|
 বাংলা স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীদের আনন্দ এবং উচ্ছ্বাসের মাঝে বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ইঙ্ক (বিসিসিডিআই) আয়োজনে ২২তম উপহার বাংলাদেশ মেলা অনুষ্ঠিত হল গত ১৬ই জুন ভার্জিনিয়া রাজ্যের আর্লিংটনস্থ থমাস জেফারসন মিডল স্কুল অডিটোরিয়ামে।
 "শিশু কিশোরদের মেধা প্রতিযোগিতা"র বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্টানের সূচনা ঘটে। এরপর সাব্রিনা চৌধুরী ডোনার উপস্থাপনায়শুরুতেই বাংলা স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীদের পরিবেশিত বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত এবং ওয়াদিয়া মাহজাবীনের যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন। 
নিউইয়র্কের শিল্পী সমীরণ বড়ুয়া মনমুগ্ধকর সঙ্গীতের মুর্ছনায় বাংলা স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠান হিসাবে পরিচিত এই মেলার সাংষ্কৃতিক পর্বের শুরু হয়। 
তারপর যথারীতি বাংলা স্কুলের সংগীত বিভাগের এবং নৃত্য বিভাগের ছাত্র/ছাত্রীদের অনবদ্য পরিবেশনা।  বাংলা স্কুলের গানের শিক্ষক নাসির চৌধুরী এবং তসলিম হাসানের পরিচালনায় একক এবং সম্মিলিত সংগীত  এবং নৃত্য শিক্ষিকা অন্তরা রহমান কাউরীর পরিচালনায় নৃত্যানুষ্ঠান সকলকে মুগ্ধ করে।

আলো ঝলমল মঞ্চে বাংলা স্কুলের দ্বিতীয় প্রজন্মের ক্ষুদে শিল্পীদের কন্ঠে পরিবেশিত গান ছিল উপভোগ্য। বিশেষ করে উচ্চাংগ এবং রাগ ভিত্তিক নতুন সংগীতের সংযোজন ছিল এক কথায় অনন্য। তবে এই পর্বের দৈর্ঘ্য আরো একটু ছোট হলেই আরো উপভোগ্য হত বলে উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের অনেকেই মন্তব্য করেছেন। এ ছাড়া পরিবেশনার আংগিকে আরো কিছু নতুনত্ব আনার সুযোগ ছিল। ফলে বাংলা স্কুলের এ বছরের পরিবেশিত অনান্য অনুষ্ঠান (পিঠা উৎসব এবং একুশে ফেব্রুয়ারী) থেকে উপহারকে আলাদা করে দেখার সুযোগ ছিল না। তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে ছাত্র/ছাত্রীদের গানের অনেক উন্নতি হয়েছে। গুনী শিল্পী নাসির এবং তসলিম এ জন্য কৃতিত্ব পেয়েই পারে। 
অনুষ্ঠানের সেরা অলংকারটি ছিল ছাত্র/ছাত্রীদের পরিবেশির অপরুপ নৃত্যানুষ্ঠান।  বাংলা স্কুলের কচি মুখগুলি তাদের সেরা পারফর্মেন্স দেখিয়ে একে একে মঞ্চে আসছিল অনুষ্ঠানের দর্শক শ্রোতারা বিপুল করতালি আর হৃদয়ের আবেগ দিয়ে ওদের বরণ করে নিচ্ছিল। দ্বিতীয় প্রজন্মের নৃত্য কন্যা কাঊরীও এ জন্য ধন্যবাদ পেতেই পারে। 
বিশেষ আকর্ষন ছিল দুই বোন কাউরী এবং গৌরীর কথক নৃত্য। 
উপহারের শেষ আকর্ষন বাংলাদেশের এক সময়ের জনপ্রিয় শিল্পী বর্তমানে টরন্টো প্রবাসী তপন চৌধুরী, নিউজার্সী প্রবাসী রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী কাদেরী কিবরিয়া এবং ক্লোজ আপ শিল্পী দিপ্তীর পরিবেশনা। এর আগে অতিথি শিল্পীদের গানের প্রস্তুতির ফাকে নৃত্য পরিবেশন করেন মুক্তা বড়ুয়া। 
বাংলা স্কুলের এই বার্ষিকী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সেলিব্রেটী শিল্পীদের আমন্ত্রন জানানোর উদ্দেশ্যে স্কুল পরিচালনার জন্য কিছু অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহ। তবে তাদের সেই প্রচেষ্টা সফল হয়েছে এটা বলা যাবে না। অতিথি শিল্পীরা যেমন বাড়তি দর্শক টানতে পারে নাই তেমনি তাদের পরিবেশনাও উপস্থিত উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের মন ছুয়ে যায়নি। তপন চৌধুরী এবং কাদেরী কিবরিয়ার সেই স্বর্ণ সময় এখন আর নেই। তরুন তারুন্যের দিপ্তী চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কোন তারকা খ্যাতি না থাকাতে তিনিও দর্শকদের উপলব্ধিতে আসতে পারে নাই। তবে শুরুতে পরিবেশিত নিউইয়র্কের শিল্পী সমিরণ বড়ুয়ার গান মানুষের অন্তর ছুয়ে গেছে।সময়ের অভাবে গ্রেটার ওয়াশিংটনের গুনী শিল্পী নাসির এবং তসলিনের পক্ষে গান পরিবেশনের সুযোগ হয়নি। গ্রেটার ওয়াশিংটনের দর্শক শ্রোতাদের দূর্ভাগ্য এই দুই শিল্পীর গান সে ভাবে শোনা হয় না। এবারের উপহার বাংলাদেশ মেলায় অন্যান্য বারের তুলনায় দর্শক কম হওয়াতে অনেকেই মন্তব্য করেছেন অতিথি শিল্পীদের এই প্রাধন্য না দিয়ে বাংলা স্কুলের পাশাপাশি কমিউনিটির আরো শিশু কিশোরসহ স্থানীয় শিল্পীদের সুযোগ দিলে এর চেয়ে আরো বেশী দর্শক সমাগম হত। অনুষ্ঠানের মাধুর্য আরো বৃদ্ধি পেত। তবে কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেয় বিগত ২১ বছরের ধারায় উপহার বাংলাদেশ মেলা গ্রেটার ওয়াশিংটনে বাংগালী কমিউনিটির প্রানের মেলা। প্রতি বছরে এই মেলার জন্য সবাই তাকিয়ে থাকে কিছু সুন্দরের প্রত্যাশায়। আর এখানেই নিহিত এর স্বার্থকতা। ডঃ আরিফুর রহমানের ক্যামেরাতে আরো ছবির জন্য এখানে ক্লিক করুন |
Comments
bangla news
bangla news
RSS feed for comments to this post