মূলপাতা arrow লেখালেখি arrow ফিচার arrow কর্ণফুলীর কান্না
কর্ণফুলীর কান্না প্রিন্ট কর
নিউজ-বাংলা ডেস্ক   
মঙ্গলবার, ০৫ জুন ২০১২

কর্ণফুলী নদীটির নাম কর্ণফুলী হল কেন? নামকরণের ইতিহাস ঘাটতে  গিয়ে  জানতে পারলাম বেদনাবিধূর একটা লোককথা। এক রাজকন্যা ভালোবাসতো আদিবাসী এক রাজকুমারকে। রাজকুমারের সাথে নদীতে নৌকায়  ঘুরে বেড়ানোর  সময় রাজকন্যার কানের ফুল নদীর জলে পরে যায়। ফুলটি তুলতে রাজকন্যা ঝাঁপিয়ে  পরে নদীর জলে। ক্রমশ ডুবতে থাকা রাজকন্যাকে বাঁচাতে রাজপুত্রও ঝাঁপিয়ে পরে নদীর জলে। বাঁচতে পারেনি কেউই।

 সেই যে রাজকন্যার  কানের ফুল হারিয়ে  গেল নদীর জলে তখন থেকেই এই নদীর নাম কর্ণফুলী। হায় কর্ণফুলী, নামকরণেই তার হারানোর গল্প। সেই থেকে এই অপূর্ব সুন্দর নদীটি কেবল লিখে গেল হারানোরই ইতিহাস। কান্না আর বেদনার কাব্য। এই কর্ণফুলির কারনেই রচিত হয়েছিল লাখ মানুষের কান্নার এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের এক অধ্যায়। 

 সময়টা ১৯৫৬ সাল। পশ্চিম পাকিস্তানিদের দোর্দন্ড শাসন চলছে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে। দেশে বিদ্যুতের প্রয়োজন। শুরু হল একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ। বাঁধ তৈরীর জন্য বেছে নেয়া হল অনিন্দ্যসুন্দর একটি পাহাড়ী নদীকে। হ্যাঁ, রাজকন্যার হারানো কানের ফুল  বয়ে বেড়ানো  সেই কর্ণফুলী নদীকে। ঢাক-ঢোল পিটিয়র  শুরু হল বিদ্যুত উৎপাদনের কাজ। আর একই সঙ্গে শুরু হল কান্নার গল্প, নির্বাসনের গল্প।

বাঁধের একপাশে সঞ্চিত পানি যখন  ছেড়ে দেয়া  হল তার সবটুকুই ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের মত ধেয়ে গেল  একটা স্বর্গের মত সুন্দর পাহাড়ী  জনপদের দিকে। সরল পাহাড়ী  মানুষগুলো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিস্ফোরিত চোখে  চেয়ে  দেখল  তাদের আবাসকে ডুবে যেতে। অবিশ্বাসীর মত তাকিয়ে  দেখল তাদের জুম চাষের পাহাড়কে তলিয়ে  যেতে। দেখল তাদের প্রিয়  রাজার রাজবাড়িটি ধীরে ধীরে হারিয়ে  যাচ্ছে সর্বনাশা পানির তলায়।  আগের রাতেও যে কিশোরী মেয়েটি  চোখে রঙিন স্বপ্ন নিয়ে  ঘুমোতে গিয়েছিল তার চোখ ভরে  গিয়েছিল  স্বপ্নভঙ্গের বেদনায়।

 

সর্বশেষ আপডেট ( বুধবার, ০৬ জুন ২০১২ )
 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >
Free Joomla Templates