| ঢাকা শেরাটন হোটেল এখন ‘রূপসী বাংলা’ |
|
| নিউজ-বাংলা ডেস্ক | |
| শুক্রবার, ২৯ এপ্রিল ২০১১ | |
![]() জীবনানন্দ দাশের ‘রূপসী বাংলা’ কবিতার নামে নামকরণ করা হয়েছে ঢাকার পাঁচ তারকা হোটেল শেরাটনের। আগামী রবিবার থেকে এ নামেই পরিচিত হবে দেশের প্রথম পাঁচ তারকা এ হোটেলটি। ভবিষ্যতে যখন কোন আন্তর্জাতিক হোটেল এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেবে তখনও এ নামটি বহাল রাখা হবে। তখন রূপসী বাংলার সঙ্গে যুক্ত হবে চেইন অপারেটর বা সংশ্লিষ্ট হোটেলের নাম। গত বুধবার এ নামটি চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড (বিএসএল) এর পরিচালনা পরিষদ। হোটেলের নাম নির্বাচন এবং ব্যবসায়িক কৌশল নির্ধারণের জন্য বুধবার হোটেল শেরাটনে বিএসএল’র পরিচালনা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএসএল পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব মোঃ আতাহারুল ইসলাম গতকাল ইত্তেফাককে জানান, ‘সাময়িকভাবে হোটেলটি রূপসী বাংলা নামেই পরিচিত হবে।’ এর আগে দুটি বিকল্প নাম প্রস্তাব করে বিএসএল। পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত নাম নির্বাচনের জন্য তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠায়। বিএসএল ও মন্ত্রণালয়ের দেয়া ‘ঢাকা কন্টিনেন্টাল হোটেল’ এবং ‘ঢাকা হ্যারিটেজ হোটেল’ এর কোনটিই পছন্দ হয়নি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনি এমন একটি নামের পরামর্শ দেন যাতে দেশীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী সরকারি মালিকানাধীন অপর পাঁচ তারকা হোটেল সোনারগাঁও এর দৃষ্টান্ত টেনে আনেন। প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও এর মতো ঢাকা শেরাটনের নতুন নামটিও যেন পরবর্তী নামের সঙ্গে থাকে সে বিষয়েও নির্দেশনা দেন তিনি। সূত্র জানায়, ঢাকা শেরাটন হোটেল পরিচালনার জন্য বিএসএল এবং স্টারউড এশিয়া প্যাসিফিক হোটেলস এন্ড রিসোর্টস এর মধ্যে সম্পাদিত ব্যবস্থাপনা চুক্তির মেয়াদ আগামীকাল ৩০ এপ্রিল শেষ হবে। নতুন কোন আন্তর্জাতিক হোটেল ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত বিএসএল হোটেলটি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে। স্টারউডের কাছ থেকে শেরাটন হোটেলের ব্যবহূত সম্পদ ও দায় দেনা বুঝে নেয়ার জন্য একটি তত্ত্বাবধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (পর্যটন) জামাল হোসাইনকে আহবায়ক করে গঠিত এ কমিটি শেরাটনের দায়িত্ব হস্তান্তরের সাত দিনের মধ্যে হোটেলের ব্যবহূত সম্পদ ও দায়-দেনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেশ করবে। ঢাকা শেরাটন হোটেলের পরিচালক মাহফুজুর রহমানকে হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার আহমাদ বুখারী বিন হামজাহ এর নিকট থেকে সম্পদের দায়িত্ব কমিটির তত্ত্বাবধানে বুঝে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের প্রথম পাঁচ তারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ১৯৬৭ সালে চালু করা হয়। পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ) ও পাকিস্তানের একজন শিল্পপতি হোটেলটি গড়ে তোলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তা পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পরিণত হয়। স্টারউড হোটেলটি পরিচালনার দায়িত্ব নেয় ১৯৮৪ সালে। ওই সময় নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ঢাকা শেরাটন হোটেল। ২০ বছরের জন্য স্টারউডের সঙ্গে চুক্তি করা হলেও পরে তা দফায় দফায় বাড়ানো হয়। কিন্তু ৩০ এপ্রিলের পর তারা চুক্তির মেয়াদ আর বাড়াতে রাজি হয়নি। এদিকে হোটেল রূপসী বাংলার পক্ষ থেকে আগামীকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। |
|
| সর্বশেষ আপডেট ( বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০১১ ) |
| < পূর্বে | পরে > |
|---|