মূলপাতা arrow খবর arrow বিদেশ arrow এবার সৌদিতে গণতন্ত্রের ঢেউ!
এবার সৌদিতে গণতন্ত্রের ঢেউ! প্রিন্ট কর
নিউজ-বাংলা ডেস্ক   
সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১১
*আলজেরিয়া উত্তাল * ইয়েমেন জর্দান বাহরাইনে বিক্ষোভ

মিসরের পর গণতন্ত্রের ঢেউয়ের দোলা দেখা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম মুসলিম অধ্যুষিত দেশ সৌদি আরবে। দেশটিতে ইতি ঘটতে পারে রাজতন্ত্রের। বেশ কিছুদিন ধরে সৌদি আরবে রাজতন্ত্র থেকে বেরিয়ে এসে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছিলেন সুশীল সমাজের ব্যক্তিত্বরা। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শনিবার একটি রাজনৈতিক দলের উদ্ভব হয়েছে। দলটির নাম দেয়া হয়েছে ইসলামী উম্মাহ পার্টি। সৌদি আরবে এটিই প্রথম কোনো রাজনৈতিক দল। খবর বিবিসি, এপি, পিটিআই ও রেডিও তেহরানের।

শতাব্দীকাল ধরে সৌদি আরবে একটিমাত্র রাজপরিবারের সদস্যরা বংশানুক্রমে শাসন চালিয়ে এলেও এখানে কোনো সংসদ নেই। তবে একটি শূরা কাউন্সিল রয়েছে বাদশাকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য। সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য বিষয় হচ্ছে, কাউন্সিলের সদস্যদেরও নিযোগ দিয়ে থাকেন বাদশা নিজে। নবগঠিত দলের প্রতিষ্ঠাতারা মনে করেন, এত বড় একটি দেশের সরকার পরিচালনার জন্য একটি মাত্র শূরা কাউনিট্ল যথেষ্ট নয়। তারা চান এখানে একটি সংসদ থাকুক, যেখানে দেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। সংসদ সদস্যরা তুলে ধরবেন মানুষের সমস্যার কথা।

এদিকে সরকারি নিষেধাজ্ঞার পরও সৌদি আরবে প্রথম কোনো রাজনৈতিক দল গঠনের খবরে নড়েচড়ে বসেছেন দেশটির ক্ষমতাসীনেরা। কারণ তারা চান এক শতাব্দীর আগে যে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে দেশটিতে, তা যেন কোনোক্রমেই মুছে না যায়। বাদশা আবদুল্লাহ থেকে শুরু করে ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তি ও রাজপরিবারের কেউই এ ঘটনায় খুশি হতে পারেননি। বরং তারা মনে করছেন, এটি রাজপরিবারের ওপর চপেটাঘাত।

নতুন দল ইসলামি উম্মাহ পার্টিকে স্বীকৃতি দিতে বাদশা আবদুল্লাহর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠাতারা। সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী দেশটিতে রাজনৈতিক দল গঠন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে প্রতিষ্ঠাতারা জানিয়েছেন, তারা সরকারের উৎখাত এখনই চান না। তারা চান শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাজনৈতিক সংস্কার। আর এ লক্ষ্যেই দলটি গঠন করা হয়েছে। সুশীল সমাজের অনেক প্রতিনিধিই রয়েছেন প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে। আছেন আইনজীবী, অধ্যাপক, ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী। দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শাইখ মোহাম্মদ আল কাহতানি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তারা দলটি গঠন করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের নেজ্দ নামক জায়গা থেকে ১৯০২ সালে এক অতর্কিত আক্রমণে আল-রশীদ পরিবারকে পরাজিত করে আবদুল আজিজ বিন সাউদ রিয়াদ দখল করেন। অনেক চড়াই-উতরাইয়ের পর বেশ কিছু যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে ১৯৩২ সালে তিনি হেজাজ আর নেজ্দ একত্র করে কিংডম অব সৌদি অ্যারাবিয়া নাম দিয়ে দেশটি শাসন করা শুরু করেন। আবদুল আজিজ বিন সাউদের পর ক্ষমতায় আসেন তারই ছেলে কিং সউদ। ষাটের দশকের শুরুতে কিং সউদ ও তার সৎ ভাই ফয়সালের মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ১৯৬৪ সালে কিং সউদকে ক্ষমতাচ্যুত করে সিংহাসনে আরোহন করেন বাদশা ফয়সাল। ১৯৭৫ সালে বাদশা ফয়সাল আপন ভাইয়ের ছেলে ফয়সাল বিন মুসাইদের গুলিতে গুপ্তহত্যার শিকার হন। ক্ষমতায় আসেন কিং খালিদ। ১৯৮২ সালে উত্তরাধিকার সূত্রে ক্ষমতা পান কিং ফাহাদ। ২০০৫ সালে তার মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন প্রিন্স আবদুল্লাহ।

এদিকে তিউনিশিয়া ও মিসরে বিপ্লব সফল হওয়ার পর এবার আলজেরিয়ায় শুরু হয়েছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। দেশটির রাজধানী আলজিয়ারস ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ওরানে গতকাল হাজার হাজার মানুষ ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এ ঘটনায় বহু লোক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে কতজন আহত হয়েছেন তা জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে।

বিক্ষোভ দমন করতে আগের দিন থেকেই প্রায় ৩০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করে আলজেরিয়া সরকার। কিন্তু বিক্ষোভে এত বেশি মানুষ যোগ দেয় যে নিরাপত্তা বাহিনীকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয়। মিসরে মোবারক সরকারের পতনের পরপর গতকালই আলজেরিয়ার বিরোধী দলগুলো বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়। তবে গতকালের এ বিক্ষোভ সম্পর্কে বিরোধী দল কালচার অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরসিডি) এক নেতা জানান, এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পূর্বপরিকল্পিত নয়। বরং এটি ছিল স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। এদিকে বহির্বিশ্বের নেতারা মনে করছেন, তিউনিসিয়া ও মিসরে স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে জনতার বিজয় আলজেরিয়ার অধিবাসীদের উৎসাহিত করেছে। প্রসঙ্গত, দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে গতকাল মানুষ তা উপেক্ষা করে সেখানে বিক্ষোভ মিছিল করে। এর আগে গত মাসের ২২ তারিখ দেশটিতে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। ওই ঘটনায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন অন্তত পাঁচজন এবং আহত হন কমক্ষে ৮০০ মানুষ। এর আগে ১৯৯০ সালের সাধারণ নির্বাচনে ইসলামিক সালভেশন ফ্রন্ট বিপুল ভোটে জয়লাভ করলেও পাশ্চাত্য সমর্থিত দেশটির সেনাবাহিনী দলটিকে ক্ষমতায় যেতে দেয়নি।

সৌদি আরব ও আলজেরিয়া ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইয়েমেন, জর্দান ও বাহরাইনে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, মিসর হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ইন্টেলেকচুয়াল ক্যাপিটাল। মিসরে এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ফলে যেসব দেশে এখনো রাজতন্ত্র বিরাজমান, সেসব দেশে এই হাওয়া লাগাটা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, তিউনিশিয়ার পর স্বৈর সরকার উৎখাতে মিসরের এই গণবিস্ফোরণের কথা মানুষের মনে থাকবে বহুকাল। যেসব দেশে এখনো রাজতন্ত্র পতিষ্ঠিত, তারা যদি এখনই গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে না আসে, তবে গণবিস্ফোরণ থেকে রেহাই পাবে না তারাও।

সর্বশেষ আপডেট ( বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০১১ )
 

Add comment


Security code
Refresh

< পূর্বে   পরে >
Free Joomla Templates