News-Bangla - নিউজ বাংলা - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

২৩ মে ২০১৩, বৃহস্পতিবার      
মূলপাতা arrow খবর arrow প্রবাস arrow লন্ডনে জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠান
লন্ডনে জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠান প্রিন্ট কর
সৈয়দ আনাস পাশা, লন্ডন   
শুক্রবার, ০৬ জুলাই ২০১২

 ৭১ এর ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়েছেন লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পীকার কাউন্সিলার রাজিব আহমেদ।

 বুধবার পূর্ব লন্ডনের মন্টিফিউরী সেন্টারে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে টাওয়ার হ্যামলেটস এর স্পীকার এই দাবি জানান। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখা এবং মহিলা সংগঠন নারী চেতনা, নারী দীগন্ত ও ব্রিটেনের জনপ্রিয় মহিলা বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘নারী’র উদ্যোগে আয়োজিত ‘শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আন্দোলনের ২০ বছর’ শীর্ষক এই আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার সহসভাপতি হরমুজ আলী। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাংবাদিক নিলুফা ইয়াসমীন হাসান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক আবু মুসা হাসান, ইসহাক কাজল, সাবেক কাউন্সিলার শাহাব উদ্দিন বেলাল, সাংবাদিক কলামিষ্ট মাসুদ রানা, প্রবীন শিক্ষাবিদ ডলি ইসলাম, কমিউনিষ্ট পর্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ এনামুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক রোমানা হাশেম, নারী নেত্রী নাজনিন সুলতানা শিখা, আন্জুমান আরা অন্জু, সেলিনা শফি, নাসিমা কাজল, ‘নারী’ সম্পাদিকা শাহনাজ সুলতানা, নরী দীগন্তের সভানেত্রী শামিম আরা হেনা, যুবলীগের সহসাধারণ সম্পাদক জামাল খান, বঙ্গবন্ধু পরিষদের ডা: ফয়জুল ইসলাম, জাসদ সহসভাপতি মুজিবুল হক মনি, সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা ময়নুর রহমান বাবুল, আপ্তাব আহমদ, জাসদ নেতা সৈয়দ এনামুল হক, ড: সান্তায়ন কবিরাজ, যুব ইউনিয়ন নেত্রী ফেরদৌসি লীপি, শহীদ পরিবারের সন্তান আখি চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফুর রহমান মোজাহিদ ও জলিল চৌধুরী প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তৃতীয় বাংলাখ্যাত লন্ডন  টাওয়ার হ্যামলেটস বারার  বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত স্পীকার কাউন্সিলার রাজিব আহমেদ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তাঁর শিশু বয়সের কিছু ঝাপসা স্মৃতিচারণ করে বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার শিক্ষা আমি তখন থেকেই পেয়েছিলাম। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার সফলতা কামনা করে স্পীকার রাজিব বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে কোন যুদ্ধাপরাধই বিচারের আওতার বাইরে থাকেনি, এটি যত পুরোনোই হউক। দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর হলেও বাংলাদেশেও এটি শুরু হয়েছে। আর এটির মূল কৃতিত্ব শহীদ জননী জাহানারা ইমামের। আন্দোলনের যে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ তিনি জ্বালিয়েছিলেন, সেই অগ্নিস্ফুলিঙ্গই আজ দাবানলের মতো এগিয়ে আসছে যুদ্ধাপরাধীদের দিকে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল শিশু বয়স। এখনও কিছু স্মৃতি আমার চোখে ঝাপসা আকারে ভাসে। মানবতার বিরুদ্ধে মানুষ নামেরই একটি অংশ ঐ সময় কি নৃশংসতা চালিয়েছিলো তা আমরা কেন, সারা বিশ্বের মানুষও ঐ সময় দেখেছে। স্পীকার বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়, এটি হয়তো যুদ্ধাপরাধের প্রত্যক্ষদর্শী কেউ দেখে যেতে পারেন আর কেউ পারেন না। ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় দেখে যাওয়ার সেই সৌভাগ্যবানদের একজন হতে চাই আমি। এক সময় ধারণা করতাম এই সৌভাগ্য হয়তো আমার হবে না। কিন্তু এখন আমি আশাবাদী। এই বিচারের রায় হয়তো আমিও দেখে যেতে পারবো। স্পীকার রাজিব বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারে কোন নিরপরাধ ব্যক্তি শাস্তি পাক এটি আমরা চাই না। তবে নিরপরাধ ব্যক্তিকে ফাঁসানো হচ্ছে এই ধরনের প্রচারণা তুলে এই বিচার ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করে অপরাধীদের রক্ষা করার কোন ষড়যন্ত্রও যেন হালে পানি না পায়, এটিই আমার কামনা।

অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তা, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সর্বপ্রথম বাঙালিকে সংগঠিত করেছিলেন জাহানারা ইমাম। যে আলোর মশাল তিনি বাঙালির হাতে উঠিয়ে দিয়ে গিয়েচিলেন, সেই মশাল হাতে নিয়েই আমরা দৌড়েছি অবিরত। আর আমাদের এই দৌড়ে ছায়া হিসেবে সব সময় পাশে ছিলেন এবং এখনও আছেন শহীদ জননী। যুদ্ধাপরাধ বিচারকে বাধাগ্রস্থ করতে ব্রিটেন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সরকারসহ সবাইকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানিয়ে বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মত ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলে সব ষড়যন্ত্রের জবাব দিতে হবে। ব্রিটেনে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় বিভিন্ন প্রচারণার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তারা বলেন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা উত্তর সময়েও এই ব্রিটেনে বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র হয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধাপরাধীদের পালের গোদা গোলাম আযম ব্রিটেনে বসেই প্রকাশ্যে বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতা চালিয়েছে। কিন্তু কোন ষড়যন্ত্রই হালে পানি পায়নি। বিচারের ধীর গতিতে কোন কোন বক্তা সরকারের সমালোচনাও করেন। তারা বলেন, এই সরকারের মেয়াদকালেই বিচারের রায় কারযকর করার জন্য সরকারকে আরও সক্রিয় হতে হবে। বিচার নিয়ে কোন ধরণের আপোষকামীতার বিরুদ্ধেও হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন কোন কোন বক্তা।

উল্লেখ্য, কেউ কেউ অভিযোগ করেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের যে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে, তৃতীয় বাংলা হিসেবে খ্যাত লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস সেই ষড়যন্ত্রের অন্যতম মূল ঘাটি। পদাধিকার বলে এই বারার প্রথম নাগরিক স্পীকার। অনেকের ধারণা শহীদ জননীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বারার স্পীকার ও প্রথম নাগরিক যখন বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি তুললেন, তখন স্বাভাবিক কারনেই ব্রিটেনের মূল ধারার রাজনীতিকদের মধ্যেও এটি কোন না কোন ভাবে প্রভাব রাখবে।

এদিকে অনুষ্ঠান শেষে নিজ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে স্পীকার কাউন্সিলার রাজিব আহমদ বাংলানিউজকে  বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার  তো কোন একক জনগোষ্ঠি বা ভৌগলিক এলাকার দাবি বলে আমি  মনেকরি না। সারা পৃথিবীর  শান্তিকামী মানুষই এই দাবির  প্রতি একমত বলে আমি বিশ্বাস  করি। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থার ত্রুটি বিচ্যুতির সমালোচনা হয়তো আমাদের অনেকেই করছেন। করতেই  পারেন। কিন্তু এই সমালোচনা যেন এমন কোন পরিস্থিতি  সৃষ্টি না করে, যাতে পুরো বিচার  ব্যবস্থাই বন্ধ হয়ে যায়। স্পীকার বলেন, যুদ্ধাপরাধ বিচারের নামে নিরপরাধ কেউ  শাস্তি পাক এটি আমরা চাই  না, তবে অপরাধীরা যাতে কোন  ফাঁক ফোঁকরেই বেড়িয়ে আসতে না পারে, এটি দেখতে হবে  গুরুত্বের সাথে। স্পীকার  রাজিব আহমেদ যুদ্ধাপরাধ বিচারের দাবিতে সোচ্চার  বাংলাদেশীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বাংলানিউজকে  বলেন, জাহানার ইমামের নেতৃত্বে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, সেই আন্দোলন আজ সফলতার দ্বারপ্রান্থে বলেই মনে  করছেন অনেকে। বাংলাদেশের জনগন সেই সফলতা সেলিব্রেট করার প্রহর গুনছেন। আমিও সেই প্রহরের অপেক্ষায়।

 

 

সর্বশেষ আপডেট ( শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১২ )
 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >
Free Joomla Templates