মূলপাতা arrow খবর arrow বিদেশ arrow শুভ বাবা দিবস
শুভ বাবা দিবস প্রিন্ট কর
নিউজ-বাংলা ডট কম   
রবিবার, ১৭ জুন ২০১২

 
আজ আমেরিকায় উদযাপিত হচ্ছে বাবা দিবস। সারা বিশ্বের বাবাদের প্রতি সন্তানরা আজ অপরিসীম শ্রদ্ধা ও ভালবাসার প্রকাশ করছেন। বাবার স্নেহ-শাসন মাখা যত্নে বেড়ে উঠা আমাদের সবার জীবন। সন্তানকে আগলে রেখে তাকে পিতৃস্নেহে বড়ো করার জন্য কি অপরিসীম ত্যাগ ও অবদান আমাদের সকলের বাবাদের। বাবা দিবসে তাই সকল বাবাদের প্রতি রইল নিউজ বাংলার শ্রদ্ধাঞ্জলী।

প্রতিটি বাবা সন্তানকে বড়ো করে বার্ধক্য ছুঁয়ে একসময় সময়ের ডাকে বিদায় নেন। শুধু রেখে যান প্রতিটি সন্তানের রক্তে ভালবাসার উষ্ণ স্পর্শ ও আশীর্বাদ। এভাবেই প্রতিটি প্রজন্মকে আশীর্বাদ করে পিতারা স্মৃতির পাতা ভারী করে ইতিহাস হয়ে বেঁচে থাকেন। বাবা দিবসে কবি সুকান্তের উচ্চারণে বলতে হয়,

"...এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক'রে যাব আমি -
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
অবশেষে সব কাজ সেরে
আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে
করে যাব আশীর্বাদ,
তারপর হব ইতিহাস"।


 বাবা দিবসের ইতিহাস   
 
জুন মাসের তৃতীয় রোববার হচ্ছে বাবা দিবস। ঠিক কবে থেকে এ দিবসটির প্রচলন হল তা নিয়ে দ্বিধা আছে। কেউ কেউ বলেন, ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় চার্চের মাধ্যমে দিনটির প্রচলন। অন্যরা বলেন, ওয়াশিংটনের ভ্যাঙ্কুবারে প্রথম বাবা দিবস পালন করা হয়। এই দিনটি পালনে মতভেদ থাকলেও বাবাকে সন্তানদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানোর এ ধারণার সূত্রপাত ঘটান ওয়াশিংটনের মিসেস সোনোরা স্মার্ট ডড। ১৯০৯ সালে মা দিবসের কথা শুনে তার মাথায় বাবা দিবসের ধারণা আসে। সোনোরা তার বাবা উইলিয়াম স্মার্টকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বিশেষ একটি দিনের কথা ভেবেছিলেন। উইলিয়াম গৃহযুদ্ধের সময় একজন সৈনিক ছিলেন। তার স্ত্রী ষষ্ঠ সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় মারা যান। পূর্ব ওয়াশিংটনের এক গ্রামের ফার্মে এরপর থেকে তিনি নবজাত ও বড় পাঁচটি সন্তান মানুষ করার দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নেন। সোনোরা বড় হওয়ার পর অনুভব করলেন ৬টি সন্তান একা একা মানুষ করতে কী ভীষণ পরিশ্রমই না তার বাবাকে করতে হয়েছে। উইলিয়াম তার মেয়ের চোখে ছিলেন সাহসী, নিঃস্বার্থ একজন ভালো বাবা-যিনি সন্তানদের জন্য নিজের সব সুখ-শখ, আহ্লাদ বিসর্জন দিয়েছিলেন। ১৯০৯ সালে সোনোরা বাবার জন্মদিন অর্থাত্ ৫ জুন চার্চের মাধ্যমে একটি অনুষ্ঠান করা যায় কি না, এ ব্যাপারে স্পোকেনের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সময়স্বল্পতার কারণে ওইদিন নয়, ১৯ জুন প্রথম ওয়াশিংটনের এই অঙ্গরাজ্যে বাবা দিবস পালন করা হয়। দূরে বসবাসকারী বাবাকে দেখতে যাওয়া, বাবার জন্য কিছু রান্না করা বা উপহার দেওয়ার মাধ্যমে দিনটি উদ্যাপনের শুরু সেদিনই।
১৯১৬ সালে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন বিষয়টি অনুমোদন করেন। ১৯২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কোলিজ এটিকে জাতীয় দিবসে রূপ দেন। ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন রাষ্ট্রীয়ভাবে জুনের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস উদ্যাপনের ঘোষণা দেন। বাবার সঙ্গে সন্তানের নির্ভরতা বাড়াতে পরিবারের পক্ষ থেকে দিনটি পালন করা হয় যুক্তরাষ্ট্রে।
ইতিহাস শুরু যেখান থেকেই হোক, দিনটিতে বাবাকে উদ্দেশ করে শুভেচ্ছা-ভালোবাসা জানাতে আমাদেরইবা বাধা কোথায়?

সর্বশেষ আপডেট ( শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১২ )
 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >
Free Joomla Templates