| মঞ্জরুল আহসান বুলবুলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় সভা |
|
| বর্ণমালা নিউজ, ( নিউইয়র্ক) | |
| সোমবার, ০২ জুলাই ২০১২ | |
|
গত ২৮শে জুন নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব দেশের সাংবাদিক সমাজের জন্য বিরল সম্মান ইন্টার ন্যাশনাল প্রেস ইনিস্টিটিউটের সহ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় মঞ্জরুল আহসান বুলবুলকে অভিনন্দন জানাতে আয়োজন করেছিল এই শুভেচ্ছা বিনিময় সভার। সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয় জ্যাকসন হাইটসের দেশ বাংলা অফিসে অনুষ্ঠিত শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন নিউইয়র্কের বিভিন্ন মিডিয়ার প্রতিনিধিরা। সভায় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও ইন্টার ন্যাশনাল প্রেস ইনিস্টিটিউট (আইপিআই)‘র সদ্য নির্বাচিত সহ সভাপতি মঞ্জরুল আহসান বুলবুল বলেন বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধে ও তাদের অধিকার রক্ষায় অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার চেয়ে নিউইয়র্কের বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকরা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারেন-আর এজন্য বিভেদ ভুলে নিউইয়র্কের সাংবাদিকরা একক শক্তিতে পরিণত হোয়া প্রয়োজন, এতে কমিউনিটিতে যেমন সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি যেমন উজ্জল হবে, তেমনি দেশের সাংবাদিকরাও একটি নিশ্চিত ভরসাস্থল খুঁজে পাবেন। প্রেসক্লাবের সভাপতি সাপ্তাহিক বর্ণমালা‘র সম্পাদক মাহফুজুর রহমান ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ক্লাবের পক্ষ থেকে মঞ্জরুল আহসান বুলবুলকে। তার আইপিআই‘র সহ সভাপতি নির্বাচিত হবার ঘটনাকে বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় মাইল ফলক ঘটনা বলে মন্তব্য করে প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহফুজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আগামীতে আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। প্রয়োজনে আমেরিকার প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তুলে ধরবে এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে। প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব পরিচালনা করেন। তার স্বাগত বক্তব্যে আবু তাহের মঞ্জরুল আহসান বুলবুলকে বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজের অধিকার রক্ষার প্রাণপুরুষ হিসাবে অ্যাখ্যায়িত করে আইপি আই-র সহ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব পরিচালনা করেন ক্লাবের কার্যকরী সদস্য ও বাংলানিউজ২৪‘র নিউইয়র্ক প্রতিনিধি শিহাবউদ্দিন কিসলু। এ পর্বে প্রেসক্লাবের সদস্যরা ও অতিথি সাংবাদিকরা বাংলাদেশের মিডিয়া জগতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয়ে মঞ্জরুল আহসান বুলবুলের কাছে জানতে চান ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও দৈনিক নিউইনেশনের নিউইয়র্ক প্রতিনিধি মাহমুদ খান তাসের, অপর সহ সভাপতি আই অন বাংলা টিভি অনুষ্ঠানের পরিচালক রিমন ইসলাম, দৈনিক ইত্তেফাকের বিশেষ সংবাদদাতা শহিদুল ইসলাম, সাপ্তাহিক আজকাল‘র নির্বাহী সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, এটিএন বাংলা ইউএসএ‘র বার্তা সম্পাদক ফকির সেলিম, প্রেসক্লাবে কার্যনির্বাহী সদস্য ও াপ্তাহিক দেশ বাংলা‘র নির্বাহী সম্পাদক আলমগীর সরকার, ক্লাবের সদস্য ও সাপ্তাহিক বাংলা টাইমসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মিজানুর রহমান দুলাল ও বাপস নিউজরে প্রতিবেদক সাকিনা ডেনী। মঞ্জরুল আহসান বুলবুল বলেন, সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনীর হত্যাকান্ডের বিচার দাবীতে দেশের সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করছেন। কিন্তু এই ঐক্য মানে তারা সাংগঠনিকভাবে এক হয়ে যাননি। একটি যৌথ নেতৃত্বের পদ্ধতিতে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে দাবী আদায়ে আন্দোলন করছেন। দেশে সাংবাদিকদের ঐক্যের ক্ষেত্রে যেসব বাঁধা রয়েছে সেসব বাঁধা নিউইয়র্কে নেই। তাই এখানে ঐক্য অনেক সহজ। এটিএন বাংরা‘র চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমানের সাগর-রুনীর হত্যাকান্ড নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যকে অমানবিক বলেছেন বুলবুল। বুলবুল আরো বলেন, যদিও তিনি এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করেছেন কিন্তু যারা মডিয়ার মালিক তারা এক অর্থে সাংবাদিকদের অভিভাবক এবং তাদের কাছ থেকে এ রকম বক্তব্য অনভিপ্রেত। জাতীয় প্রেসক্লাবে এটিএন বাংলা‘র সাংবাদিকদের অন্যান্য সাংŸাদিকদের সাথে সংঘষে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে প্রেসক্লাবের ইতিহাসে কলঙ্কজনক বলে বিএফইউজের সাবেক সভাপতি বলেন, কিন্তু কয়েকজন সাংবাদিকদের আচরণের জন্য পুরা একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াটা ঠিক না। এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে এবং এই অবস্থা বেশী দিন চলতে পারে না। বর্তমান সরকারের সময়ে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আইপিআই‘র সদ্য নির্বাচিত সহ সভাপতি বুলবুল বলেন, এমনটা হবার কথা না, কারণ আওয়ামী লীগ সাংবাদিকদের সাথে সব সময় সুসম্পর্ক রেখে এসেছে। কিন্তু এখন প্রধানমন্ত্রী সহ অন্যান্য মন্ত্রীরা সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যম সম্পর্কে এতো কথা বলছেন কেন তা খতিয়ে দেখা উচিৎ। ধারণ করছি যে জাতীয় সংসদ যথাযথবাবে কার্যকর না থাকায় অথ্যাৎ বিরোধী দল যোগ না দেয়ায় সরকারের বিভিন্ন ইস্যুতে সংবাদ মাধ্যমই একমাত্র সমালোচকের ভূমিকায় থাকায় সরকারের সব রোষ সাংবাদিকদের উপর পড়ছে। দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় সরকারের পক্ষ থেকে নয় মালিক পক্ষের স্বার্থই এখন এর স্বাধীনতায় বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মালিকের স্বার্থে চলে সেলফ সেন্সরশীপ। আবার কোন কোন হাউজের মালিকদের অন্য ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় তারা তাদের পত্রিকা বা টিভি‘কে পারস্পরিক আক্রমণের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছেন। মঞ্জরুল আহসান বুলবুল বলেন, বাংলাদেশে কোন সরকারের সময়ে সাংবাদিকরা নির্যাতিত হয়নি এটা কেউ দাবী করতে পারেন না। আর তাই সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাউথ ও সেন্ট্রাল এশিয়া বিষয়ক সহকারী সেক্রেটারী রবার্ট ব্লেক ঢাকা সফরের সময়ে জানতে চেয়েছিলেন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিক নির্যাতনের বিষয়ে- আমি তখন বলেছি সব দলের সরকারের সময়েই সাংবাদিকরা নির্যাতিত হয়েছে। এখন যেমন আওয়ামী লীগের সময়ে হচ্ছে তেমনি বিএনপির সময়েও হয়েছে, তার আগে জাতীয় পার্টির সময়ে তারা নির্যাতিত হয়েছেন। এমনকি জামাতে ইসলামীও সাংবাদিকদের নির্যাতনের শরিক ক্ষমতার শরিক হিসাবে। |
|
| সর্বশেষ আপডেট ( শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১২ ) |
| < পূর্বে | পরে > |
|---|