News-Bangla - নিউজ বাংলা - Bangla Newspaper from Washington DC - Bangla Newspaper

২৩ মে ২০১৩, বৃহস্পতিবার      
মূলপাতা arrow খবর arrow প্রবাস arrow মেরিল্যান্ডে হৃদয়স্পর্শী নাটক "ছবি"র সফল মঞ্চায়ন
মেরিল্যান্ডে হৃদয়স্পর্শী নাটক "ছবি"র সফল মঞ্চায়ন প্রিন্ট কর
সফি দেলোয়ার কাজল   
বৃহস্পতিবার, ২৮ জুন ২০১২

গ্রেটার ওয়াশিংটনের  বাংগালী প্রবাসীদের  সংগঠন ট্যাগর মিউজিক গ্রুপের আয়োজনে  বাংলা সাহিত্যের দিগ্বিজয়ী পুরুষ শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছোট গল্প "ছবি" অবলম্বনে হৃদয়স্পর্শী নাটক মঞ্চস্থ হয়  মেরিল্যান্ডের ব্লাক রক থিয়েটার হলে। 

বিস্তারিত

শরত্চন্দ্রের এই  শৈল্পিক সৃষ্টি ‘ছবি’কে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন ভারতী মিত্র। ১৯২০ সালে রচিত শরত্চন্দ্রের ছবি কাহিনীটি বিস্তৃত হয়েছে রাজকীয়  বার্মার সে সময়ের রাজধানী মান্দালের সন্নিকটে ইমেদিন গ্রামে । বার্মা তখনও স্বশাসিত।  নাটকের সুচনাতেই মৃত্যু সজ্জায় শায়িত   জমিদার থান লিনের আকুতি। বন্ধু বা-কোর হাতে মেয়ে  মা-শোয়েরকে তুলে দিয়ে বন্ধু পূত্র বা-থিনের সাথে বিয়ের  ইচ্ছা জানিয়ে ইহলোক ত্যাগ করলেন তিনি। বন্ধু বা-কো ও এক সময় ছিলেন ধনীকুব। কিন্তু সমাজ এবং মানবতার সেবায় নিজের সহায় সম্পত্তি হারাইয়া অবশেষে  সর্বস্বান্ত এবং  ঋণগ্রস্ত হইয়া তিনিও  বিদায় নিলেন।

"ছবি"র কাহিনীর এখানেই সূত্রপাত। এরপর বা-থিন এবং মা-শোয়ের প্রেম বিরহ, মান-অভিমান, হাসি কান্নার জাল বুনে মূল গল্পকে  সামনে রেখে নতুন আঙ্গিক, নাট্যরস ও রূপকতায় সাজানো এ নাটক উপভোগ করেন মিলনায়তন ভর্তি দর্শক।

নাটকে বা-থিন ছবি আঁকিত। পিতার প্রতি ভালবাসা থেকে পিতার ঋণ শোধ করার প্রত্যয়ে ছবি আকাতেই তার মনোনিবেশন। প্রেমিকা মা-শোয়ের কে সময় দেওয়ার সময় কোথায়? অথচ বা-থিনের  সৌন্দর্যে পাগল প্রায় মা-শোয়ের পেতে যায় তাকে পেতে চায় তার আপন ভুবনে।  নিজের সৌন্দর্য এবং উত্তারিকার সূত্রে পাওয়া অধেল সম্পত্তি মা-শোয়েরকে করেছে অনেকটাই আন্দোলিত। কিন্তু প্রেমের চেয়ে সে সময় বাবাকে ঋণ মুক্ত করার  কর্তব্যকে বড় করে দেখায়  মা-শোয়ের সেই মন কামনায় কেবলই জল পরিতে লাগিল।  প্রেমিকের কাছে এই অবজ্ঞা আর অবহেলা  মা-শোয়ের কে জেদী এবং প্রতিহিন্সা পরায়ন করিয়া তুলিল।

এমনি এক সন্ধিক্ষনে জমিদারী  ঐতিহ্যের ধারক ঘোড় দৌড়ে বিজয়ী অমিত সাহসী সুপরুষ এক যোদ্ধা পো-থিনের সাথে পরিচিত হলেন মা-শোয়ের। পো-থিনের প্রেমের আবেদনে অনেকটাই বিভ্রান্ত মা-শোয়ের। এক দিকে বাল্য প্রেমিক বা-থিনের  নির্লভ ভালবাসা, অন্যদিকে  পো-থিনের কামনা বাসনার মায়াজাল।

 বা-থিন এবং মা-শোয়ের মনান্তর পো-থিনকে ঘিরে আরো চরম পর্যায়ে পৌছাইল যে মা-শোয়ের  ক্রমেই প্রতিহিংসা পরায়ন হইয়া উঠিল। পো-থিনকে ব্যবহার করিয়া রাজ দরবার হইতে সমন আনাইল - তাদের পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য। এদিকে রাজ দরবারের জন্য আকা ছবিটিও বিক্রি না হওয়াতে উপায়ন্ত না দেখিয়া বা-থিন তার স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করিয়া মা-শোয়ের ঋন পরিশোধ করিতে মনস্থির করিল। অবশেষে টাকা পরিশোধের জন্য বেধে দেওয়া সময়ের শেষ দিন বা-থিন টাকা লইয়া মা-শেয়ার গৃহে হাজির হইল।

 কিন্তু নানা নাটকিয়তার মধ্যে দর্শকরা  বিস্ময়ে চাহিয়া দেখিল বা-থিন- মা-শোয়ের   বিষাদ, বিদ্বেষ, নিরাশা, লজ্জা, অভিমানের পালা বদলে নিঃশব্দে তাদের অন্তরে  যেন স্নেহ  ভালবাসার দোলা খেলিয়া গেল।  ভালবাসার বিপুল আয়োজনের মাঝে  বা-থিন এবং মা-শোয়ের  প্রেমময় জীবনের জয়গান গেয়েই নাটকের যবনিক ঘটে।

শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গল্প এবং উপন্যাস নিয়ে অনেক নাটক এবং চলচিত্র নির্মিত হলেও তার ছবি ছোট গল্পের নাট্যরূপ সম্ভবতঃ এটাই প্রথম। আর প্রবাসের অপেশাদার অভিনয় শিল্পীদের নিয়ে এই ধরনের সাহিত্য নির্ভর নাটকের  মঞ্চায়ন একটি দূরূহ বিষয়। আর এই কার্যটি দারুন ভাবে সম্পন্ন করেছেন ভারতী মিত্র। শরত্চন্দ্রের এই নাটকটি মঞ্চায়ন করতে ভারতী মিত্র আশ্রয় নিয়েছেন রবীন্দ্রনাথের ।  শরত্চন্দ্রের এই কাহিনী ব্যঞ্জনার পরতে পরতে রবীন্দ্র সংগীতের ব্যবহার নাটকটিকে করেছে আরো মহিমান্বিত।

 উনিবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের রাজকীয় সামাজিক অবস্থানে কাহিনী বিন্যাসের সাথে যথাপযোগী গান এবং নাচের ব্যবহারে নাটকটি হয়ে উঠে আরো প্রানবন্ত। নাটকের মূল দুটি চরিত্র-বা-থিন চরিত্রে অভিনয় করেছেন কামাল আহমেদ তুষার এবং মা-শোয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুবর্না ঠাকুর। তুষার এবং সুবর্না স্ব স্ব চরিত্রে প্রানবন্ত অভিনয় নাটকটিতে প্রানের সঞ্চার হয়। স্বীয় সৌন্দর্যে গর্বিত  জমিদার কন্যার বহির্মুখী চরিত্রে চঞ্চলা তরুনী চরিত্রে সুবর্নার প্রানবন্ত অভিনয়ের সাথে

  
ঘাত প্রতিঘাতে জর্জরিত  বা-থিনের অন্তর্মুখী চরিত্রে তুষারের পরিমিত অভিনয় দর্শকদের অন্তরে দোলা দিয়ে যায়। নাটকে বা-থিনের চরিত্রটি ছিল বেশ জটিল।  মা-শোয়েরের  প্রতি তার অব্যক্ত ভালবাসা, আশা নিরাশায় দোলা জীবনের নানা বাঁকে ক্ষত বিক্ষত করেছে তাকে। এই ধরনের একটি জটিল চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার নিরন্তর প্রয়াস পেয়েছে তুষার  । নাটকের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র- পো থিন চরিত্রে অভিনয় করেছে শান্তুনু বাগচী। নাটকে পৌরুষ দীপ্ত তরুন যোদ্ধা,  মা-শোয়েরের পানি প্রার্থী চরিত্রে যথোপযোগী অভিনয় করেছেন তিনি। নাটকের  প্রবাল বংগোপধ্যায় (থান লিন চরিত্রে),  সুনীল কুন্ডু (বা-কো চরিত্রে), আলোক রায় ( গাই লীন) চরিত্র অনুযারী ভাল অভিনয় করেছেন।  অন্যান্য চরিত্রে  আরো অভিনয় করেছেন রানা সিনহা, অর্চনা, সাহানা, সারিয়া, সোমা,
সয়াতি, শ্রেয়া। নাটকের ধারাবর্ননায় রানা সিনহা,সয়াতি চৌধুরী।

নৃত্য পরিচালনায় শ্রুতি মুকন্দ এবং দিপ্তী মুকন্দ। নৃত্যে অংশ গ্রহন করে নাট্যভুমি ড্যান্স ইন্সিটিটিউটের নৃত্য শিল্পীবৃন্দ। নাটকের শুরুতেই সংগঠনের সভাপতি নন্দিতা দাসগুপ্ত দর্শক শ্রোতাদের স্বাগত জানিয়ে ট্যাগর মিউজিক গ্রুপ সম্পর্কে বক্তব্য তুলে ধরেন।

সবশেষে নাট্যকার এবং টিম লীড ভারতী মিত্র নাটকের শিল্পী কালা কৌশলী এবং  দর্শক শ্রোতাদের ধন্যবাদ  জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে দারুন উপভোগ্য এই নাটক সন্ধ্যার সমাপ্তি টানেন।

আরো ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

 

 

 


  

 

সর্বশেষ আপডেট ( শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১২ )
 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >
Free Joomla Templates