা গ্রহণ করলেন।

 লাখো ভক্ত অনুরাগীর উপস্থিতিতে শেষ নামাজে জানাজার মাধ্যমে বাদ জোহর হুমায়ূন আহমেদের দাফন সম্পন্ন হয়। তিন দিকে ইটের তৈরি ৫ ফুট উঁচু সীমানা প্রাচীর। এর বাইরে প্রাচীর ঘেঁষে ভাওয়াল গভীর গজারি বন। ভেতরে অল্প একটু জায়গাজুড়ে লিচু, তেঁতুল আর জলপাই গাছের মিশেল একটি বাগান। মাঝখানে ফাঁকা এক টুকরো জায়গা। ওইখানে লিচু গাছের ছায়া এসে স্থির থাকে কখনও কখনও। দক্ষিণের জায়গাটায় শেফালি, কামিনী, বকুল, শিউলিসহ নানা ফুলের গাছ।
নুহাশ পল্লীর ভেতরকার ছোট্ট এ জায়গাটা খুব প্রিয় ছিল নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদের। পূর্ব দিকে সবুজে সবুজময় বিস্তৃত খোলা মাঠ। নুহাশে গেলেই তিনি ওই লিচু গাছের ছায়ায় বসে একান্তে কিছু সময় কাটাতেন আর আকাশের দিকে তাকিয়ে কী যেন ভাবতেন বলে জানালেন হুমায়ূন আহমেদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত মানুষ মোশারফ হোসেন। নুহাশের প্রধান ফটক পার হলেই হাতের ডান দিকে পূর্ব প্রান্তে ‘হোয়াইট হাউস’। দৃষ্টিনন্দন এই ভবনেই বসে লিখতেন আর রাতযাপন করতেন হুমায়ূন আহমেদ। হোয়াইট হাউস থেকে ৮০/৯০ গজ পশ্চিমে মায়ের জন্য তৈরি মোজাইক করা নির্ধারিত একটা নামাজের স্থান। এর পরই সেই লিচু আর তেঁতুল বাগান। হুমায়ূন আহমেদ তার হাতে গড়া ভুবন নুহাশপল্লীর ওই অতিপ্রিয় স্থান লিচু গাছের ছায়ায়ই নুহাশের সবুজ ঘাসের গালিচার ওপর নুশের কর্মকতা কর্মচারী ও এলাকাবাসী কবর খনন করেন।
 সকালে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের হিমঘর থেকে হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয় একটি অ্যাম্বুলেন্স।এদিকে হুমায়ূন আহমেদকে শেষ বিদায় জানাতে ভক্তরা সকাল থেকেই নূহাশ পল্লীতে ভিড় করতে শুরু করেন। মাঝে মধ্যে হালকা বৃষ্টি হলেও তারা অপেক্ষা করতে থাকেন প্রিয় লেখকের জন্য।

গত ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে মারা যান ক্যান্সারে আক্রান্ত হুমায়ূন আহমেদ। গতকাল সোমবার সকালে তার মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং  দুপুরে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে তার জানাজা হয়।
 

সর্বশেষ আপডেট ( শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১২ )
 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >
Free Joomla Templates