|
নিউজ বাংলা বর্ষপূর্তি ২০১২ |
নিউজ-বাংলা এখন ফেইস বুকে
বিস্তারিত
সাভার ট্র্যাজেডির ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে
প্রিয়বাংলা ইঙ্কের আয়োজনে
গীতল নৃত্য নাট্যঃ
জীবনের জয়গান
তারিখঃ ১লা জুন, শনিবার
সময়ঃ রাত আটটা
স্থানঃ থমাস জেফারসন মিডল স্কুল
উপহার বাংলাদেশ মেলা
আয়োজনেঃ বিসিসিডিআই
তারিখঃ ১৫ই জুন শনিবার
সময়ঃ সাড়ে ৪টা- সাড়ে ১০টা
স্থানঃ গানস্টন থিয়েটার
২৭০০ সাউথ ল্যাং স্ট্রীট
আর্লিংটন, ভিএ-২২২০৬
বার্ষিক পিকনিক

আয়োজনেঃ বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা (বাই)
তারিখঃ ২৩শে জুন, রবিবার
সময়ঃ ১১টা-৫টা
স্থানঃ Rock Creek Regional Park, 15700 Needwood Lake Circle,
Derwood, MD 20855. Picnic Area # 1, Shelters B & C.
একতারা ক্রিকেট কাপ-২০১৩
তারিখঃ ২২-২৩শে জুন
স্থানঃ Newington heights park
8415 heller road, Lorton, VA 22079
বাগডিসির বার্ষিক পিকনিক
আয়োজনেঃ বাংলাদেশ এসোশিয়েশন অব গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি
তারিখঃ ২২শে জুন
স্থানঃ পরে জানানো হবে।
নির্মল সংগীত সন্ধ্যা

কত দিন পড়ে এলে
আয়োজনেঃ রংতুলি
তারিখঃ ২৪শে আগষ্ট শনিবার
সময়ঃ
স্থানঃ 1080 Jefferson St Alexandria, VA 22314

| একালের খাওয়া দাওয়া |
|
| আশরাফ আহমেদ, মেরিল্যান্ড | |
| সোমবার, ০৯ জুলাই ২০১২ | |
|
‘সেকালে’ মেডিকেলের ছাত্ররা এনাটমি পরীক্ষায় মানুষের চেহারার দিকে তাকিয়েই চামড়ার নীচে কয়টি, কোথায় ও কি কি হাড় আছে তা লিখে ফেলতে পারতো, তার জন্য পড়াশোনা বিশেষ হয়তো করতে হোত না। আমাদের চল্লিশ, পঞ্চাশ, ষাট ও সত্তরের দশকের সিনেমাগুলো যদি আজ দেখেন, তখনকার নায়কনায়িকার অনেককেই মনে হবে পুষ্টিহীনতার রোগি! অথচ আজ বা ‘একালে’ আগের চেয়ে পুষ্টিকর ও অধিক খাবার খাওয়ার ফলে বাংলাদেশে অস্থিচর্মসার লোকের দেখা কদাচিৎ পাওয়া যায়, ফলে এখন ছাত্রদের বেশি পড়াশোনা করেই এনাটমি পরীক্ষায় পাশ করতে হয়! খান সাহেবরা “খান, গল্প করেন আবার খান, দেখিতে দেখিতে বেলা দুইটার মধ্যে খাসি শেষ হইয়া গেল”। পঞ্চাশের দশকে স্কুলে পড়ার সময় আমাদের দ্রুতপঠন বইতে ‘সেকালের খাওয়া দাওয়া’ নামে একটি লেখায় এই বাক্যটির ভাব-সম্প্রসারণ শিখে মুখস্ত লিখতে হোত। এটির লেখক কে ছিলেন তা আর মনে নেই তবে আজ থেকে পঞ্চাশ-ষাট বছর আগে বাংলাদেশের খাদ্যের অপ্রতুলতার কথা সামনে রেখেই হয়তো তাঁর বাল্য-শিশুকাল বা ‘সেকালের’ অবস্থাপন্ন লোকদের বিলাসী খাওয়া-দাওয়ার বর্ণনা শুধু একটি খাসির মাঝেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। অর্থাৎ সেই ‘স্বর্ণযুগে’ দুইজন ধনী ব্যক্তি কয়েকঘণ্টার মাঝেই একটি খাসি সাবাড় করে ফেলতে পারতেন! লেখাটিতে আর কোন খাবারের উল্লেখ ছিল বলে মনে পড়েনা, তবে খাসিটির ওজন কত ছিল সেটি নিয়ে বন্ধুদের সাথে অনেক গবেষণা করলেও তার উত্তর আজও মেলেনি। সেই পঞ্চাশের দশক পার হয়ে নব্বইয়ের দশকের গোড়ায়, ১৯৮০ সনে, আমি দেশ ছেড়ে আসি। টের পাইনি কিভাবে দিনে দিনে বত্রিশটি বছর পেরিয়ে গেছে। দুই-চার-পাঁচ বছরে একবার করে দেশে গেলেও গত আড়াই দশকে সাত থেকে দশদিনের বেশি থাকা হয়নি। ফলে ছোটখাট পরিবর্তন চোখে পড়লেও সেই ১৯৮০ সনের অভ্যস্ত জীবনযাত্রাটিই মনে গেঁথে ছিল এতোদিন। এবার বাংলাদেশে একনাগাড়ে ছাব্বিশ দিন থাকার ফলে পরিবর্তনগুলো বেশ স্পষ্ট করেই ধরা পড়লো। ‘৮০ সনে সমাজে আমার অর্থনৈতিক অবস্থান ছিল মধ্যবিত্তের। আর আজ দেশে গিয়ে আমি যে আত্মীয় বন্ধুদের সাথে থাকি, তাঁরা আমার দৃষ্টিতে অনেক ধনী হলেও বাংলাদেশের সমাজে মধ্যবিত্তের গণ্ডি পার হয়নি। কাজেই আমার চোখে যে পার্থক্যগুলো ধরা পড়েছে, তা সারা দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষেণ হিসেবে বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রায় তার কিছু মূল্য থাকলেও থাকতে পারে। মেঝভাইয়ের বিয়ে হয়েছিল কিশোরগঞ্জে ১৯৭৭ সনে। আমরা জনা ত্রিশেক বরযাত্রী নিয়ে গিয়েছিলাম। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৌভাত হয়েছিল। বিয়ের অনুষ্ঠান বলতে শুধু এই দুটি প্রধান অনুষ্ঠানই ছিল। এখন প্রতিটি বিয়েতে প্রাথমিক পরিচয় পর্ব, পান-চিনি বা এংগেজমেণ্ট পার্টি, ছেলের গায়ে হলুদ, মেয়ের গায়ে হলুদ, বিয়ে, ও বৌভাত মিলিয়ে কম করে ছয়টি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মেঝভাইয়ের বৌভাতের মেনুতে ছিল খাসির মাংসের বিরিয়ানি, এক টুকরা মুরগির রোষ্ট, বোরহানি, এবং জর্দা। এখনকার অনেক বিয়ের মেনুতে এপেটাইজার হিসেবে প্রথমেই আসে ডোবা তেলে ভাজা এক চতুর্থাংশ মুরগি ও ঠাণ্ডা কোক বা স্প্রাইট। মেইন মেনুতে থাকে ঘিয়ে ভাজা এক চতুর্থাংশ মুরগির রোষ্ট, কাচ্চি বিরিয়ানি, টিকিয়া কাবাব, মাংসের রেজালা, ভাজি শব্জি, সালাদ, বোরহানি, ডেজার্ট হিসেবে আসে পায়েশ, পুডিং বা মিষ্টি, আর সবশেষে সুন্দর ছোট চৌকো একটি বাক্সের ভেতর একটি সুগন্ধি পান। এর বাইরেও সামর্থ্য অনুযায়ী যোগ হয় বড় মাছের বিশাল এক টুকরো ভাজি। বিয়ের অন্যান্য অনুষ্ঠানগুলোতে অবিকল একই খাবারের ব্যবস্থা না থাকলেও খাবারের মান ও পরিমান কোনভাবেই বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে কম নয়। মেঝভাইয়ের সেই বৌভাতে সর্বাধিক দেড়শত অতিথি সমাগম হয়েছিল। এবার চারটি বিয়ের যে নয়টি অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার সৌভাগ্য আমাদের হয়েছিল, তার একটি ছাড়া বাকি সবগুলোতে অতিথির ন্যুনতম সংখ্যা ছিল সাত’শ। আগে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যা হয়ে থাকতো, সেভাবে মেঝভাইয়ের বিয়ে ও বৌভাতের অনুষ্ঠান বাসাতেই হয়েছিল। এখনকার অনুষ্ঠানগুলো সাধারণতঃ কোন কমিউনিটি সেণ্টারে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই একসাথে দুইশত জন টেবিলে বসে খেতে পারেন না বলে দুই থেকে চারটি ব্যাচে খাওয়ার কাজটি সারা হয়। অফিসার্স ক্লাবে বিয়ের অনুষ্ঠানে একত্রে সাড়ে ছয়শত জন, আর বঙ্গবন্ধু বা চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একত্রে সহস্রাধিক অতিথি বসে খেতে পারেন। তবে সেসব যায়গায় আমন্ত্রিত থাকেন আড়াই থেকে সাত হাজার অতিথি। অনেক ক্ষেত্রে শেষোক্ত যায়গার খাবারের মেনুতে আরো পাঁচ থেকে দশ পদের ব্যাঞ্জনা থাকে বলে শুনেছি। সেদিন খবরে দেখলাম সুদুর নীলফামারীতে এক “কোটি টাকার বিয়ে”তে ১২ হাজার অতিথিকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে! অতিথিরা দুই বা তিন ব্যাচে একই টেবিলে খেতে বসেন বলে অনেকেই তাঁদের প্লেটে এতো অধিক পরিমান ও রকমের খাবারের অনেকটাই শেষ করতে পারেন না। কাজেই খাবারের অপচয় হয় প্রচুর। আজকাল দেশের একটি মধ্যবিত্ত-শিক্ষিত পরিবারে সদস্য সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কম, তিন-চার জন হলেও বিয়ের অনুষ্ঠানে আগের চেয়ে এতো অতিথি হওয়ার কারণ কি? প্রথম কারণ আর্থিক স্বচ্ছলতা, এখনকার মধ্যবিত্ত আগের চেয়ে ঢের বেশি বিত্তশালী। দ্বিতীয় কারণ সামাজিক স্থিতাবস্থা বা ষ্ট্যাটাস অনুযায়ী এখনকার লোকজনের অন্যের সাথে সম্পর্ক ও যোগাযোগ আগের চেয়ে অনেক বেশি। তৃ্তীয় কারণ একজন ভিআইপি বা ভিআইপি সহকর্মীকে দাওয়াত করলে মোট অতিথি হন চার জন - যাকে উপলক্ষ করে দাওয়াত করা হোল, তাঁর স্বামী বা স্ত্রী, তার ড্রাইভার, ও তাঁর ব্যক্তিগত রক্ষী। সেই হিসাবে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের বিয়েতে দাওয়াত করা হয়েছে আড়াই হাজার অতিথিকে! আমাদের সময়ে কোন উৎসব উপলক্ষে সেমাই, পায়েস বা জর্দার বদলে একটি করে রসগোল্লা বা কালজাম দিয়ে আপায়ায়ন করলে তা মনে রাখার মত ব্যাপার হোত। এবার এই ‘খানদানি’ দুটো মিষ্টির চেহারা দেখতে পেলাম না কোন বিয়ের কোন অনুষ্ঠান, বা কারো বাসা, বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। মনে হতে পারে যে যে, বেশি বেশি খেয়ে সবার ডায়াবেটিস হওয়ায় মিষ্টিগুলো আর বানানো হয়না, অথবা চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বা দাম বেড়ে যাওয়ায় এ দুটি মিষ্টি জনসাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে, অথবা ভেজাল বেশি দেয়ায় লোকজন এ দুটি জিনিসকে বয়কট করছে! আসলে তার কিছুই নয়। অনেক সুস্বাদু, দর্শনীয় ও জিভে জল আসা মিষ্টি বাজারে এতো বেশি এসে গেছে ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মাঝে চলে এসেছে যে আমাদের সময়কার সেই মিষ্টিগুলো ভদ্রসমাজের ধারেকাছে আর আসতে পারছেনা। আগেকার বিখ্যাত “মরনচাঁদ” এর স্থান দখল করে নিয়েছে “রস”, “প্রিমিয়াম” আর “জয়পুর” এর মত দামি ব্যবসা গুলো। এদের মিষ্টি প্রতি কেজির দাম তিন’শ থেকে তিন হাজার টাকা! আমি চারদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি বিভাগে গিয়েছি। প্রতিবারই সিংগারা, জিভে জল আসা কয়েক ধরণের মিষ্টি, বা কেক, প্যাষ্ট্রি বা প্যাটিজ, বা স্যাণ্ডউইচ, এবং আংগুর, কলা বা কমলা, ঠাণ্ডা পানীয়, পছন্দমত চা বা কফি দিয়ে তাঁরা নিজেদেরকে ও আমাকে আপ্যায়ন করেছেন। নিউ মার্কেট, গুলশান, তেজগাঁও বাজারে এমনকি অনেক পাড়ার মোড়ে মোড়ে সাজিয়ে রাখা ফলের দোকানগুলো দেখার মত। (আমি আজ ফলে আসিটাইলিন বা ফরমালিন ব্যবহারের আলোচনায় যাচ্ছিনা)। চমৎকার করে সাজানো থাকে লাল-সবুজ রঙ এর বিশাল আকারের আপেল-বড়ই ও কুল-বড়ই, কমলা, আপেল, তরমুজ, শরিফা, বেল, নাশপাতি, বেদানা, কলা, ডাব, পেঁপে। দাম নাগালের বাইরে বলে উচ্চবিত্তেরা আমার সময়ে আংগুর, আপেল, নাশপাতি ও বেদানা শুধু রোগীর পথ্য হিসেবেই কিনতে পারতো। এখন যে কেউ তা কেনার সামর্থ্য রাখে। একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। আনু নামে একটি কাজের ছেলে আমাদের বাসায় থেকে মানুষ হয়েছিল। কয়েকমাস আগে সে মারা যাওয়ায়, ওর নিজ গ্রামে ওর পরিবারের থাকার ব্যাবস্থা করতে আমরা ভাইবোনেরা একটি দালান তুলে দিতে সাহায্য করছি। পরিবারটিকে দেখতে গেলে তারা আমাদের আংগুর, কমলা, দুই রকমের মিষ্টি, কোক ও চা দিয়ে আপ্যায়ন করলো।
আরো একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। প্রতিবছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আমাদের পরিবারের মৃত-পুর্বপুরুষের উদ্দেশ্যে আত্মীয়-স্বজন একত্র হয়ে দোয়া পড়া ও গরীব-দুঃখী লোকজন ডেকে ভুরিভোজ করানো হয়। বত্রিশ বছর আগে এই অনুষ্ঠানের মেনুতে থাকতো একটি গরু জবাই করে পাওয়া মাংশ ঝাল দিয়ে রান্না করে, ডাল ও মোটা চালের ভাত। এবছর আমার ভাইবোনেরা দোয়া পড়ানো ও ভুরিভোজের দায়িত্বটি আমাদের বাড়িতে নির্মিত এতিমখানার পরিচালকদের হাতে দিয়ে দিলেন। এবারের খাওয়ার মেনুতে ছিল মিহি ও সুগন্ধি চাউলের পোলাও, গরুর মাংশের রেজালা, ডাল, শব্জি, বোরহানি এবং ছোট ছোট প্লাষ্টিকের কাপে আলাদা ভাবে জমানো মিষ্টি দৈ। আমার ছোটভাই জানালো আজকাল আগের মত ডাকলেই অভুক্ত লোক এসে হাজির হয়না। এবার তাই আমাদের অতিথি ছিল ধবধবে পোশাক পড়া এতিমখানার শ’খানেক ছাত্র ও তাদের শিক্ষক। চল্লিশ বছর আগে যেখানে সাত কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের পেটের ভাত বিদেশ থেকে আনতে হোত, এখন পনের কোটি জনসংখ্যার সেই দেশটিই অধিক ফলনশীল চারা বপন করে খাদ্যশষ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে। শব্জি বিক্রয় করে লাভ বেশি হয় বলে অনেক কৃ্ষষকই ধানি জমিতে শব্জি লাগাচ্ছে, ফলে বাজারে শব্জির চালান আগের চাইতে অনেক, অনেক বেশি। আমাদের কৃ্ষিবিদদের গবেষণার ফলে অধিক ফলনশীল শষ্য, সবজি ও ফলের উৎপাদন আগের যেকোন সময়ের চাইতে এখন অনেক বেশি। বেহেশতের কথা শুনেছি সেখানে কারো কোন ফল খেতে ইচ্ছা করলে কষ্ট করে গাছ থেকে পেড়ে খেতে হবেনা, ফলসহ গাছের ডালটি তাঁর মুখের কাছে নেমে আসবে। এবার গিয়ে দেখতে পেলাম ছোট ছোট আম, পেয়ারা, লিচু, ও মিষ্টি-জলপাই গাছ তাদের ফলগুলো আমার মত মানুষের হাতের নাগালে ঝুলিয়ে রেখেছে! তেমন একটি গাছ থেকে পেয়ারা ছিঁড়ার সময় জান্নাতুল ফেরদৌস নাম্নী স্ত্রী আমায় সংগ দিচ্ছিল, আর পেছনে দাঁড়িয়ে জান্নাতুল বাকিয়া নাম্নী শ্যালিকা আমাকে বাতাস করছিল। পরকালে বেহেশত যে আমার জন্য নির্ধারিত হয়ে আছে এই পৃ্থিবীতেই হাতেনাতে তার প্রমাণ পেলাম! আমাদের কৃষিবিদরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই নশ্বর পৃ্থিবীতেই ‘চিরস্থায়ী’ বেহেশতকে নামিয়ে ফেলছেন!
এখন দিন ও যুগ বদলে গেছে। দোকানে হালির বদলে ডজন হিসাবে ডিম বিক্রয় হয়। কৃ্ষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন উপাচার্য জানালেন বাংলাদেশ এখন হাঁস-মুরগি জাতীয় খাবারে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মিঠাপানিতে চাষ করে মৎস্য উৎপাদনে পৃ্থিবীতে অগ্রগামী হয়ে দেশটি সেই ’৯৭ সালেই বিশ্বখাদ্য সংস্থার পুরষ্কার লাভ করেছে। গরু-ছাগল উৎপাদনে সফতা আসতে আরো বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে হয়। অনেকে বলবেন ফলন যেমন বেড়েছে, এখন মানুষের সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তেমনি অস্বীকার করার উপায় নেই যে এখন কঙ্কালসার লোকের চেহারা প্রায় দেখা যায়না। ‘সেকালে’ মেডিকেলের ছাত্ররা এনাটমি পরীক্ষায় মানুষের চেহারার দিকে তাকিয়েই চামড়ার নীচে কয়টি, কোথায় ও কি কি হাড় আছে তা লিখে ফেলতে পারতো, তার জন্য পড়াশোনা বিশেষ হয়তো করতে হোত না। আমাদের চল্লিশ, পঞ্চাশ, ষাট ও সত্তরের দশকের সিনেমাগুলো যদি আজ দেখেন, তখনকার নায়কনায়িকার অনেককেই মনে হবে পুষ্টিহীনতার রোগি! অথচ আজ বা ‘একালে’ আগের চেয়ে পুষ্টিকর ও অধিক খাবার খাওয়ার ফলে বাংলাদেশে অস্থিচর্মসার লোকের দেখা কদাচিৎ পাওয়া যায়, ফলে এখন ছাত্রদের বেশি পড়াশোনা করেই এনাটমি পরীক্ষায় পাশ করতে হয়! আপনি খেয়াল করলে দেখবেন, ছোটকালে দেখা অস্থিচর্মসার গৃহপালিত কৃ্ষিপশুর স্বাস্থ্যের চেয়ে আজকের পশুর স্বাস্থ্য অনেক ভাল। শরতচন্দ্রের ‘গফুর’ নামের গল্পটিতে অনাহারক্লিষ্ট কঙ্কালসার গরুটির কথা স্মরণ করুন! আমাদের স্কুলের পাঠ্যবইতে লেখক “সেকালের খাওয়া দাওয়া” বর্ণনা করতে গিয়ে যে মাত্র দুইজন খানসাহেব বা একটি খাসির কথা বলেছিলেন, তাদের স্বাস্থ্যের কথা জানতে তাই আজকে খুব ইচ্ছা হয়। তিনি যদি আজকের বাংলাদেশে একবার বেড়িয়ে আসতে পারতেন তবে সেই উপমাটি নিয়ে ‘সেকালের’ খাওয়া দাওয়ার বাহাদুরি হয়তো করতেন না।
১০ই জুন, ২০১২ মেরিল্যান্ড, আমেরিকা
লেখকের পুরো নাম সৈয়দ আশরাফউদ্দিন আহমেদ, বাস করেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড রাজ্যে
|
| < পূর্বে | পরে > |
|---|
IT LINK
বিস্তারিত যোগাযোগঃ www.itlinkcorp.com
যোগাযোগঃ মোহম্মদ আলী 703-340-7973


ইমা কৌশলীর সিডি এলবাম
বাংলাদেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, জাহাংগীর নগর বিশ্ববিদ্যাল্যের অধ্যাপক, তেল,গ্যাস,খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদের স্বাক্ষাতকার-সাক্ষাতকার গ্রহণ করেছেন ‘নিউজ বাংলা’র বিশেষ সম্পাদক সনতোষ বড়ুয়া।

বাংলাদেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ আমেরিকা এসেছিলেন ‘’ইউনিভার্সিটি অব অরিগন এবং স্কুল অব এডভান্সদ রিচারস ‘’ এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘’ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্ষুদ্র ঋণের ধরন ও প্রভাব সম্পর্কিত গবেষণা ও পর্যালোচনা’’ বিষয়ক ওয়রকশপে যোগদান করার জন্য। আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করাকালে তিনি আরলিংটনে অবস্থান করেছেন কয়েকদিন।
বিস্তারিত ...জনগণের ক্ষমতায়ন’ তত্ত্বটি রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে দার্শনিক মাইলস্টোন।
বিস্তারিত ...| No events |
Comments
jannatul ferdous, and jannatul baki and the' bhesta'.
happy ramadan.
thanks kamal.
RSS feed for comments to this post