|
বঙ্গবন্ধুই একমাত্র রাজনীতিবিদ যিনি বাঙালীর জন্য রাষ্ট্র চেয়েছিলেন |
|
|
বর্ণমালা নিউজ
|
|
বুধবার, ২০ জুন ২০১২ |
|
 বঙ্গবন্ধুই একমাত্র রাজনীতিবিদ যিনি বাঙালীর জন্য রাষ্ট্র চেয়েছিলেন বর্ণমালা নিউজ, নিউইয়র্ক থেকেঃ বঙ্গবন্ধু এবং তার জীবন নিয়ে ইতিহাসভিত্তিক বিস্তৃত এক আলোচনা করলেন মুনতাসির মামুন আর মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনে গেলেন শ্রোতারা। তিনি ছিলেন অনুষ্ঠানের একক বক্তা।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এমনই এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ। গত ১৭ জুন রবিবার নিউইয়র্কে বঙ্গবন্ধু সম্মেলন ও স্মারক বক্তৃতায় মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ঢাকা থেকে আসা অধ্যাপক মুনতাসির মামুনের ‘বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতা’। তার বক্তব্যে মামুন বলেন, বাঙ্গালী জাতির রাজনীতিবিদদের মধ্যে একমাত্র যিনি বাঙ্গালীর জন্য রাষ্ট্র চেয়েছিলেন তিনি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু-তার এই চাওয়া শুরু হয়েছিলে সেই ১৯৪৮ সাল থেকে এবং ধাপে ধাপে তিনি তার সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে গেছেন। আর তাই পরিবর্তনের যাত্রায় যদি কোনদিন বাংলাদেশ নামটি না থাকলেও বাঙ্গালী জাতির ইতিহাস থেকে দুটি নাম কেউ মুছে ফেলতে পারবেন না- এ নাম দুটি হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান-যিনি আমাদেরকে একটি রাষ্ট্র দিয়ে গেছেন, অপরটি হচ্ছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ-বাংলাকে যিনি আমাদের ভাষায় পরিণত করে গেছেন। মুনতাসির মামুন আরো বলেন, ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে বিভিন্নভাবে বাঙ্গালীর স্বাধীকার আন্দোলনের ও স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক থেকে বিচ্যুত করে চিত্রিত করার অপ্রয়াস নিয়েছেন অনেকেই। কিন্তু তৎকালীন সরকারী দলিল ও গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং ঘটনাক্রমগুলো অপ্রচারকারীদের প্রচেষ্ঠাকে নসাৎ করে দেয়ার জন্য যথেষ্ঠ। এবারের বঙ্গবন্ধু সম্মেলন ছিল দুটি পর্বে বিভক্ত-সাংষ্কৃতিক ্অনুষ্ঠানমালা ও বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতা। যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ নিবেদিত ও খান শওকত পরিচালিত বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্র ‘তিনি কেন জাতির পিতা?” প্রদর্শনের মধ্যে দিয়ে শুরু সম্মেলন। এরপর আর্ব্দুলাহ আল মামুন বিরচিত নাটক ‘বিবি সাহেব’ মঞ্চস্থ হয়। নির্মলেন্দুনের কবিতা অবলম্বনে নিজের লেখা ও সুরে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান পরিবেশন করেন শিল্পী আল আমিন। যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মুুক্তিযোদ্ধা ও বিজ্ঞানী ড. নুরন নবী তার স্বাগত বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্ততা প্রবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, আমেরিকায় যেমন লিংকন স্পীচ আছে, তেমনি আমারা করেছি বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতা। এবার এর র্সচনা হল-আগামীতে আরো কেউ আসবেন এই স্মারক বক্ততায় অংশ নিতে। বঙ্গবন্ধুকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এটি বিরাট ভূমিকা রাখবে। সাধারন সম্পাদক সিতাংশু গুহ তার বক্কব্যে বলেন একদিন ‘৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন’ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএচিডি বিষয়ে পরিণত হবে-শিক্ষাথী-গবেষকরা তা নিয়ে গবেষণা করবেন। সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পরই একক বক্তা হিসাবে মঞ্চে আসেন অধাপক মুতাসির মামুন। তার বক্তৃতায় মামুন রাজনীতিবিদ শেখ মুজিবর রহমানের বাঙ্গালীর স্বাধীনতা সংগ্রামের রূপকারে পরিণত হবার পর্যায়ক্রমিক বর্ণনা দেন। ১৯৪৭ সালে সোহরয়ার্দী-শরৎ বসু যুক্তবঙ্গের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু তারা সেই প্রত্যাশা নিয়ে দিল্লী গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসেন। কংগ্রেস-মুসলিম লীগের তাতে সায় না দেয়ায় বাঙ্গালীর স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন স্বপ্ন থেকে যায়। সেই স্বপ্ন লালন করেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে থেকে গণতান্ত্রিক ও একই সাথে সশস্র সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে বাঙ্গালীর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যান বঙ্গবন্ধু। ১৯৬৯ সালে পূর্ব বাংলার নাম বাংলাদেশ’ হিসাবে ঘোষনা করেন বঙ্গবন্ধু: একাত্তরের ৩ জানুয়ারী তিনি ইচ্ছা প্রকাশ করলেন যে দেশ স্বাধীন হলে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হবে রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলা’্ আসলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের জানা-অজানা অনেক তথ্যই বঙ্গবন্ধুর জীবনের সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। বিশ্ব বাবা দিবসের ছুটির দিনে এস্টোরিয়ার ক্লাব সনম-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে বিপুল সংখ্যক বঙ্গবন্ধুপ্রেমী উপস্থিত হয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। |
|
সর্বশেষ আপডেট ( শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১২ )
|